বান্দরবানে ঝুঁকিতে কয়েক হাজার বসতঘর ॥ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে মাইকিং

248

॥ নুরুল কবির বান্দরবান থেকে ॥

অবিরাম বৃষ্টিতে বান্দরবানের পাহাড় ও নদী তীরবর্তী বসতিগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া শহরে মাইকিং করা হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা প্রশাসনকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকা করা হয়েছে।

গত কয়দিন যাবত বান্দরবানে মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়া প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে পানি নেমে আসছে। এছাড়া স্থানীয় সাঙ্গু নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে অবিরাম ভারী বর্ষণে পাহাড়ের উপর ও পাদদেশে কয়েক হাজার বসতি ঝুঁকির মধ্েয রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধসে বসতঘর ধংস ও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। প্রবল বৃষ্টির ফলে পাহাড়ের মাটি নরম ও ক্ষয় হওয়ায় এ ঝুঁকি দেখা দেয়। প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড় ও নদী তীরবর্তী বসতি থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে য়াওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বান্দরবান পৌরসভা মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী স্বাক্ষরিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি শনিবার দুপুরে প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া বান্দরবান পৌরসভা এলাকায় মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

পৌরসভা সুত্রে জানা যায়- ইতিমধ্যে পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডে আশ্রয় কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল ফারুক ইনস্টিটিউট, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে খোলা হয়েছে। এখন থেকেই এসব আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজন উঠতে পারবে। লোকজন উঠলেই তাদের খাবার, থাকাসহ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে বান্দরবান জেলা প্রশাসন থেকেও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে জেলার সাত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে নির্দশনা দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মো. কায়েসুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে ইউএনওদেরকে নিজ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নিরৃপণ, তালিকা প্রস্তুত করার জন্য বলা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কায়েসুর রহমান বলেন, তবে এখন পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে ওঠার মত পরিস্থিতি না হলেও প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার জন্য প্রস্ততি নিয়েছে। এদিকে গত বুধবার ১৫ জুন থেকে বান্দরবানে মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

বান্দরবান মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও পানি বিভাজন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাববুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ২৬ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নদীর পানি বাড়লেও সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার অনেক নিচে বলে জানান, বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অরৃপ চক্রবর্তী। তিনি জানান, সাঙ্গু নদীর পানির বিপদসীমা প্রায় ১৬ মিটার হলেও শনিবার বিকেল পর্যন্ত তা ছিল প্রায় সাত মিটার। জেলার মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানিও বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।