পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি নিশ্চিত করতে উন্নয়ন বোর্ডের নতুন প্রকল্প

657

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেছেন শীঘ্রই পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় নিরাপদ খাবার পানির অভাব ঘুচে যাবে। পাহাড়ি অঞ্চলে সুপেয় পানির দুষ্প্রাপ্যতা ঘোচাতে উন্নয়ন বোর্ড নতুন একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সম্ভাব্য সকল পাহাড়ি পল্লীতে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা যায়। চেয়ারম্যান জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষণা কার্য পরিচালনা করে পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যমান মৃতপ্রায় পানির উৎসগুলো পুনরুজ্জীবীত করা হবে। আর সেখান থেকে পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।

এ লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যেই ‘সেন্টার ফর এনভয়রেন্টম্যান্ট এন্ড জিওগ্রাফিক্স সার্ভিস’ (সিইজিআইএস) নামক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘পার্বত্যাঞ্চলে টেকসই জল সম্পদ পরিচালনায় জন্য পানির উৎস সনাক্তকরণ এবং পুনরুজ্জীবন’ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন বিশ্বজুড়েই পাহাড়ি অঞ্চলে সুপেয় পানির সঙ্কট রয়েছে, উন্নত দেশগুলো যে পদ্ধতিতে সুপেয় পানির চাহিদা পুরনে কাজ করেছে উন্নয়ন বোর্ড একই পদ্ধতি অনুসরনের চেষ্টা করবে।
রোববার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর ‘পরিচালনা বোর্ড’ সভায় সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে বোড সদস্যদের এই তথ্য জানান। উন্নয়ন বোর্ডের২০২০-২০২১ অর্থবছরের ১ম বোর্ড সভাটি রোববার রাঙামাটিস্থ প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভার আলোচ্য বিষয় ছিলঃ- গত ২১ জুন, ২০২০ তারিখেঅনুষ্ঠিত বোর্ড সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন এবং গৃহীত সিদ্ধান্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের জুন ২০২০ পর্যন্ত সময়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে উন্নয়ন সহায়তা কোড নং-২২১০০১১০০ ও ২২১০০০৯০০ এর প্রকল্প বাছাই ও অনুমোদন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের হালনাগাদ সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তহবিল সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বাজেট ২০২০-২০২১ অনুমোদন এবং বিবিধ আলোচনা।

সভা সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য সচিব ও সদস্য প্রশাসন আশীষ কুমার বড়ুয়া (যুগ্মসচিব)। সভার শুরুতে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অতঃপর তিনি বিগত বোর্ড সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। বিগত সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন না থাকায় তা দৃঢ়ীকরণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জুন ২০২০খ্রিঃ পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প/স্কিমের সার্বিক কর্মকান্ডের অগ্রগতি বিষয়ে উপস্থাপন করেন সদস্য বাস্তবায়ন মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ।

চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে করোনাকালিন সময়েও প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি ও বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত বৃক্ষরোপন কর্মসূচি সফল বাস্তবায়ন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড করোনাকালিন সময়েও পার্বত্য জনপদের উন্নয়নে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সভা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের জেটিঘাট নির্মান, তিন পার্বত্য জেলায় হেডম্যান কার্যালয় নির্মাণ ও পাড়াকেন্দ্র স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তহবিল বাজেট ২০২০-২০২১ অনুমোদন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন সহায়তা কোড নং-২২১০০০৯০০ এর আওতায় প্রকল্প বাছাই নিয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং কোড নং-২২১০০১১০০ এর আওতায় প্রকল্প/স্কিমের বাছাইকৃত তালিকা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাংগঠিক কাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব মোঃ নূরুল আলম নিজামী (অতিঃসচিব), সদস্য সচিব ও সদস্য প্রশাসন আশীষ কুমার বড়ুয়া (যুগ্মসচিব), সদস্য পরিকল্পনা ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী (উপসচিব), রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপ-প্রধান কাজী মোখলেছুর রহমান, খাগড়াছড়ির ডিসি প্রতাপ চন্দ্র বিশ^াস, বোর্ডে সদস্য-বাস্তবায়ন জনাব মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ (উপসচিব), রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাঃ আশরাফুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা, উন্নয়ন বোর্ডের কমলা ও মিশ্র ফসল চাষ প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রকৌশলী মুজিবুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।