মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তিন বছর মেয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসন

330

p-1-dr-1

আনোয়ার আল হক-  ১৮ অক্টোবর ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি:  রাঙামাটি জেলার বিশেষ বৈশিষ্টের প্রতি গুরুত্ব প্রদানপূর্বক জনগণের আশা আকাঙ্খা বাস্তবে রূপদানের লক্ষ্যে তিন বছর মেয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে যে কোনো নাগরিকের পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করা বলে ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। তিনি বলেন, এই এলাকার আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি তরান্বিতকরণ তথা মাঠ পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কি ধরণের প্রকল্পসমূহ অগ্রধিকার দেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমরা পরামর্শ আহ্বান করছি। এই পরামর্শ লিখিত আকারে জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ে বা জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেইজ অথবা ইমেইলে প্রেরণের আহ্বান জানান তিনি। জেলাপ্রশাসক বলেন, পরামর্শপত্রে যে প্রকল্প সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করা হবে, তা হতে হবে বাস্তব ভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য। একই সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংক্ষিপ্ত রুটম্যাপ বা রূপরেখাও পরামর্শদাতাকে তুলে ধরার অনুরোধ জানান তিনি।

জেলাপ্রশাসক জানান, এই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর (দশ প্রকল্প) ব্র্যান্ডিং প্রকল্পসমূহকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। তবে ব্র্যান্ডিং প্রকল্পসমূহের বাইরেও যদি স্থানীয় চাহিদা বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

মঙ্গলবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত এক মত বিনিমিয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান এই মত প্রকাশ করেন। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক ‘তিন বছর মেয়াদী অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই মত বিনিময় সভায়, জেলার রাজনৈতিক নেতৃবন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাগণ, জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

মত বিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাহেদ চৌধুরী, রাঙামাটি জেলা এলজিএসপি এর উপ-পরিচালক প্রকাশকান্তি চৌধুরীসহ জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মত বিনিময় সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রাথমিকভাবে জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, পর্যটন এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রকল্পসমূহ অন্তর্ভূক্ত করার আহ্বান জানান।
মতামত প্রদানকারীগণ বলেন, রাঙামাটি একটি খ্যতিমান পর্যটন শহর এই শহরের সৌন্দর্য রক্ষা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই রাঙামাটি শহরের সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প নামে এক সময় একটি অংশিদারিভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় শহরের প্রধান সড়কের দুইপাশে বিদ্যমান সরকারি অফিস সমূহের বাড়তি জায়গায় সৌন্দর্য প্রাধান্য দিয়ে ক্ষুদ্র অবকাঠামো নির্মাণ এবং ফুলের বাগান ও সবুজের আচ্ছাদন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা বেসরকারি সংস্থা তাদের নিজের ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এতে পর্যটন শহরের সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু সমন্বয়ের অভাবে এসব সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প বর্তমানে বিলুপ্ত বা লতাগুল্মে পরিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিভাগসমূহের সাথে সমন্বয় করে এই প্রকল্প চালু করা গেলে তা বিনা খরচে অল্প সময়ে বাস্তবায়নাধিন একটি প্রকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক এই সৌন্দর্য বর্ধনের কাজটি সারা জেলাজুড়ে গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া রাঙামাটি শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সাবলীল রাখতে বিদ্যমান অবকাঠামোসমূহের প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত করা, জেলা শহরের বাইরে নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনশক্তি নিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করার লক্ষ্যে ক্ষ্রদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্প গ্রহণ করার মাধ্যমে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যেতে পারে বলে অংশ গ্রহণকারীগণ মত প্রকাশ করেন।

জেলাপ্রশাসক বলেন, অমরা পরিকল্পনা নিয়েছি জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোসহ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করবো। একই সাথে জেলায় স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত জনশক্তি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগে সাবলীলতা আনয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করবো।

মতবিনিময় সভার শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগের ডিডি মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে জেলাপ্রশাসনে পাঠানো ‘তিন বছর মেয়াদী অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন’ সংক্রান্ত সার্কুলার পড়ে শোনান। এ সময় সভাকে জানানো হয় যে, সারা দেশেই এই ধরণের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা ও এলাকার জনগণের আকাঙ্খাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। পরিকলপনা প্রণয়নের পর তা বাস্তবায়নের জন্য বছরে চারটি প্রান্তিক নির্ধারণ করে প্রতি প্রান্তিকের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের উন্নয়ন-লক্ষ্য অর্জন, চলমান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, রূপকল্প ২০২১, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প ও বিশেষ উদ্যোগসমূহ, বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি, স্থানীয় বিশেষ বৈশিষ্ট, সংশ্লিষ্ট জেলার জনগণের আশা আকাঙ্খা ইত্যাদি বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

কর্মপরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন যোগ্য ও পরিমাপযোগ্য হতে হবে। যে সকল কার্যক্রম বর্তমানে শেষ পর্যায়ে বা চলমান রয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে চলমান কর্মসম্পাদন সূচকের সাথে সঙ্গতি রেখে কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। জেলার সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও অংশীজনদের মতামত নিয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। সর্বপোরী সংশ্লিষ্ট জেলায় বাস্তবায়নযোগ্য তিনবছর মেয়াদি পরিকল্পনার অগ্রগতি সংক্রান্ত  প্রতিবেদন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে।

জানা যায় সরকারি খাতে ব্যবস্থাপনা-পদ্ধতির উন্নয়ন, জনপ্রশাসন সংস্কার ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং  ই-গভর্ন্যান্স কাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

পোস্ট করেন, শামীমুল আহসান- ঢাকা ব্যুরো অফিস।