প্রসঙ্গঃ সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল

216


মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন- ১৭ আগস্ট ২০১৭, দৈনিক রাঙামাট: সম্প্রতি মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করেছেন। প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রীম কোর্টের ৭ জন বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে এ রায়টি প্রদান করেন। ১০ জন অ্যামিকাস কিউরির মধ্যে ৭ জন এ রায়টির পক্ষে মতামত দিয়েছেন। পাকিস্তান শাসনামলের আইয়ুবী দশকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় নৈতিকতার কারণে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের দায়িত্ব পার্লামেন্টের উপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৫ মার্চ ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় এ দায়িত্ব পুনরায় রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত হলো। পরবর্তীতে মে. জে. জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তিনি এ ধারা অব্যাহত রেখে বিচারপতিদের অপসারণের রূপরেখা হিসেবে সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের নীতিমালা প্রবর্তন করলেন। পরবর্তীতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকার থেকে শুরু করে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার ৯ম সংসদ এ ধারা অব্যাহত রাখেন। ১০ম সংসদে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় ১৯৭২-৭৫ সময়ের ন্যায় বিচারপতি অপসারণের দায়িত্ব পুনরায় পার্লামেন্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত করেন।

সম্ভবতঃ বর্তমানে মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার কারণে বিচারপতিদের অপসারণের দায়িত্ব পার্লামেন্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত করেন। সুপ্রীম কোর্টের সম্মানিত ও বিজ্ঞ বিচারপতিগণ সম্ভবতঃ বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে সংবিধান পরিপন্থী আখ্যায়িত করে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে বিচারপতিদের অপসারণের দায়িত্ব সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত করেন।

সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের রূপরেখায় যদি কোন দুর্বলতা থাকে আইনের ব্যত্যায় না ঘটলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধান বিচারপতির সাথে আলোচনা করে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের মাধ্যমে সংশোধন করতে পারেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে যদি কোন অপ্রাসঙ্গিক বিষয় আছে বলে ধারণা জন্মায় সেক্ষেত্রে তা এক্সপাঞ্জ চেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার সুপ্রীম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে রিভিউ পিটিশন দাখিল করতে পারেন।

আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা শেরে-বাংলা এ.কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পাকিস্তান বিরোধী রাজনীতির ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও অন্যান্য জাতীয় নেতাদের আহ্বানে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রবাসী সরকারের আওতাধীন ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলার জনগণের সহযোগিতায় পাকিস্তান সশস্ত্রবাহিনীর বাঙালী সেনা কর্মকর্তাবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ, বাঙালী ইপিআর কর্মকর্তাবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ, বাঙালী পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দসহ ২ লাখের অধিক মুক্তিযোদ্ধা (ছাত্র, যুবক, কৃষক-শ্রমিক প্রমূখ) পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ (সশস্ত্র সংগ্রাম) করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন।

আমরা মনে করি, আইনসভা (পার্লামেন্ট), নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ জনগণের নিকট দায়বদ্ধ থেকেই দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে যাবেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নিরুৎসাহিত হওয়ার কোন কারণ নেই। তেমনি বিএনপি-রও অতীব উৎসাহিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ- দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে অধিকাংশ বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কতটা দেশপ্রেম নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন তা দেশের জনগণ ভালভাবেই অবগত আছেন, ।

লেখক- সভাপতি, বেঙ্গল জাতীয় কংগ্রেস (বিজেসি) ও
জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।