ফাগুনের আগুনে সর্বস্বান্ত হল কাঠালতলীর ২০ পরিবার

125

॥ মনু মার্মা ॥

রাঙ্গামাটি শহরের কাঠালতলী এলাকার মসজিদ কলোনীতে আকস্মিক এক অগ্নিকান্ডে অন্তত ২০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উক্ত এলাকার আশেপাশে সব কাঁচা ঘর হওয়ায় ফাগুনের তাপদাহে মুহূর্তেই আগুন বসতবাড়িগুলো গ্রাস করে নেয়। শনিবার (০৬ মার্চ) দুপুর দেড় টায় এ ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকান্ডের সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হলেও ফায়ার সার্ভিসের আসতে দেরি দেখে স্থানীয়রা যে যার মত আগুন নেভানোর কাজে নেমে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে স্থানীয়দের সাথে যোগ দেয় এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় দেড় ঘন্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট।

প্রত্যক্ষদর্শী শাহ আলম জানান, আগুন কিভাবে লেগেছে জানি না। তবে আমাদের সব ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাৎক্ষনিকভাবে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় কোনো কিছু রক্ষা করতে পারিনি। আমরা রাস্তায় বসে গেছি।

স্থানীয়রা জানান, আগুনের সূত্রপাত কি ভাবে হয়েছে জানা নেই। আনুমানিক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ বলেন, প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সাংবাদিক শফিকুর রহমান, স্থানীয় অধিবাসী ইলিয়াস সওদাগর এবং রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলাম জানান, আগুনে ২০ থেকে ২৫ টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের মালিকদের মধ্যে আবুল হাশেম মিস্ত্রি, মমিনুল হক, আলী আহমদ ড্রাইভার, বদিউল আলম, আব্দুল হক, নুরু ও শাহ আলমের নাম জানা গেছে। এসব ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে ২০ থেকে ২৫ টি পরিবার বসবাস করে আসছে।

এদিকে আগুন নেভানোর সময় জাবেদ (৩৮) এবং তাজুল ইসলাম (২৬) নামে দুই জন আহত হয়। তাদের রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রাঙ্গামাটির নব নিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো: মিজানুর রহমান ও রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান।