মধু মাসে রাঙামাটির রসালো মৌসুমী ফলের বাজার জমজমাট

242
dav
dav

॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥
মধুমাসে জমে উঠেছে রাঙামাটিতে মৌসুমী ফলের বাজার। এবারের অনুক’ল আবহাওয়ার সুবাদে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের ফল। আম, আনারস, জাম, কাঠাল, লিচু, কলা, পেয়ারা, লটকন, পাকা পেঁপে, বাঙ্গি প্রভৃতি। কুষক এবং ব্যসায়ীরা জানিয়েছে, এ বছর মৌসুমী ফলের ব্যাপক উৎপাদন হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে রপ্তানী করা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি রাঙামটিতে বেশ কয়েকদিন শিলা বৃষ্টি হওয়ায় কারণে এবারে তরমুজের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়।
স্থানীয় চাহিদার জন্য শহরের ফুটপাত দখল করে এসব মৌসুমী ফল বিক্রি করার জন্য পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। মৌসুম শুরু হওয়ায় অনেক মানুষ অন্য পেশার পাশাপাশি মৌসুমী ফল ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। চাহিদার পাশাপাশি লাভ হওয়ায় বিক্রেতা, পাইকারী ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় কৃষকরাও বেজায় খুশি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দাম কিছুটা চড়া বলে। সরেজমিনে শহরের কয়েকটি ফলের বাজার ঘুরে দেখো গেছে, ভরা মৌসুমেও প্রতিটি ফলের দাম বেম চড়া। লিচু প্রতিশত ২৫০ টাকা, আম (আ¤্রপালি) কেজি ১০০টাকা, কলা (বাংলা কলা) ডজন প্রতি ১৩০-১৫০টাকা, কাঁঠাল (দেশী) প্রতি পিস বড় ২০০-২৫০ টাকা এবং ছোট ১০০-১৫০টাকা এবং আনারস প্রতি জোড়া বড় ৩০টাকা এবং ছোট ২০টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে ধরে এসব ফলের দাম কম থাকলেও এবারের মৌসুমে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব ফল। ভরা মৌসুম চললেও আম, কাঠাল, আনারসের এবং লিচুর দাম কমেনি। শহরের বনরূপা বাজারে ফল কিনতে আসা নাজিম উদ্দীন জানান, যে কোন ফল কেনার আগে যাচাই-বাছাই করার চেষ্টা করি তাতে কোন রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণ করা হয়েছে কিনা। নিশ্চিত হলে ফল ক্রয় করি। ভাল ফল দাম দিয়ে নিলেও ভাল।
পাশ্ববর্তী আরেক ক্রেতা শারমিন জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলের দাম একটু বেশি। কিন্তু কি করার, ফলের মৌসুম চলছে তাই কিনতে তো হবে। ফল বিক্রেতা কাসেম জানান, রমজান মাসে দেশী ফলে চাহিদা একটু বেষিশ থাকে। কিন্তু গতবারের তুলনায় এবার ফলের আমদানী কম। তাই ফলের দাম একটু বেশি। ফলের দাম বেশি হলেও বিকিকিনি ভাল চলছে বলে এ ব্যবসায়ী জানান। ফল ব্যবসায়ী জামাল বলেন, ফলের দাম আর বেশিদিন থাকবে না। ঈদের পর বাজারে আরও ফল আসলে দাম কমে যাবে।


রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এ বছর আম উৎপাদন হয়েছে- গত ২০১৩ সালে ১৯০৮ হেক্টর জমিতে ২১ হাজার ৩৩১ মে.টন, ২০১৪ সালে ২৯৪৩ হেক্টর জমিতে ৩২ হাজার ৯০৩ মে. টন ২০১৫ সালে ২৯৫৫ হেক্টর জমিতে ৩৬ হাজার ৯৩৮ মে.টন, ২০১৬ সালে ৩৩৫০ হেক্টর জমিতে ৩০ হাজার ১৮৪ মে.টন এবং ২০১৭ সালে ৩৩৭০ হেক্টর জমিতে ৩৩ হাজার ৩৭০ মে.টন।

