বিএফইউজে’র নব নির্বাচিত সভাপতি ওমর ফারুক এবং মহাসচিব দীপ আজাদকে ডিকেজেএফ’র সংবর্ধনা

357

Dr Mati Pic 09

২১ নভেম্বর ২০২১, ঢাকা ব্যুরো অফিস, দৈনিক রাঙামাটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকাস্থ খুলনা সাংবাদিক ফোরাম’র উদ্যোগে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজে’র নব নির্বাচিত সভাপতি ওমর ফারুক এবং মহাসচিব দীপ আজাদ এর সংবর্ধনা দেয়া হয়। ২০ নভেম্বর ২০২১, শনিবার সকাল ১১টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের এমপি আব্দুস ছালাম মূর্শেদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৬ আসনের এমপি মো. আক্তারুজ্জামান বাবু, জাতীয় প্রেসক্লাব’র সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’র ব্যবস্থপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ বাদল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, আনান করপোরেশন প্রোপ্রাইটার মো. রিপন তরফদার নিয়াম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, সভাপতিত্ব করেন ঢাকাস্থ খুলনা সাংবাদিক ফোরাম’র সভাপতি সি কে সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘ফোরাম’র সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রিপন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী ঢাকাস্থ খুলনা সাংবাদিক ফোরামের আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি তার কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে খুলনার উন্নয়নে তার ভুমিকা ব্যক্ত করেন। খুলনার বিভিন্ন জনসমস্যার কথা তুলে ধরে সকলের দৃষ্টিতে সাংবাদিকদের লেখনীর সহযোহিতা কামনা করেন। তিনি সাংবাদিকদের সকল সমস্যার কথা শুনে সাংবাদিকদের পাশে থাকার এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করারো আশ্বাস প্রদান করেন।

আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন সাংবাদিক বান্ধব প্রধানমন্ত্রী। তিনি সবসময় সাংবাদিকদের পক্ষে থাকেন। সাংবাদিকদের ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে। কারণ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে একটি চক্র দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যে যার মতো মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব জাতির সামনে সত্য তথ্য তুলে ধরতে হবে। এছাড়াও তিনি খুলনার বিভিন্ন উন্নয়নম‚লক কাজগুলো সাংবাদিকদের লেখনিতে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা-৬ আসনের এমপি আক্তারুজ্জামান বলেন, আজকে যাদেরকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে বিএফইউজের নবনির্বাচিত সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ তাদেরকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। আজকে আমি খুলনার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি হিসেবে বলতে চাই ওমর ফারুক একজন ভালো মানুষ এবং মহাসচিব খুলনার সন্তান দীপ আজাদ এক সময়ে খুলনা সাংবাদিকতা করেছেন। খুলনায় সর্বহারাদের জনপদ এবং অভয় অরণ্য ছিল। প্রতিদিন মানুষ ভয়ে দিনাতিপাত করতো। খুলনায় এরশাদ শিকদারসহ অনেকে সন্ত্রাসের রাজত্ব করতো। এই সকল সর্বহারা এবং সন্ত্রসীদের বিরুদ্ধে দীপ আজাদ তার লেখনীর মাধ্যমে প্রতিহত করার অন্যন্য ভূমিকা রাখেন। দীপ আজাদ অল্প বয়সে খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। সে সময়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লিখতে যেয়ে তার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং তার ওপর বোমা নিক্ষেপ পর্যন্ত করে সন্ত্রাসীরা। সেখান থেকে ঢাকায় চলে আসার পর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করে আজকে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ বড় সংগঠন বিএফইউজের নেতৃত্বের মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। তার লেখনী, মননশীলতা এবং ভয়েচ আমাদেরকে আপ্লুত করেছে। এমপি আক্তারুজ্জামান বলেন, খুলনা এবং ঢাকার সংবাদপতের মধ্যে সমন্নয় করা খুবই প্রয়োজন। খুলনার কর্মকাÐগলো সংবাদপত্রে গুরুত্ব দিয়ে ছাপানো হয়না এবং ঢাকার কর্মকাÐগুলোও সেখানকার সংবাদপত্রে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএফইউজে এর নবনির্বাচিত সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, আমি খুলনার ছেলে না হলেও খুলনার মানুষ আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমি গত তিনটি নির্বাচনে খুলনার সাংবাদিকরা আমাকে ভোট দিয়ে খুলনায় প্রথম করেছেন। খুলনা দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। এই খুলনাকে এরশাদ ও খালেদা সন্ত্রাসের নগরীতে পরিণত করেছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণ করে সেখানে শান্তি ফিরে এনেছেন। খুলনায় এখন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করা যায় সে জন্য পুরো জাতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিশেষভাবে কৃত্যজ্ঞ। তিনি ঢাকাস্থ খুলনা সাংবাদিক ফোরামকে তাকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য কৃত্যজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ওমর ফারুক বলেন, সংবাদ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের উন্নয়ন হলেও উন্নয়ন হয়নি সংবাদকর্মী এবং সাংবাদিকদের। তাদের রুটি রুজি জীবন মান উন্নয়নে বিএফইউজে আন্দোলন করে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের জন্য তিনি সংবাদপত্রের মালিকদের প্রতি আহবান জানান। সরকারের কাছে তিনি সহযোগিতা চেয়েছেন। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে তিনি রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার আগে সংলাপের মাধ্যমে দাবিগুলো সম্পন্ন করার জন্য গণমাধ্যমের মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

বিএফইউজের নব নির্বাচিত মহাসচিব দীপ আজাদ বলেন, আজকে যারা আমাকে সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন তারা সকলে আমার ঘরের মানুষ সকলেই ঢাকাস্থ খুলনার সাংবাদিক আমি আপনাদেরকে কৃত্যজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি আপনাদের সাথে আছি এবং চলার পথে আপনারা আমার পাশে থাকবেন ও পরামর্শ দেবেন যাতে আপনাদের প্রত্যশা ও ভাল কাজ করতে পারি। তিনি খুলনার দুইজন সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, করোনয় যে সব সাংবাদিক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও চাকরিচ্যুত হয়েছেন এবং ছাটাই হয়েছেন তারা প্রতিকুল পরিবেশে জীবনযাপন করছেন তাদের বিএফইউজের উদ্যোগে আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো। প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশ রয়েছে তা পূরণ করতে হলে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের কল্যাণে যে আইনটি করে গেছেন তা বাস্তবায়নে বিগত বারো বছরেও সংসদে পাস হয়নি। এই আইনটি যাতে সংসদে পাস হয় তার জন্য এমপিদের প্রতি অনুরোধ করেন। খুলনার যে সব প্রত্রিকা রয়েছে তাদের মালিকদের সঙ্গে বসে সাংবাদিকরা যাতে নূন্যতম বেতন ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় সে জন্য এমপিদের সহযোগিতা চান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি এমপি আব্দুস সালাম মূর্শেদী, বিশেষ অতিথি এমপি মো. আক্তারুজ্জামান বাবু ও অন্যান্ন অতিথিবৃন্দ বিএফইউজে’র নব নির্বাচিত সভাপতি ওমর ফারুকের হাতে সংবর্ধনা স্বারক তুলে দেন।

বার্ত প্রেরক- মো. রফিকুল ইসলাম রিপন
সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ খুলনা সাংবাদিক ফোরাম

সম্পাদনা- শামীমুল আহসান
ঢাকা ব্যুরো প্রধান, দৈনিক রাঙামাটি।