মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন আবু’র পাঁচ কবিতা

116

 

স্বপ্নের বাংলাদেশ- ১
তারিখ: ১২-০৮-২০১২

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ,
যা ছিল এদেশের মানুষের এক সময়ের স্বপ্নের নীড় স্বাধীন বঙ্গদেশ!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন শোষণহীন পূর্ব-পাকিস্তান,
যা ছিল এক সময়ের স্বাধীন সার্বভৌম ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন বৈষম্যহীন সোনার বাংলা গড়তে,
সময়ের আবর্তনে সুশাসনের অভাবে তা পরিণত হলো বৈষম্যের মর্ত্যে!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন বুভুক্ষূ মানুষের প্রগতি,
কালের স্রোতে অর্থনৈতিক বৈষম্যে তা হয়ে গেল বুভুক্ষূ মানুষের দূর্গতি!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি,
ধনী-গরীবের অর্থনৈতিক বৈষম্যে হয়ে গেল সাধারণ মানুষের জীবনমানের অবনতি!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি,
সময়ের বিবর্তনে তা বয়ে নিয়ে এলো শুধুই স্মৃতি!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন ফুটাতে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি,
অথচ স্বাধীনতার চার দশকের পরে দুঃখী মানুষের গলায় ফাঁসি!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন সকল মানুষের জন্য বাসস্থান,
স্বাধীনতার চার দশক পরে ২ কোটি মানুষের জন্য হয়ে গেল তা গোরস্থান!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন সোনার বাংলার সোনার মানুষ,
বাস্তবে দেশের ২ ভাগ মানুষ সোনার বাংলার রঙিন ফানুস!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছিলেন রহিতে পাকিস্তানের ২২ পরিবারের শোষণ,
তাইতো এদেশের দামাল ছেলে-মেয়েরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে, না করে তোষণ!
বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সম্পদের সুষম বন্টন ধরে রাখতে বাঙালীর কৃষ্টি,
কালের বিবর্তনে আজ বাঙালী সমাজে বাইশ হাজার পরিবারের সৃষ্টি!
বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন প্রাণচাঞ্চল্য ধীরস্থির খাঁটি মানুষ, যাকে বলা যায় সবাক,
বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ছাত্র-ছাত্রীরা আজ প্রতিবাদ না করে হয়ে গেল নির্বাক!
থাকতে অর্থ-সম্পদের ভান্ডার বন্টনের আশ্বাস, জনগণের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস,
অর্থের অভাবে ৮৫ ভাগ মানুষের জীবনে উঠে এসেছে দীর্ঘ নাভিশ্বাস!
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জীবন ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে চলে গেল পরপারে,
তাইতো ৮৫ ভাগ মানুষের জীবন অর্থনীতির মহাসংকটের গভীর আধারে!
ছাত্র-ছাত্রীরা ও যুব সমাজ কি ভুলে গিয়েছ তোমাদের পূর্বসুরিদের সংগ্রামের ঐতিহ্য স্মরণে,
অকুতোভয় বাংলার দামাল ছেলে-মেয়েরা জেগে উঠো, অসমাপ্ত স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি করণে।

