পাহাড়ের চার হাজার প্রান্তিক নারীর জন্য স্বপ্নের সিড়ি খুলে দিল উন্নয়ন বোর্ড

163

॥ বিশেষ প্রতিনিধি ॥

পার্বত্য চট্টগ্রামে অনাবাদী বা পতিত পড়ে আছে কয়েক হাজার একর জমি। পক্ষান্তরে জুমচাষের জমিগুলো থেকে এখন আর কাক্সক্ষীত ফসল ঘরে তুলতে না পেরে দারুণ অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছে পাহাড়ের অসংখ্য পরিবার; তাদের নেই কোনো কর্মসংস্থানও।

অব্যবহৃত এসব পাহাড়ি জমিতে উন্নত প্রযুক্তির বাঁশ চাষের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলার চার হাজারের অধিক প্রান্তিক নারীর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পাহাড়ের আর্থ সামাজিক উন্নযনসহ তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। তিন পার্বত্য জেলার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আয়বর্ধক কর্মসূচী হিসাবে ‘উন্নত জাতের বাঁশ উৎপাদন প্রকল্প’ নামে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২৩ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অ্ঞ্চলে বাঁশ চাষের উন্নয়ন এবং বাঁশ চাষের আওতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এর পাশাপাশি বাঁশ বাগান সৃজনের মাধ্যমে মাটির ক্ষয় রোধ এবং পাহাড় এবং ভূমিধ্বসও রোধ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প পরিচালক পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য মো: শাহিনুল ইসলাম জানান, এ প্রকল্প নেওয়ার আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঁশ চাষের সম্ভাবনার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। এখানকার মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশ বাঁশ চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। তাছাড়া এখানে উৎপাদিত বাঁশের চাহিদাও ব্যাপক। সেই বিবেচনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার নির্দেশে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পেপর সুবিধাভোগী হিসাবে এখানকার নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক- প্রকল্পের কাক্সিক্ষত উদ্দেশ্যের বিষয়ে জানান, প্রকল্পের আওতায় আমরা আশা করি তিন পার্বত্য জেলায় ১৩০০০ বাঁশ বাগান সৃজন করা যাবে। এর ফলে সৃজিত বাঁশ বাগানের বাঁশ বিক্রি করে বাঁশ চাষীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে। পাশাপাশি এসব বাঁশকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০ টি করে বাঁশ ভিত্তিক ক্ষুদ্র কুটির শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় উপকার ভোগীদের বাঁশ চাষ পদ্ধতি এবং ব্যবস্থাপনার উপর প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রমের পাশাপাশি উপকারভোগীদের প্রত্যেককে ৫ প্রজাতির ২৮ লক্ষ ৬০ হাজারটি বাঁশের চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের উপকার ভোগী কয়েকজন মহিলা জানান, আমাদের নিজস্ব অনেক অনাবাদী পাহাড় রয়ে গেছে যেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব জায়গায় বাঁশ চাষ করে জমি গুলোকে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে পারছি। তারা জানান এর মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন বলে আশা বাদ ব্যক্ত করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বাঁশ প্রকল্পের বিষয়ে জানান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এখন বিভিন্ন আর্থ সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলার প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মিশ্র ফল চাষ প্রকল্পরে সফলতা এখানকার জনগনের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এখানে বাঁশ চাষের সম্ভাবনার বিষয়টি গবেষণায় উঠে আসার পর আমরা পাইলট প্রকল্প হিসাবে ছোট পরিসরে এই বাঁশ চাষ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। এখানে সফলতা আসলে ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো হবে।