পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব ঘিরে জেলা পরিষদের বর্ণাঢ্য র‌্যালী

168

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥ সকল প্রকার মতভেদ ভূলে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বৈশাখি উৎসবে মাতার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু এমপি। তিনি বলেন, পুরাতন বছরের গ্লানী ভুলে বাংলা নতুন বছরে সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো। তিনি উল্লেখ করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু আর বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পাহাড়ে এখন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ের প্রতিটি পল্লিতে বর্ষ বিদায় ঘিরে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মেতে উঠেছে আনন্দ উৎসবে। এই উৎসব মানুষের মাঝে যে ভ্রাতৃত্ববোধের সৃষ্টি করে তার আরো ছড়িয়ে দিতে হবে সমাজে এবং রাজনীতিতে। তাহলেই এলাকায় শান্তি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ বৃদ্ধি পাবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর এতিহ্যের ধারক বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিসু, বিহু এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলা পরিষদের আয়োজনে বুধবার সকালে র‌্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু এসব কথা বলেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে রাঙামাটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গন থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রাদক্ষিণ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শহিদুল্ল¬াহ, পরিষদ সদস্য হাজী মুছা মাতব্বর, লুসাই সম্প্রদায়ের লালচেওয়া লিয়ানা, তঞ্চ্যাঙ্গা সম্প্রদায়ের দয়ারাম তঞ্চ্যাঙ্গা, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সাগরিকা রোয়াসা, মার্মা সম্প্রদায়ের অংশেপ্র“ চৌধুরী এবং চাকমা সম্প্রদায়ের পক্ষে চাঁদ রায় বক্তব্য রাখেন।

চিনু এমপি তার বক্তব্যে আরো বলেন, সংস্কৃতি প্রতিটি জাতি স্বত্তার পরিচয় বহন করে। সংস্কৃতি ছাড়া কোনো জাতির পরিচয় পাওয়া যায় না। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ। সবাই এক সাথে মিলে মিশে নববর্ষ উৎযাপন করুন এবং অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলুন। এ অঞ্চলে শান্তি থাকলে একদিকে যেমন আমাদের সংস্কৃতি বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা সম্ভব হবে অন্যদিকে অঞ্চলের সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। কারণ আমাদের রয়েছে বৈচিত্রময় নানান জাতির বসবাস ও বহু সংস্কৃতির মিলন মেলা। তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠির বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি নির্ভর পার্বত্যবাসী এবার সম্মিলিতভাবে সার্বজনিন উৎসব পালন করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন। তাই সকলেই এবার উৎসবমূখর পরিবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা সারাদেশে বৈশাখী উৎসব পালন করতে পারবে নির্দিধায়। বুধবার রাঙামাটিতে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালী পরবর্তী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফিরোজা বেগম চিনু এসব কথা বলেন। পরে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। উল্লেখ্য আগামী ১২ এপ্রিল নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে বৈসাবী উৎসব শুরু হবে।