বান্দরবানে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে আ’লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ত্রাণ বিতরণ

444

নুরুল কবির, বান্দরবান- ৩ জুন ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবজারের সদর ও রামু উপজেলায় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ। মোরার আঘাতের ৪দিনের মাথায় গত শুক্রবার সরকারি দলের প্রতিনিধিরা ঘূর্ণিদূর্গত কয়েকটি এলাকা সফরকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের  মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি দুর্গতদের বলেন, সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে মোরায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের জন্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপির নেতৃত্বে দুর্গত এলাকাসমুহ পরিদর্শনে আসা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অসীম কুমার উকিল এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা ও গাজিপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান, পার্বত্য বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লা, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সনজ্তি কুমার রায়, বান্দরবান পৌর মেয়র মো.ইসলাম বেবী, আওয়ামী লীগের নেতা সফিউল্লাহ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।

বান্দরবান জেলায় ঘূর্ণিঝড় মোরায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু বাজার, মধ্যতুমব্রু এলাকা, ঘুমধুম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের বেশকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন আওয়ামীলীগ দলীয় প্রতিনিধিরা। এদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, তার ইউনিয়নে ৬শ’ পরিবার সম্পুর্ণভাবে এবং ১২শ’ পরিবার আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদিকে, জেলা ত্রাণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হোছাইন আল মুজাহিদ জানান, সরকারের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিক ভাবে জেলায় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৫শ’ পরিবারের মাঝে ৫০ মেট্টিক টন সাধারণ ত্রাণ (জিআর) এবং নগদ ৯০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে শুক্রবার। এসব ত্রাণের চাল এবং নগদ অর্থ স্থানীয় প্রশাসন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যেমে বিতরণ করা হয়। ওই ত্রাণ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলায় ঘূর্ণিদুর্গত প্রায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে দ্রুতসময়ের মধ্যে বিতরণের জন্যে ৫ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ ৫০ লাখ টাকা এবং ১০০ মেট্টিকটন চালের চাহিদাপত্র সরকারের উচ্চ মহলে পাঠানো হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা গ্রামের আলী আহমদ ও মমতাজ বলেন, গত মংগলবার ভোররাতে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোরায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রকমারী বনজ-ফলজ বাগান,পানের বরজ ও আখ চাষ। ফলে এ উপজেলাজেলার কৃষক’ল আর্থিকভাবে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে জেলায় কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে প্রাথকি তথ্যে প্র্রায় ২০৪ হেক্টর জমির ফলজ এবং ৩০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান