মাত্র আটদিনের মাথায় রাঙামাটি চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল শুরু

464

আনোয়ার আল হক- ২২ জুন ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি: প্রবল ভারী বর্ষনের কারণে মহা বিপর্যয়ের মুখে ধসে যাওয়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কটি দিয়ে অবশেষে যান চলাচল শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুর আড়াইটায় সড়কটি দিয়ে যোগাযোগ সচিব, সেনাবহিনীর জিওসি, সওজ এর প্রধান প্রকৌশলী এবং রাঙামাটির জেলা প্রশাসক গাড়ি চালিয়ে সড়কটি পার হন। এর সাথে সাথেই নবনির্মিত সড়কটি সর্বসাধারণের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে আপতত সড়কটি দিয়ে শুধুমাত্র হালকা যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জওয়ানরা দিনরাত নিরলস পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া সড়কটি মাত্র দশদিনের সাময়িক আদলে নিয়ে। এই সড়কটি দিয়ে যান চলাচল শুরু খবরে গতকাল দিনভর রাঙামাটিতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে জেলাবাসী। খবরটি শহরে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন দিকে ফোন করে আপনজনদের খবর জানাতে থাকে রাঙামাটির মানুষ। ফেসবুকে স্ট্যাটাসের ঝড় তোলে তরুণ সমাজ। সামনেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরপানে ছুটে যাওয়া মানুষ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এর আগে গত দশদিন যেন রাঙামাটি অবরুদ্ধ ছিল। যদিও জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নানের ঐকান্তিক ইচ্ছায় মাত্র তিনদিনের মাথায় কাপ্তাই দিয়ে পানিপথে বিকল্প যান চলাচল শুরু হওয়ায় বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয় রাঙামাটির মানুষ।

বুধবার সড়কটি চালু করার সময় উপস্থিত ছিলেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ এন ছিদ্দিকুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগের তথা ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন, সওজ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আফতার হোসেন খান, রাঙামাটি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার গোলাম ফারুক, ইসিবির প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজাউল মজিদ, সওজ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, জোন কমান্ডার মো. রিদওয়ান ও সজও এর নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন প্রমুখ।

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের মানিকছড়ি এলাকা থেকে রানীরহাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়ক পথ প্রবল বর্ষনের কারনে ধসে যাওয়া সড়কের বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সেনাবাহিনী।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান