বিজয় দিবস পালন না করলেও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে শিশুদের অংশগ্রহণে বাধ্য করে ইউপিডিএফ’র ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

744

স্টাফ রিপোর্ট- ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি:  পার্বত্য জনগণের ন্যুনতম নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে ইউপিডিএফ ৫ দফা দাবিনামাসহ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বর্জনসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির ঘোষনা করে গত ২০ নভেম্বর ২০১৬, তারিখ সকালে ঢাকার রিপোর্টাস ইউনিটির হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে দেশব্যপি আলোচনার ঝড় তোলে। সে অনুযায়ী তারা ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বর্জনও করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফ ও তার অংগসংগঠন ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের কোনো কর্মসূচি পালন করেছে এমন সংবাদ আমরা পইনি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ঘটা করে তারা ইউপিডিএফ’র ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। লক্ষনীয় বিষয়- এক্ষেত্রে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের শত শত কোমলমতি শিশু-কিশোরদের দিনভর তাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করে। তাদের এহেন কর্মকান্ডও দেশব্যপী সমালোচিত হচ্ছে। তাদের এ বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সঞ্চার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যা অদূর ভবস্বিতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী তৈরিতে ইউপিডিএফ’র জন্য সহজ ও সহায়ক হবে। এ বিষয় কর্তৃপক্ষের সুনজর প্রয়োজন।

ইউপিডিএফ’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সচিত্র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি হুবহু প্রকাশ করা হলো:

শিশুর‌্যালি, অস্থায়ী  শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, শারীরিককসরতের মাধ্যমে ডিসপ্লে, ফিল্ম প্রদর্শনী, মত বিনিময়সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজনসহ নানাকর্মসূচির মধ্য দিয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬, সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে দর্শনীয় ও জনসমাগমস্থলে দেয়াল লিখন, ফেস্টুন ও পোস্টার লাগানো হয়।

রাঙামাটি কুদুকছড়ি:  রাঙামাটি সদও উপজেলার কুদুকছড়িতে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শিশুর‌্যালির মধ্য দিয়ে ইউপিডিএফ’র ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় অস্থাীয় শহীদ বেদীতে ইউপিডিএফ, শহীদ পরিবার, পার্টিরকর্মী পরিবার, পিসিপি, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিলউইমেন্স ফেডারেশন, ঘিলাছড়ি নারীনির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, নির্বাচিত জুম্ম জনপ্রতিনিধি সংসদ ও ভিলেজ কমিটির পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণকরা হয়।

ইউপিডিএফের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উদয় চাকমা ও অমিয় চাকমা, শহীদ পরিবারের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন শহীদ প্রমাণের স্ত্রী সঞ্চিতা চাকমা ও শহীদ নবদ্বীপের স্ত্রী বিনতা চাকমা, পার্টি পরিবারের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ কওে নমনিকা চাকমা ও তাপসী চাকমা, যুব ফোরামের পক্ষে কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ধর্মসিং চাকমা ও নিশান চাকমা, পিসিপি’র পক্ষে রাঙামাটি জেলা সভাপতি কুনেন্ট ুচাকমা ও উপজেলা সভাপতি নিকন চাকমা, হিলউইমেন্স ফেডারেশনের পক্ষে রাঙামাটি জেলা সভাপতি মন্টিচাকমা ও কাউখালী থানা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক ইশা চাকমা, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে সাবেক সভাপতি শান্তি প্রভা চাকমা ও সদস্য শেফালী চাকমা, জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে কুদুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কানন চাকমা ও মহিলা সদস্য রিতা চাকমা, ভিলেজ কমিটির পক্ষে কুদুকছড়ি উপর পাড়ার সভাপতি তপন কুমার চাকমা ও নীচ পড়ার সভাপতি বাদিধন চাকমা। পুষ্প মাল্য অর্পণ শেষে শহীদদের প্রতি সম্মানজানিয়ে ২ মিনিটি নিরবতা পালন করা হয়।

