বান্দরবানের মসজিদের ইমাম নওমুসলিমকে গুলি করে হত্যা

193

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি ॥

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে নওমুসলিম এক মসজিদের ইমামকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের তুলা ঝিড়ি পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা গিয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে পড়েছে। তার নাম মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৪৫)। আগের নাম ছিল বেরণ চন্দ্র ত্রিপুরা। নিহত মৃত তয়ারাম ত্রিপুরার ছেলে। ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে কয়েক বছর আগে তিনি মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে ওই এলাকায় একটি অস্থায়ী মসজিদের ইমামতি দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন বেশ কিছুদিন থেকে সন্ত্রাসীরা ওই নওমুসলিম মসজিদের ইমামকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনাস্থল তুলাঝিড়ি পাড়ায় গত কয়েক বছর ধরে নও মুসলিম এর কয়েকটি পরিবার সহ বেশ কিছু পরিবার বসবাস করে আসছিল। তারা সেখানে টিনের ছাউনির কাঁচা ঘরের একটি অস্থায়ী মসজিদ নির্মাণ করে। সেখানে নওমুসলিম মোহাম্মদ ওমর ফারুক মসজিদের ইমামতি করে আসছিলেন। শুক্রবার রাতে ৪/৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ঘরবাড়ি ঘেরাও করে ওমর ফারুককে ঘর থেকে ডেকে এনে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা করে। তবে সন্ত্রাসী দলটি কারা ছিল এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন কিছু জানা যায়নি।

বান্দরবানে পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার জানিয়েছেন সন্ত্রাসীরা রাতে তাকে ঘর থেকে ডেকে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার পর সেখানে রোয়াংছড়ি ও পার্শ্ববর্তী লংলাই সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছে। এছাড়া রোয়াংছড়ি থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত জন্য সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

এদিকে রোয়াংছড়িতে নও মুসলিম এক মসজিদের ইমামকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে পাবত্য চট্রগ্রাম নাগরিক পরিষদ। শনিবার সকালে মুক্তমঞ্চের সামনে এক ঘন্টা ব্যাপি মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বান্দরবান পাবত্য চট্রগ্রাম নাগরিক পরিষদ সভাপতি কাজি মজিবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক নাছিরুল আলম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম ও মিজানুর রহমান প্রমুখ্য, সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান পাবত্য চট্রগ্রাম নাগরিক পরিষদ নেতা ক্যাপ্টন তারু মিয়া। পরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে পাবত্য চট্রগ্রাম নাগরিক পরিষদ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা রোয়াংছড়িতে নওমুসলিম ওমর ফারুককে হত্যার ঘটনায় পাহাড়ের সন্ত্রাসী আঞ্চালিক সংগঠন জেএসএস সন্তু লারমার বাহিনীকে দায়ী করেন। সন্তু লারমা পাহাড়ে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করার লক্ষে একের পর এক হত্যা কান্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে । এছাড়াও পাহাড়ে চাঁদাবাজী গুম খুনের সাথে সন্তু লারমা জড়িত বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।