বান্দরবানে বিএনপি’র নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তোষ ॥ সংবাদ সম্মেলন

588

॥ নুরুল কবির ॥

বান্দরবান জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটি নিয়ে শুরুতেই দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে। রাজ পরিবারের মামি আর ভাগিনার দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব তৃণমূল বিএনপিতেও ঘনিভূত হচ্ছে।

এই দ্বন্দ্ব আগামী সংসদ নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে বিরূপ প্রভাব ফেলবে মনে করছেন দলের ওয়াকিবহাল মহল। যদিও নতুন কমিটির নেতারা বলছেন, গ্রুপ বা দ্বন্দ্ব দূর করা হবে এবং আগামী নির্বাচনে দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়বে না।

এদিকে শনিবার বিকেলে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের বেশ কয়েকজন নেতা নতুন কমিটি থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। নাম প্রত্যাহারের জন্য দলের চেয়ারপার্সনের কাছে আবেদনও করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন এই নেতারা।

শনিবার বিকেলে শহরের চৌধুরী মার্কেটের তৃতীয় তলায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সদ্য ঘোষিত কমিটি থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তুত করা আবেদনপত্র পড়ে শোনান জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: আজিজুর রহমান। নাম প্রত্যাহারের আবেদনপত্রটি রোববার দলের চেয়ারপার্সন বরাবর পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।

নাম প্রত্যাহারের জন্য আবেদনপত্রে নাম ও দলের পদবী ব্যবহার করে স্বাক্ষর করেছেন, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো: আজিজুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেযারম্যান আবদুল কুদ্দুছ, সহ-সভাপতি ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুশ শুক্কুর, লামা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আমির হোসেন, লামা উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনুঅং চৌধুরী, যুগ্ন সম্পাদক মুজিবুর রশীদ, আলীকদম উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপি সভাপতি নুরুল আলম কোম্পানীসহ অনেকে।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মো: তাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বার্তায় নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম জানানো হয়।

জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির উপজাতীয় বিষয়ক মহিলা সম্পাদক ম্যামাচিং’কে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সদর পৌর সভার সাবেক মেয়র মো: জাবেদ রেজা’কে। নতুন কমিটির নাম জানার পর পরই ম্যামাচিং গ্রুপের নেতাকর্মীরা নতুন সভাপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটির সভাপতি ম্যামাচিং (রাজবধূ) সম্পর্কে জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সাচিং প্রু জেরী’র মামি। দীর্ঘদিন ধরে মামি আর ভাগিনা এই দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব গত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। নতুন কমিটি নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগামী নির্বাচনেও প্রভাব পড়বে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র নেতারা জানান, এক বছর আগে গঠনতন্ত্র মোতাবেক সাত উপজেলা ও দুই পৌরসভার কাউন্সিল সম্পন্ন করা হয়। গত বছরের ১৭ ই নভেম্বর দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু’র নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বান্দরবানে আসেন।

প্রতিনিধি সম্মেলনে ৯৯ ভাগ সদস্য কাউন্সিল করার পক্ষে মত দেন। তৃণমূলের মতামতকে উপক্ষো করে কাউন্সিল না দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষনা দেওয়ায় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। নেতারা বলেন, দলের দুর্দিনে যে নেতারা দলের সঙ্গে কোনো সর্ম্পক রাখেনি।

রাজপথের মিছিলে, মিটিংয়ে যারা ছিল না তাদেরকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এটা সহজভাবে মেনে নিতে পারছেনা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কমিটির এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল নেতাদের মতামতকে উপক্ষো করে করা হয়েছে বলে মনে করছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: আজিজুর রহমান বলেন, নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলের সিনিয়র নেতারাদের জনে-জনে ফোন দিয়ে কাকে কোন পদে রাখা হচ্ছে জানাচ্ছেন।

তাদের মুঠোফোনে দেওয়া প্রস্তাব থেকে তাঁরা জানতে পারছেন কাকে কোন পদে রাখছেন। নতুন কমিটির তৈরি তালিকা মোখিকভাবে শুনেছেন এখনো কোনো কাগজ হাতে পাননি।

জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটির সাধারন সম্পাদক মো: জাবেদ রেজা বলেন, দলের সিনিয়র নেতা (সাবেক সভাপতি) সাচিং প্রু জেরী ব্যাংককে আছেন। তিনি আসলেই তার সঙ্গে বসে দ্বন্দ্ব নিরোসন করে মিলেমিছে গ্রহন যোগ্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। যারা বলে আগামী নির্বাচনে দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়বে তাদের কথার কোনো ভিত্তি নেই। নির্বাচনের আগে দ্বন্দ্ব না থাকলে কেমন করে প্রভাব ফেলবে।