এর পর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন যথাক্রমে ইউপিডিএফ’র রাঙামাটি উপজেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক উদয় চাকমা ও একই ইউনিটের অন্যতম সংগঠক অমিয় চাকমা। এসময় জাতীয় ও দলীয় সংগীত বাজানো হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় শিশুর‌্যালি। চারশতাধিক শিশুর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত র‌্যালিটি উত্তর কুদুকছড়ি   সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরুহয়ে বড়মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয় গেট, কুদুকছড়ি বাজার প্রদক্ষিণ করে বটতলায় গিয়ে শেষ হয়।

কাউখালী:  ঐদিন জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের লেভা পাড়ায় সকাল ৮টায় দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন কাউখালী উপজেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক কার্তিক চাকমা। এর পর অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ইউপিডিএফ, তিন সংগঠন, এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পর শিশু-কিশোররা শারীরিককসরতের মাধ্যমে টচউঋ নামটি ডিসপ্লে করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ’র কাউখালী ইউনিটের সংগঠক পুলক চাকমা, ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান জগদীশ চাকমা, ফটিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ধনকুমার চাকমা, ঘাগড়া ইউপি’র প্রাক্তন মেম্বার শান্তিমনি চাকমা ও ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার মন্টুরঞ্জন চাকমা। এছাড়া জেলার নান্যাচর উপজেলায়ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

খাগড়াছড়ি:  ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬, সোমবার সকাল ৮টায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলাসদরের স্বনির্ভও বাজাওে ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিকফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিকফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর নেতৃবৃন্দ, ইউপিডিএফ-এর শহীদ পরিবারবর্গ, নির্বাচিত জুম্ম জনপ্রতিনিধি সংসদ, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিলউইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের প্রতিনিধিবৃন্দ।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অনুষ্ঠানে পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও সম্মাননিবেদন করেন ইউপিডিএফ-এর পক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সংগঠক রিকো চাকমা, শহীদ পরিবাওে পক্ষে যুব নিকা চাকমা, নির্বাচিত জুম্ম জনপ্রতিনিধি পক্ষে খাগড়াছড়িসদর উপজেলাভাইস চেয়ারম্যানরনিকত্রিপুরা, পিসিপির পক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সহসভাপতি তপন চাকমা ও কলেজ শাখার সভাপতি নিকাশ চাকমা এবং এইচডব্লিউএফ ও ডিওয়াইএফ-এর পক্ষে এইচডব্লিউএফ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি দ্বিতীয়া চাকমা । পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সকল শহীদদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিরাবতা পালন করার পর ইউপিডিএফ-এর খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক রিকো চাকমা অনুষ্ঠান শেষ করেন।

এছাড়া খাগড়াছড়িসদও উপজেলার শিবমন্দির এলাকায় একটিশিশুর‌্যালি বেরকরাহয়। সেখানে শিশু ও কিশোররা শারীরিককসরতের মাধ্যমে  ‘২৬ উবপবসনবৎ ১৯৯৮’  ডিসপ্লে করে। জেলার পানছড়িতেও  স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা অনুরূপ ডিসপ্লের আয়োজন করে। অপরদিকে লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাধাপ্রদান করেছে। আজ সকালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রর‌্যালি করতে চাইলে লক্ষ্মীছড়ি জোনের সেনাসদস্যরা বাধা দেয়। এ সময় সেনাবাহিনীর সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে বেশকয়েক জন আহত হয়।

এছাড়া খাগড়াছড়িসদও উপজেলার জিরোমাইল, নতুনবাজার, চম্পাঘাট, আগবাড়ি, গুগড়াছড়ি এলাকায় রাস্তায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত টাঙানো ফেস্টুনগুলো সেনাবাহিনী খুলেনিয়ে যায়। জেলার মহালছড়ি, মানিকছড়ি, গুইমারা, মাটিরাংগা, দীঘিনালাসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে টাঙানো ফেস্টুনও সেনারাখুলে নেয় ও পোস্টার ছিড়ে দেয়।

এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বান্দরবানে ফিল্ম প্রদর্শনী, ঢাকায় আলোচনাসভা ও চট্টগ্রামবন্দর, চাদগাঁ ও চবি ক্যাম্পাসে মতবিনিময়সভার আয়োজন করা হয়।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।