বস্তিবাসী- ২
তারিখ: ১২-০৮-২০১২

তুমি কি কখনো ভেবে দেখেছ নিজের অর্থনৈতিক অবস্থান,
যদি ভেবেই থাকো তবে কেন এমন দুরাবস্থায় তোমার বাসস্থান!
ঢাকাসহ বড় বড় শহরের মানুষ বানিয়ে সুরম্য অট্টালিকা,
বাস করে সেথায় মহা ধুমধামে অথচ সবই শুধু মরীচিকা!
দেশের ৪০ লক্ষ ভাসমান পরিবারের নেই বাস করার মত ঘর,
কোন রকমে তারা আছে মাথা গুঁজে যার সবই অন্তঃসার!
তিল ধরার স্থান নেই ঘরে, গাঁদা-গাদি করা মানুষের শ্বাস,
এ বসত যেন ছাগলের পালের ঘরের মত গন্ধে ভরা বাতাস!
বিদ্যুৎ কখনও আসে কখনও চলে যায় অন্ধকার আর গরমে অতীষ্ঠ জীবন,
পানির বেগতিক অবস্থা- কখনও থাকে আবার কখনও যায় চলে দমন পীড়ন!
বহুমাত্রিক ব্যবহারে গ্যাসের সরবরাহ কখনও একেবারেই অপ্রতুল,
রান্নার কাজে এদের ব্যবহৃত গ্যাস সবসময়ই বিপদসংকূল!
ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার নেই কোন টাকা-কড়ি, মানসম্পন্ন পরিবেশ,
তাইতো এরা অকালেই বেড়িয়ে পড়ে রোজগারের খোঁজে সবিশেষ!
বর্ষার বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরে পানি ঢুকে অহরহ কেড়ে নেয় শান্তি,
জ্বর, কাশি, ঠান্ডা লেগে সকলেই একাকার নেই কোন প্রশান্তি!
কঠিন রোগের চিকিৎসায় এদের জোটেনা কোন টাকা-কড়ি,
তাইতো সরকারী হাসপাতালগুলোই থাকে শুধু নিশানার ছড়ি!
কাপড়-চোপড় ধোঁয়ার নেই কোন জায়গা লেগে থাকে অশান্তির ক্লান্তি,
মানুষের ব্যবহৃত কাপড় চোপড় হয়ে যায় নোংরা থাকেনা কোন শান্তি!
প্রতি পাঁচ বছর পর তোমার উপর জাতীয় পর্যায়ে আসে ভোট দেবার ভার,
টাকার বিনিময়ে তুমিতো বিক্রি হয়ে যাও, ফলে হারে গরীব বার বার!
তাইতো তোমাকে থাকতে হচ্ছে বস্তিতে বের হতে পারবেনা কোন কালে,
নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরে চাপাও দোষ অন্যের ঘাড়ে ও বিধাতারে সমান্তরালে!
লুটপাটকৃত অর্থের পান,বিড়ি,সিগারেট,কাপড়-চোপড়, টাকা-কড়ি নিতে পারো অবাধে,
কিন্তু ভোট তোমার পবিত্র আমানত দিবে বুঝে-শুনে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুবাদে!
এখনও সময় আছে ঘুরে দাঁড়াও, সমর্থন দাও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তাবিত ‘সমবাদ তত্ত্ব’কে,
তবেইতো খুঁজে পাবে তোমার স্বপ্নের পাঁকা ঘর, কর্ম ও স্বাভাবিক জীবনের সত্যকে!
দেশের ২ কোটি বস্তিবাসী জাগো, ঐক্যবদ্ধ হও দেশ ও নিজের প্রয়োজনে,
গড়ে তোল ‘গণতান্ত্রিক সমবাদ’ ও ‘সামাজিক অর্থনীতি’ মহাসমীকরণে!
ভেঙ্গে দাও, গুড়িয়ে দাও লুটপাটকারীদের কালো হাত, শোষকদের সমাহার,
কায়েম কর বাংলা তথা বিশ্বের অবহেলিত ৮৫ ভাগ মানুষের শান্তির নীহার।

দারিদ্র ও ক্ষুধা- ৩
তারিখ: ১২-০৮-২০১২

ক্ষুধায় কাতর দু’ভাই বোন বাবা-মা, গভীর রাতে তাদের দেখাচ্ছে কালো,
আশে-পাশে নিঝুম রাতের নিস্তব্ধতা শুধু জোনাকী পোঁকার আলো!
দারিদ্রের কষাঘাতে একে একে সবকিছুই খোয়ায়েছে তারা,
আছে শুধু বাপ-দাদার ভিটে-মাটির উপর খুঁপড়ী ঘর তালপাতায় মোড়া!
ছোট দু’টো ছেলে-মেয়ে দু’দিন যাবত উপোস রয়েছে ধ্যাণে রত,
ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে তারা, ঝরছে তাদের চোখের জল অনবরত!
হাতে নেই কোন টাকা-কড়ি যা দিয়ে খাবার কিনতে পারে মিটাতে ক্ষুধা,
পাড়া-পড়শীদের নিকট থেকে ধার করার বৃথা চেষ্টা চালায় পেতে অমৃত সুধা!
সবাই বলে ক্ষুধার্তকে দান কর অন্ন পেতে মহান আল্লাহর দিদার,
আসলে সবই মুখের বুলি বাস্তবে গরীব, ধনীর লোভ-লালসার শিকার!
পাড়া-পড়শীদের কারও কারও আছে ১২ মাসেরও অধিক সময়ের খাবার,
অথচ খাবারের অভাবে উপোস ছেলে-মেয়ে দু’টোর জুটলোনা একদিনের আহার!
ইসলামের সমনীতির বাণীতে অনেকেই নিজেকে দেখাতে চায় উদারতার চূড়ায়,
আসলে এরা লোক দেখানো সমনীতির ভন্ডামিতে ডুবে আছে উদারতার গোঁড়ায়!
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদের সুষ্ঠু বন্টনব্যবস্থায় সমবাদ তত্ত্বের ঝান্ডা ধর,
নতুন করে সারা বিশ্বের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে স্বাধীন কর!
মহান বিশ্বের অধিপতি দিয়েছেন মোদের অফুরন্ত সম্পদের বাহার,
নিজ স্বার্থে সম্পদ কুক্ষিগত করে মোরা নিশ্চিত করতে পারিনি তার ব্যবহার!
এখনতো নয় হযরত ওমর (রাঃ) শাসনব্যবস্থার যুগ, কে বহিবে খাবার গরীবের উঠানে,
তাইতো দু’টো ছেলে-মেয়ে দু’দিন যাবত রয়েছে উপোস, দেখেনা কেউ গোপনে!
নিজেকে দেখাও ইসলামের খিদমতগার, তবে কেন রাখোনা খোঁজ প্রতিবেশী সবার,
ভন্ডামী ছেড়ে ইসলামের সমনীতির আলোকে ক্ষুধার্তকে দাও খাবার!
দারিদ্রের কষাঘাতে নিমজ্জিত ক্ষুধার্তকে যখন খাবার দিতে প্রতিবেশীরা অপারগ,
তখনতো রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে ক্ষুধার্তকে পৌঁছে দেয়ার তোবারক!
সারা বিশ্বের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ পাকের দরবারে মোর ফরিয়াদ,
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দূর করে দাও ক্ষুধা ও দারিদ্রের পাতানো মসনদ-ফাঁদ!
‘সমবাদ নীতি’ চালু কর সর্বস্তরে যাতে রাষ্ট্রের কোন মানুষ কখনও না থাকে অভূক্ত,
তবেইতো প্রত্যেক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র হবে শান্তির অমোঘে মুক্ত।

