বাঘাইছড়ি পৌর নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন নৌকার প্রার্থী জাফর আলী খান বিজয়ী

476

॥ আলমগীর মানিক ॥

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ওই পৌরসভার ২য় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জাফর আলী খান বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। এ পৌরসভার ৯ টি কেন্দ্রের মধ্যে সকল কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে নৌকার প্রার্থী জাফর আলী খান ৩ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান আজিজ (মোবাইল প্রতীক)  পেয়েছেন ২ হাজার ২২৭ ভোট। এদিকে এই পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ওমর আলী পেয়েছেন ১ হাজার ৭৯৮ ভোট। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী জাফর আলী খান তার নিকটতম প্রার্থী থেকে ১ হাজার ৫৭১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।

রাঙামাটি জেলায় মোট দুইটি পৌরসভার মধ্যে বাঘাইছড়ি একটি। এই পৌরসভায় এর আগে একবারই নির্বাচিত পরিষদ ছিল, সে হিসেবে এই নির্বাচন ছিল দ্বিাতীয়বারের মতো। বাঘাইছড়ি পৌরসভার এই নির্বাচন দ্বিতীয় হলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে এটিই প্রথম নির্বাচন। সে হিসেবে প্রথম মিশন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছে নতুন নির্বাচন কমিশন।

শনিবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। ৪টার পরপরই শুরু হয় ভোট গণনা। ভোটগ্রহণকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি কোনো অভিযোগ করেননি প্রার্থীরা। নির্বাচনে গড়ে প্রায় ৭০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে জানান, নির্বাচনী কর্মকর্তাগণ। ভোটগ্রহণকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাফর আলী খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান আজিজ দুপুরে ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে চলছে বলে স্বীকার বলেন, জয়ের ব্যাপারে উভয়েই আশাবাদী এবং নির্বাচনী পরবর্তী ফলাফলও মেনে নেবেন তারা। তবে সকালের দিকে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে বহিরাগত লোক নিয়ে আসার অভিযোগ করেন। এদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. ওমর আলীও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

সকাল থেকে নিজ নিজ কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন ভোটাররা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। অবাধে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভোটাররা।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে পৌরসভা ঘোষণা করা হলেও প্রথমে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। প্রায় সাত বছর পর ২০১১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আলমগীর কবীর। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দিলেও পারিবারিক কারণে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছেন। মেয়র পদে এবার তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগের জাফর আলী খান, বিএনপির ওমর আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান আজিজ। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলরের নয়টি পদের জন্য ২৫ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের তিনটি পদের জন্য ছয় জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পৌরসভাটিতে মোট ভোটার ১০ হাজার ১৭৭ জন। এই ভোটারের জন্য নয়টি কেন্দ্রের ৩৩টি বুথের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানান প্রায় ৭০ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর শুক্রবার নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করেন নবগঠিত কমিশনের নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী। তিনি নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন। ইসির নির্দেশ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে জানান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন।

এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত আইনশৃংখলা বাহিনী দিয়ে সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনির মধ্যে ছিল বাঘাইছড়ি পৌরসভার গোটা নির্বাচনী এলাকাসহ প্রতিটি ভোট কেন্দ্র। একজন রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে বিচারিক হাকিম, দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নয়জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং অফিসার জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চার স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়। এজন্য একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, ৯টি বিজিবি মোবাইল টিম, প্রতি ভোট কেন্দ্রে ১০ জন করে পুলিশ, ৯টি পুলিশের মোবাইল টিম, ৩টি স্টাইকিং ফোর্স ও আনসারসহ এক প্লাটুন র‌্যাবের মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। পৌরসভার মোট ৯টি কেন্দ্রের সবকটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল।

কাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মো. নুরুল কবির ও বটতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসাররা বলেন, সকাল থেকে দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধে ভোট দিয়েছেন প্রার্থীরা। যাতে কোনো রকম অনিয়ম, জালিয়াতি, কারচুপি বা বিশৃংখলা কিছুই ঘটতে না পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা। ফলে ভোট সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও সবার গ্রহণযোগ্য হয়েছে।