পাহাড়ধসের কারণ সন্ধানী জাতীয় কমিটির রাঙামাটি সফর: সুপারিশমালা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন

370

আনোয়ার আল হক- ৪ জুলাই ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি:  পাহাড়ধস রোধে করণীয় সংক্রান্ত সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সহমত জরুরী বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় কমিটি। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য তিন জেলায় ভূমিধসের কারণ চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটি মঙ্গলবার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি পরিদর্শনে এসে এমন মন্তব্য করেন।

সফরকালে কমিটির আহ্বায়ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুপারিশ তৈরি করা হবে। এটি সাত দিনেও হতে পারে, ১৫ দিনের মধ্যেও হতে পারে। তবে এটা ধরে নেন, সাত মাস কিংবা ১৫ মাস গড়াবে না।’

২৭ সদস্যের এই কমিটি রাঙামাটি বান্দরবানসহ বিভিন্ন স্থানে গত ১৩ জুন সংঘটিত পাহাড়ধসের কারণ অনুসন্ধান এবং করণীয় নির্ধারণ করবে। রাঙামাটি আসার আগে কমিটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে একটি সভায় মিলিত হয়। এই সভাতেই সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সহমতের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় বলা হয় এর আগে গঠিত কমিটি ৩৬ দফা সুপারিশ প্রণয়ন করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সভায় সভাপতিত্ব করেন সত্যব্রত সাহা।

এই সভায় ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১২৭ জন মারা যাওয়ার পর গঠিত কমিটির ৩৬ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার সমালোচনা করেন বিভিন্ন বক্তা। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ওই সময় পাহাড়ধসের নানা কারণ চিহ্নিত করে ৩৬ দফা সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। আবার পাহাড়ধসের পর নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০০৭ সালে পাহাড়ধসের পর গঠিত তদন্ত কমিটিতে তিনিও সদস্য ছিলেন।

সভাপতি সত্যব্রত সাহা বলেন, ‘আমাদের কাছে ২০০৭ সালের যে সুপারিশনামা রয়েছে, সেটা আমাদের অনেক কাজে লাগবে। আমরা অকুস্থল পরিদর্শনের পর ভূমিধসের কারণ চিহ্নিত করে এ-সংক্রান্ত করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেব। আগে কী হয়েছে, কী হয়নি তা নিয়ে আমি ভাবব না। আমরা ভিকটিমসহ সবার সঙ্গে কথা বলব। আমি সবাইকে নিয়ে এর মূল কারণ খুঁজে বের করব।’

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অর্ধেন্দু শেখর রায় বলেন, ‘আমরা সুপারিশ নির্ধারণ করব। সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সহমত দরকার। আমরা কার্যকর প্রতিবেদন দেব।’ সভায় ইউএনডিপির রিকভারি অ্যাডভাইজর সেপা গিরি বলেন, পাহাড়ধস ঠেকানো এবং পাহাড়ে বসতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা দরকার। এ ছাড়া পাহাড়ধসের পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সৈয়দা সারোয়ার জাহান, জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল হক প্রমুখ সভায় তাদের মতামত তুলে ধরেন।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান