পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাহিত্য-সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে

232

॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাহিত্য সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই পার্বত্যঞ্চলের শিল্প-সংষ্কৃতির উন্নয়নে জেলা পরিষদগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদূর ঊশৈচিং এমপি।

তিনি বলেন, পাহাড়ের পিছিয়ে থাকা এই জনপদের কিছু আলোকিত মানুষের নিরলস পরিশ্রমের কারণে পার্বত্য সংস্কৃতি আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এ অঞ্চলের সংস্কৃতির বিকাশে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।

তাই বেঁচে থাকা অবস্থায়ই এমন কিছু গুণীব্যাক্তিকে সম্মাননা প্রদান করে রাঙামাটি জেলা পরিষদ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই দৃষ্টান্ত আগামী দিনে সাহিত্য সাংস্কৃতির বিকাশ ও ক্রীড়ার উন্নয়নে উৎসাহীদের প্রেরণা যোগাবে।

রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমীর গুণীজন সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদূর ঊশৈচিং এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, জেলা পরিষদের সদস্য মনোয়ারা জাহান আক্তার।

বীর বাহাদুর বলেন, যে জাতি গুনীজনদের সম্মান দেয়না তারা কখনোই সম্মানিত হতে পারেনা, দেশও এগোতে পারেনা।  তিনি সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বিকাশে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমির নতুন ভবন নির্মাণে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের সাথে পার্বত্য মন্ত্রনালয় থেকে যোগাযোগ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলার ক্রীড়াঙ্গণের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে রাঙামাটি জেলা ফুটবল লীগ শুরুর জন্য ১০লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেওয়ার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, পাহাড়ের গুনীজনদের খুঁেজ বের করে শিল্পকলা একাডেমি ও পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্মাননা জানিয়ে তারা নিজেরাই সম্মানিত হয়েছেন। এতোদিন ধরে নিরবে নিভৃতে যারা কাজ করে গেছেন সেই আলোকিত মানুষগুলো পাহাড়ের সাহিত্য সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

তারা আজ যে স্বীকৃতি পেয়েছেন তাতে পাহাড়ের বসবাসরত সকল অধিবাসী আন্দন্দিত ও গর্বীত। তিনি গুণী ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, পাহাড়ের সংস্কৃতিকে যারা লালন করে চলেছেন  তাদের সম্মানিত করা নৈতিক দায়িত্ব। সে অনুভব থেকে জেলা পরিষদ সম্মাননা প্রদানে শিল্পকলা একাডেমিকে সহায়তা করেছে।

তিনি বলেন, মানুষ সবসময় তার কর্মের স্বীকৃতি প্র্রত্যাশা করে। আর সে স্বীকৃতি তাকে সামনে অগ্রসর করে, উদ্দ্যেমি করে নতুন কাজের প্রেরণা যোগায়। তিনি বলেন এই স্বীকৃতি মধ্য দিয়ে সম্মাননা প্রাপ্ত প্রত্যেক গুণীজন তাদের দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের বিনিময়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পাহাড়ের শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অসমান্য অবদান রাখায় স্বীকৃতিস্বরূপ রাঙামাটির এই ১০জন গুণী জনকে সম্মাননা পদক দেয় রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমী। এবারের ২০১৫এর সম্মননা প্রাপ্ত গুণীজদের মধ্যে চারুকলায় রতিকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা, যাত্রা শিল্পে নন্দ রাণী চাকমা, কন্ঠ সংগীতে ফনীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, নৃত্যকলায় হুমায়ুন কবীর, যন্ত্র শিল্পে ধারশ মনি চাকমা ও ২০১৬এর সম্মননা প্রাপ্ত গুনীজনদের মধ্যে লোকসংস্কৃতিতে আনন্দলতা চাকমা, আবৃত্তিতে অঞ্জুলিকা খীসা, কন্ঠ সংগীতে অমর শান্তি চাকমা, নাট্যকলায় ঝিমিত ঝিমিত চাকমা ও যন্ত্র শিল্পে ঝুলন দত্তকে সম্মননা প্রদান করা হয়েছে।

প্রধান অতিথি পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং অনষ্ঠানে গুণী ব্যক্তিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। সম্মাননা স্মারকের পাশাপাশি প্রত্যেককে জেলা পরিষদ হতে ১০হাজার ও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫হাজার নিয়ে মোট ৩৫হাজার টাকার প্রাইজ মানি প্রদান করা হয়। শেষে স্থানীয় নৃত্য ও সংগীত শিল্পীদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিথিরা।