বাঘাইছড়ির পৌর এলাকায় সড়ক উপ-সড়কের বেহাল দশা ॥ বাড়েনি নাগরিক সেবার মান

82

॥ সোহরাওয়ার্দী সাব্বির ॥

পিছিয়ে পড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় জেলা সদরের পর একমাত্র পৌরসভা বাঘাইছড়ি। নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সীমান্তবর্তী এই উপজেলা সদরকে পৌরসভা ঘোষণা করা হলেও প্রায় দেড়যুগেও বাড়েনি নাগরিক সেবার মান। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই পৌরসভার মানুষ এখনও প্রত্যন্তই রয়ে গেছে। ভাঙ্গাচোরা, খানাখন্দ আর কাদা পানিতে একাকার বাঘাইছড়ি পৌর এলাকার প্রধান সড়কসহ উপ-সড়কগুলোর। চলাচলের প্রায় অযোগ্য এ সব সড়কে প্রতিনিয়তই স্থানীয়দের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ পৌরবাসী।

বাঘাইছড়ি পৌর এলাকার চৌমুহনী শাপলা চত্তর মোড় সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক। পৌরসভার অভ্যন্তরীণ জনবহুল এই সড়কগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। প্রতিদিনই এই সড়কগুলোতে চলাচল করে কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘ দিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল দশা এই উপজেলার সড়ক গুলোর । স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জনপ্রতিনিধি আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধর্ণা দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।

ভাঙ্গা সড়কের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাঘাইছড়ি পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, উপ-সড়কের কিছু অংশের বর্তমান অবস্থা এতই খারাপ যে, যানবাহন চলাচলতো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাচলও কষ্টসাধ্য ।

অথচ মেয়র বলছেন, বিগত ৫ বছরের প্রায় ৮০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে। বতর্মানে ৬ কোটি টাকার সড়ক মেরামত কাজ চলমান । আর কয়েক মাসের মধ্যে উপজেলার পৌর এলাকার সকল সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। যে সমস্ত সড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে তা দ্রুত সংস্কার করা হবে বলে জানান মেয়র জাফর আলী খান।

কিন্তু নাগরিকদের প্রশ্ন এতো টাকার উন্নয়ন কোথায় গেলো ? দৃশ্যমান বিড়ম্বনার এই অভিযোগের বিপরীতে শুধুর টাকার অংক শোনানো কি পরিহাস নয়?

স্থানীয় সচেতন মহল, শিক্ষক, ছাত্রনেতা এমনকি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও বলছেন বাঘাইছড়ি পৌর পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর পার হলেও মেয়র এবং কাউন্সিলরেরা পূরণ করতে পারেননি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি। পাচঁ বছরে ত্রাণ বিতরণ এবং নিয়মিত কিছু কাজ ছাড়া মেয়র-কাউন্সিলররা পৌরবাসীর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোন অবদান রাখতে পারেননি বলে অভিযোগ বাঘাইছড়িবাসীর। অবকাঠামোগত উন্নয়নেও পিছিয়ে রয়েছে রাঙামাটির এই বাঘাইছড়ি উপজেলা। এ নিয়ে জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ।

সরেজমিনে দেখা গেছে বাঘাইছড়ি পৌরসভার কাচালং ব্রীজ সংলগ্ন চৌমুহনীর শাপলা চত্তর এলাকার মূল সড়ক, বাঘাইছড়ি কাচালং ডিগ্রী কলেজ রোড় , উগলছড়ি -বটতলীর যাতায়াতের মূল সড়ক , উপজেলা বাজারসহ আরও কয়েকটি এলাকা নিয়ে এই উপজেলার পৌর এলাকার প্রায় সকল যাতায়াত ব্যবস্থার একই অবস্থা ।

উপজেলা বাজার হতে চৌমুনি শাপলা চত্তর হয়ে বাঘাইছড়ি কাচালং ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত সড়কটি চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টি হলে পানি এসে অস্থিত্ব বিলীন হয় রাস্তার। বৃষ্টি না হলেও গর্তে ২৪ ঘন্টায় পানি জমে থাকে। ফলে সীমাহীন কষ্ট নিয়ে কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী সহ সাধারণ পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। বিগত ৪ বছরে বৃহত্তর এই উপজেলার পৌর এলাকার উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি তেমন কোনো যাতায়াত ব্যবস্থায়।

সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বাঘাইছড়ি উপজেলার উগলছড়ি – বটতলীর যাতায়াতের মূল সড়কের। সড়কটির উপর বিগত ৫ বছর ধরে হালকা ভারি যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। কার্পেটিং উঠে গিয়ে মুছে যাচ্ছে সড়কের চিহ্ন। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। কিছু কিছু স্থানে রাস্তার এমন নাজুক অবস্থা তা দিয়ে পায়ে হেটে যেতে ও কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। দেখলে মনে হয় এখানে সড়ক ছিল অর্ধশত বছর আগে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। এতে সীমাহীন কষ্ট নিয়ে করতে হয় চলাচল।

উপজেলা বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, বাঘাইছড়ির প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র উপজেলা বাজার । কিন্তু, সড়কের এ চিত্র দেখলেই বোঝা যায়, আমরা কী দুর্ভোগের মধ্যে আছি। বৃষ্টি হলেই বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, সব সমস্যার সমাধান আছে। এটিও চিরস্থায়ী সমস্যা নয়। মূলত দায়িত্বশীলদের মধ্যে আন্তরিকতার অভাবেই এর সমাধান হচ্ছে না।

অন্য আর এক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানকার সড়কের অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে চলাচলে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে পথচারিদের।

এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আমরা পুরোপুরি অসহায়, উপজেলার পৌর এলাকার ভেতরের রাস্তাগুলো সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কোনো এক অজানা কারনে তা শুরু হচ্ছে না। রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়ত করে, প্রায়ই অনেক মালবাহী পিকআপ, সিএনজি, অটোরিকশাসহ আরো অনেক গাড়ি যাতায়াত করে এ রাস্তা গুলো দিয়ে ভোগান্তির পাশাপাশি দুঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। পৌরবাসীর প্রশ্ন এই অবস্থার উত্তরণ কবে হবে?