লিচু উৎপাদন হয়েছে- ২০১৩ সালে ৮৭৬ হেক্টর জমিতে ৮ হাজার ৩০ মে.টন, ২০১৪ সালে ১৪৯১ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৬৭৩ মে,টন ২০১৫ সালে ১৪৯৫ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৬৫০ মে. টন, ২০১৬ সালে ১৭৩০ হেক্টর জমিতে ১১হাজার মে.টন এবং ২০১৭ সালে ১৭৪২ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ২৮৬ মে.টন।
আনারস উৎপাদন হয়েছে-২০১৪ সালে ১৯৭০ হেক্টর জমিতে ৪৯হাজার ৭৬২ মে.টন, ২০১৪ সালে ১৯৭৫ হেক্টর জমিতে ৪৯ হাজার ৯৬৮ মে.টন, ২০১৫ সালে ১৯৭৫ হেক্টর জমিতে ৪৯ হাজার ৯৬৮ মে.টন, ২০১৬ সালে ১৯৯২ হেক্টর জমিতে ৫৪ হাজার ২০৮ মে.টন এবং ২০১৭ সালে ১৭৯৭ হেক্টর জমিতে ৫০ হাজার ৩৫০ মে.টন।
কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছে- ২০১৩ সালে ২৭৯০ হেক্টর জমিতে ৮০ হাজার ১৭ মে.টন ২০১৪ সালে ৩৮৫৭ হেক্টর জমিতে ১ লাখ৬৬৯ মে.টন ২০১৫ সালে ৩৮৬৩ হেক্টর জমিতে ১ লাখ১১হাজার ৬১ মে.টন, ২০১৬ সালে ৩৮৭৬ হেক্টর জমিতে ১লাখ এক হাজার ৩৭০ মে.টন এবং ৪১৮২ হেক্টর জমিতে ১লাখ ৫হাজার ৪৮০ মে.টন।
তরমুজ উৎপাদন হয়েছে- ২০১৩ সালে ২৫০৯ হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ২৫০ মে.টন, ২০১৪ সালে ২৬৫ হেক্টর জমিতে ১১হাজার ৩৯৫ মে.টন, ২০১৫ সালে ১৩৫ হেক্টর জমিতে ৫হাজার ৪৫০ মে.টন, ২০১৬ সালে ২৬৫ হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ৮৬৫ মে.টন এবং ২০১৭ সালে ১৯৯ হেক্টর জমিতে ৭হাজার ৬৬০ মে.টন।
কলা উৎপাদন হয়েছে- ২০১৩ সালে ৮৭৭৪ হেক্টর জমিতে ১লাখ৫৯হাজার ০১৮ মে.টন, ২০১৪ সালে ১৩৭৪৫ হেক্টর জমিতে ২লাখ৭৭হাজার ৬৪৯ মে.টন, ২০১৫ সালে ১৩৭৫০ হেক্টর জমিতে ২লাখ ৮১হাজার ৮৭৫ মে.টন, ২০১৬ সালে ১৪০৫০ হেক্টর জমিতে ৩লাখ ২৬হাজার ০৫৫ মে.টন এবং ২০১৭ সালে ১৪০৭০ হেক্টর জমিতে ৩লাখ২৭হাজার ১৩০ মে.টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক কর্মকর্তা কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বলেন, জেলায় আম, কাঁঠাল, লিচু কলা, আনারস এবং তরমুজের ব্যাপক চাষ হয়েছে। তবে শিলা বৃষ্টির কারণে তরমুজের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, র্কষকরা যতি বৃষ্টি হওয়ার পর বালাইনাশক কিটনাশক ব্যবহার করেন তাহলে ফলের অনেক ক্ষতি কম হবে কিন্তু কৃষকরা সচেতন না হওয়ায় ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।