মাতৃভাষায় শিক্ষা>> চাকমা ও মারমা ভাষা শিক্ষকদের মাঝে সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ

180

॥ বিহারী চাকমা ॥

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সহ¯্রাধিক নারী পুরুষকে মাতৃভাষায় শিক্ষার উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহযোগী হিসেবে প্রেরণ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণ শিক্ষকদের মাঝে সনদপত্র ও অনারারী নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইনিশ্যাটিভ ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (আইএসডির)’র যৌথ উদ্যোগে এসব তরুণ তরুণীকে চাকমা ও মারমা ভাষায় শিক্ষা প্রদানের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। শনিবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলার ৭টি উপজেলার ৫০জন খন্ডকালীন শিক্ষকের হাতে সনদ ও নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলার ১৪জন, নানিয়ারচর উপজেলায় ৮ জন, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৭ জন, লংগদুতে ৭ জন, বরকলে ৭জন, কাউখালীতে ৬ জন এবং জুরাছড়ি উপজেলার ৩জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। এই শিক্ষকেরা প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞানের আলোকে খন্ডকালীন শিক্ষক বা সহযোগী শিক্ষক হিসেবে উল্লেখিত উপজেলা সমূহের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাতৃভাষায় শিক্ষার কাজ করবেন। সম্পূর্ণ বিনা বেতনে কাজ করতে আগ্রহী এসব শিক্ষক নিজ মাতৃভাষার বিকাশে আইএসডি আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসেন।

সনদ বিতরণকালে চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেছেন আশা করা যায় এর মাধ্যমে মাতৃভাষায় পারদর্শি শিক্ষকের ঘাটতি অনেকটাই দূর হবে। আইএসডি’র নির্বাহী পরিচালক প্রনব কুমার চাকমার সভাপতিত্বে নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বৃষ কেতু চাকমা আরো বলেন, পার্বত্য এলাকার চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্ব স্ব মাতৃভাষা রয়েছে। পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য টিকে থাকলে তবেই একটি জাতি টিকে থাকতে পারে। সেজন্য নিজস্ব জাতিসত্তার ভাষা সংরক্ষণে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে অত্যন্ত আন্তরিক। এজন্য চলতি বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নিজস্ব ভাষায় পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব পাঠ্য বই বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক রাঙামাটির সম্পাদক আনোয়ার আল হক, সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম, চাকমা ভাষা গবেষক প্রসন্ন কুমার চাকমা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সজীব চাকমা।

নিয়োগপত্র প্রাপ্ত শিক্ষকরা জেলার ৭ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহযোগি শিক্ষক হিসেবে কাজ করবেন। তবে আপাতত তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ভাষা, বর্ণ, ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবেন। পরবর্তীতে সরকার মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিলে সনদ ও নিয়োগপত্র প্রাপ্ত এসব শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।