বরকলে ছাত্রলীগ কর্মীকে ছাত্রদলের সদস্য সচিব করার অভিযোগ

517

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শাখার আওতাধীন বরকল উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মো. সুমন মিয়া নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী দাবী করেছেন। সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত অভিযোগে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সুমন। এদিকে সে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে, আমাকে না জানিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের কমিটিতে সদস্য সচিব করা হয়। আমি তখন বিষয়টি আমলে নেই নাই। কিন্তু গত ২৬ নভেম্বর আমার নাম স্বাক্ষর ব্যবহার করে বরকল উপজেলার সকল ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর গত ২০ ডিসেম্বর ছাত্রদলের ভূষণছড়া, সুবলং, বরকল সদর ও আইমছড়া ইউনিয়ন কমিটিও আমার নাম স্বাক্ষর ব্যবহার করে অনুমোদন দেওয়া হয়। আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের একজন কর্মী। এতে করে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বরকল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. বেলালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মো. সুমন মিয়া বরকল উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। আমাদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করার জন্য ছাত্রদলের এ কাজ করেছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন- গত ২০ ডিসেম্বর ছাত্রদল যে সকল ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করেছে তাতে ছাত্রলীগের কর্মীদের নাম দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগ কি ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে দীর্ঘদিন যাবৎ ছাত্রলীগের সম্মেলন না হওয়ায় আমাদের অসংখ্য কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাদের কোন পদ নেই। আর এ সুযোগটাই ছাত্রদল নিয়েছে। তারা তাদের দলকে শক্তিশালী করতে কমিটি করবে তা ভাল কথা কিন্তু আমাদের কর্মী দিয়ে কেন? তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র ভূষণছড়া ইউনিয়ন কমিটিতেই

(মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ সোহেল, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ আল আমিন, মোঃ জুয়েল) সহ
১৭জন ছাত্রলীগ কর্মীর নাম রয়েছে। আমরা শিঘ্রই বরকল উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আর ছাত্রদল যে ঘৃণ্য কাজটি করেছে এবিষয়ে সিনিয়রদের থেকে পরামর্শ নিয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
অপরদিকে বরকল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইব্রাহীমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বরকল উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. সুমন মিয়া বিএনপি পরিবারের সদস্য তার পিতা মো. সাইফুল ইসলাম বরকল উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি। সে ছাত্রদলের কর্মী এবং তার সাথে যোগাযোগ করেই তাকে সদস্য সচিব রাখা হয়েছে। স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৬ নভেম্বর দেওয়া বিজ্ঞপ্তি ও সকল ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদনে মো. সুমন মিয়া নিজে স্বাক্ষর করেছে। আমরা তার স্বাক্ষর জাল করিনি। আর ছাত্রলীগের কর্মী দিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন আমরা ছাত্রদলের কর্মী দিয়েই কমিটি করেছি ৩জন ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় অব্যাহতি দিয়েছি। সুমন চাইলে অব্যাহতি নিতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য জেলা ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং বরকল উপজেলা সাংগঠনিক টিমের সদস্য আব্দুল আউয়াল লিটন জানান, বরকল উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. সুমন মিয়া ছাত্রদলের কর্মী তার সাথে যোগাযোগ করেই তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে, সে ছবি, সার্টিফিকেট সহ ছাত্রদলের ফরম পূরণ করেছে। ছাত্রলীগ কর্মী দিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে বলেন, যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে তারা সবাই ছাত্রদলের কর্মী। আর একই নামের মানুষতো কয়েকজন থাকতে পারে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে যাদের উনারা নিজেদের কর্মী ভাবছেন তাদের নাম আর পিতার নাম যদি আমাদের দেয় তাহলে আমরা মিলিয়ে দেখবো। যদি ছাত্রলীগের কোন কর্মী আমাদের কমিটিতে থেকে থাকে আমারা অব্যাহতি দিয়ে দিব।
উল্লেখ্য- স্বাক্ষরের বিষয়ে মো. সুমন মিয়া বরকল ছাত্রদলের ১নেতার সাথে মোবাইলে কথা বলার রেকর্ড প্রমাণ সরূপ প্রদান করেছে। যাতে উল্লেখ আছে সুমন কমিটির অনুমোদনের কাগজ ও বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেনি। কিন্তু ছবি ও সার্টিফিকেট সহ ছাত্রদলের ফরম পূরণের বিষয়ে জানতে চাইলে সুমন বলেছে সে ফরম পূরণ করেনি।