বিচার সহজ করার লক্ষ্যে শ্রম আদালতের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন

404

স্টাফ রিপোর্ট- ২ মে ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি (প্রেস বিজ্ঞপ্তি):  আজ ২মে, ২০১৭ তারিখে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস এন্ড ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও সেইফটি এন্ড রাইটস্ সোসাইটি (এসআরএস)’র যৌথ উদ্যোগে এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে “শ্রম আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে আনুষ্ঠানিক অল্টারনেটিভ ডিসপুট রিজুলেশন বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)’র ভূমিকা” বিষয়ক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়, যেখানে দ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে, শ্রম আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে এডিআর এর প্রয়োজনীয়তা নিযয় আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি মো: নিজামুল হক, সাবেক বিচারপতি, আপীল বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. মুজিবুল হক এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বিচার প্রাপ্তিকে সহজ করার জন্য এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শ্রম আদালতের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি শ্রম আইনের অধীনে কত দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে সেটা নির্দিষ্ট করতে হবে।

ব্লাস্টের উপ-পরিচালক জনাব অ্যাড. মো: বরকত আলী সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন। তিনি তার প্রবন্ধে এডিআর এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং  শ্রম আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এডিআরকে আরো কার্যকর করতে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। তা হলো: “শ্রম আদালতে, বিশেষ করে মজুরী সংক্রান্ত মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় এডিআর পদ্ধতিকে “বাধ্যতামূলক” বিধান হিসেবে অন্তর্ভূক্তি করণ; শিল্প বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে শ্রম অঙ্গনে এডিআর পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করণ; কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম পরিদপ্তরে এডিআর সেল গঠন এবং প্রয়োজনে শ্রম আইনের সংশোধন; সরকারী উদ্যোগে এডিআর বিষয়ে শ্রমিক-মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।”

প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র; জনাব আবু হেনা মোস্তফা কামাল, পরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর; জনাব শামসুজ্জমান ভূইয়াঁ, মহা পরিদর্শক, কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর। সভাটি সঞ্চালনা করেন জনাব এস. এম. রেজাউল করিম, আইন উপদেষ্টা ও পরিচালক, ব্লাস্ট। সেমিনারে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সংক্ষুব্ধ শ্রমিক, এনজিও, ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি, শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ, শ্রম অধিকার কর্মী এবং মানবাধিকার কর্মীগণ অংশগ্রহণ করেন।

গত ১ মে ২০১৭ আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসের কর্মসূচীর অংশ হিসাবে আজ ২ মে, ব্লাস্ট ও সেফটি এন্ড রাইটস সোসাইটি উদ্যোগে এবং শ্রম মন্ত্রণালযয়র সহযোগিতয় উক্ত সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও গত ২৩ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ সন্ধ্যা ৬.০০ টায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আয়োজনে রানা প্লাজা দুর্ঘটনাস্থলে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনসহ প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচী; এবং একই ধারাবাহিকতয় ব্লাস্টের পক্ষ থেকে ২৪ এপ্রিল ২০১৭ সকল নিহত ও আহত শ্রমিক এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বিশেষ করে উদ্ধারকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা জানাতে  শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আয়োজনে সকাল ৮.৩০ মিনিটে জুরাইন কবরস্থানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, ১ মিনিট নীরবতা পালন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়াও ২৫ এপ্রিল ২০১৭, দিনাজপুরে বয়লার বিস্ফোরণে নিহত ১০ জন শ্রমিক মৃত্যুর প্রতিবাদে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আয়োজনে, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানব বন্ধনে ব্লাস্ট অংশগ্রহণ করে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান