বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাঙামাটিতে পালিত যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী 

36

॥ শাহ আলম ॥
রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর বলেছেন, দলে গ্রুপিং-কোন্দল রাজনীতিতে নেতৃত্বকে ধ্বংস করে দেয়, ঐক্যে ফাঁটল ধরায়। এতে দলের ক্ষতি হয় বেশি। তাই গ্রুপিং বন্ধ করে সবাইকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নে শামিল হতে হবে। এছাড়াও আমরা ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিজেদের মধ্যে কাদা ছুড়াছুড়ি দেখতে পায়। এটি কারো কাম্য নয়। আমরা ফেইসবুকের রাজনীতি দেখতে চাই না, মাঠের রাজনীতি দেখতে চাই। পার্বত্য অঞ্চলের পুরোনো ঐতিহ্যে নিয়ে ফিরিয়ে আনতে চাই।

রাঙামাটিতে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জেলা যুবলীগের আয়োজনে আয়োজিত আলোচনা সভা প্রধান অতিথি তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, সমতলে ন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি ভিন্ন। পার্বত্য অঞ্চলে আমাদের অনেক বাধা বিপত্তি কাটিয়ে রাজনীতি করতে হয়। পাহাড়ে চারটি অবৈধ অস্ত্রধারী আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে। প্রতিনিয়ত তাদের সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে রাজনীতি করতে হয়। তাই পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে তথা আওয়ামীলগের রাজনীতিতে কোন গ্রুপিং রাখা রাখা যাবে না। তাই সকল নেতাকর্মীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তি করার লক্ষে গ্রুপিং বাদ দিয়ে সামনের পৌরসভা ও ইউনিযন পরিষদের প্রত্যেকটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে “জনগণের ক্ষমতায়নে যুব সমাজ হও বলিয়ান” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ বুধবার (১১ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় রাঙামাটিতে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী যুবলীগ।

এসময় রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজলের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ মুছা মাতাব্বর। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জমির উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক রফিক আহমেদ তালুকদার, প্রচার সম্পাদক মমতাজুল হক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রফিকুল মাওলা, জেলা ওলামা লীগের সভাপতি কারি ওসমান গনী, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মুজিবুর রহমান মুজিব, রাঙামাটি জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাওয়াল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাজাহান, মহস্যজিবী লীগের সভাপতি উদয়ন বড়ুয়া, জেলা কৃষকরীগের সাধারণ উদয় শংকর চাকমা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভায় আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, “শেখ হাসিনা উন্নয়নের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক। বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আছেন বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। তার হাত ধরেই স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্র চক্রান্ত মোকাবিলা করেই বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগামে এখনো অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি কমেনি। এখনো প্রচুর অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে রয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত পাহাড়ে খুন, হত্যা, গুমসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এখনই প্রশাসনের উচিত হবে কালবিলম্ব না করে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো। সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ধ্বংসে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর জোড় দাবি জানানো হয়।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আদলে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে যুবলীগ আজ দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

এর আগে যুবলীগ এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহিদ শেখ ফজলুল হক মণিসহ ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

প্রসঙ্গতঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক যুব কনভেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সংগঠনটি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আদলে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় এ সংগঠন। গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে যুবলীগ আজ দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।