প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় পাহাড়ের উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা: নিখিল কুমার চাকমা

344

॥ মেহেদী ইমাম ॥

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্যবাসীর উন্নয়নে আন্তরিক বলেই গত একযুগে পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানে আমুল পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একটি চোখ সব সময় পার্বত্য উন্নয়নের দিকে থাকে। তিনি পাহাড়ের মানুষকে ভালোবাসেন বলে নিজেই খুঁজে বের করেন; কোন কোন খাতে কিভাবে উন্নয়ন করতে হবে। যে কারণে তার ক্ষমতার সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সকল ধরণের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড তিন জেলার সকল দুর্গম অঞ্চলগুলোকে উন্নয়নের আলোয় আলোকিত করে যাচ্ছে। আর উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করতে বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক প্রকল্প হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আর পিছিয়ে পড়া অঞ্চল থাকবে না।

রোববার (১৫ মে) সকালে রাঙামাটি নানিয়ারচর উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ৫ কোটি টাকার ৬টি উন্নয়ন কাজের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপনকালে উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান এমন মন্তব্য করেন।

এসব উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে নানিয়ারচর শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দিরের ভবন, নানিয়ারচর সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন সম্প্রসারন, টিএনটি বাজার হতে কল্যাণ পাড়া পর্যন্ত সড়ক নির্মান, রতœাংকুর বনবিহারের অফিস কাম অতিথি ভবন নির্মান, নানিয়ারচর পাতাছড়ি বড়পুল পাড়া হতে শংখোলাপাড়া সুশীল চাকমার টিলা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ এবং বড়পুল পাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ।

উন্নয়ন কাজের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপনকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা আরো বলেন, পাহাড়বাসীর জীবন মানোন্নয়ন ও দূর্গমতা দুর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম দুর্গম এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি ও সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার গুলোর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে তিন পার্বত্য জেলার দূর্গম পাহাড়ের আর কোথাও অনুন্নত থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ইলিপন চাকমা, নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফজলুর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোার্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা, নানিয়ারচর থানার ওসি সুজন হালদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সহকারী প্রকৌশলী মোঃ খোরশেদ আলম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসান মোঃ নোমান, নানিয়ারচর ইউপি চেয়ারম্যান বাপ্পী চাকমাসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন হওয়ায় খুশি হয়েছেন নানিয়ারচরের বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারের উন্নয়নমূলক এসব কাজ জনমনে শান্তি আনবে বলেও দাবি করেন তারা। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বাপ্পি চাকমা বলেন, কল্যাণপাড়া ও শনখোলা পাড়া সড়ক উন্নয়নে এলাকাবাসী খুব উপকৃত হবেন। এলাকার কৃষিজাত পণ্য বাজারজাত করনের পাশাপাশি এলাকাবাসী শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াত সুবিধা পাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাহাড় উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ও উন্নয়ন চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান এই জনপ্রতিনিধি।