তাজমহল- ৪
তারিখ: ১২-০৮-২০১২

শত শত বছরের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছ তুমি একাকী,
তোমার ভালবাসায় মুগ্ধ সারা বিশ্বের নর-নারী সখা-সখী!
সারা বিশ্বের মানুষ তোমাকে জানায় ভালবাসার সাদর সম্ভাষণ,
তাইতো তুমি মহীয়ান মানুষের ভালবাসার প্রতীক রতন!
মানুষে মানুষে ভালবাসা আছে বিধায় তোমাকে দেখে সবাই মহিমান্বিত,
শত শত বছরের স্মৃতির মোহে মানুষ তোমার ভালবাসায় সিক্ত!
তোমার অন্তরে শায়িত আছেন বাদশা শাহজাহানের সহধর্মিনী বেগম মমতাজ মহীয়সী নারী,
মমতাজের স্মৃতি রক্ষার্থেই বিশ্বের প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য আগ্রার তাজমহল চোখ ধাঁধানো পাথরের বেড়ি!
আগ্রার যমুনা নদীর তীরে ঘুমিয়ে আছেন শাহজাহানের সহধর্মিনী মমতাজ চির নিদ্রায়,
মমতাজের স্মৃতি ধরে রাখতে বাদশা শাহজাহান সেথায় বানালো সুরম্য অট্টালিকা স্বেচ্ছায়!
বেগম মমতাজের প্রতি বাদশা শাহজাহানের ভালবাসার নিদর্শনের স্মৃতি রক্ষার মর্মে,
নির্মিত হলো তাজমহল ২২ বছর ধরে ২২ হাজার নির্মাণকর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমে!
চির নিদ্রায় শায়িত হলেন বিশ্ব মানবের ভালবাসার প্রতীক শাহজাহানের দেহ তোমার বুকে,
তাইতো তোমার জীবন ধন্য তুমি বহিতেছ শাহজাহান আর মমতাজের প্রেমের সমাধি সুখে!
প্রতিদিন সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ নর-নারী তোমার আঙ্গিনায় জমায় ভীড়,
দেখিতে বাদশা শাহজাহান ও বেগম মমতাজের ভালবাসার প্রতীক উচ্চ করে শির!
ভারতের আগ্রার তাজমহল দেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ,
মনের অজান্তেই ভালবাসার মানুষটিকে ঘিরে আঁকে কল্পনার ফানুস!
বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে হলিউডের অভিনেতা রিচার্ড বার্টন দেখে তাজমহল আগ্রায়,
সফর সঙ্গী তাঁর স্ত্রী হলিউডের অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলর শোভা যাত্রায়!
তাজমহল দেখে আবেগাপ্লুত রিচার্ড বার্টন উপহার দিলেন এলিজাবেথ টেলরকে হীরার লকেট স্বেচ্ছায়,
যা একবিংশ শতাব্দীর ২য় দশকে নিলামে বিক্রি হলো ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলারে-পরিবারের শেষ ইচ্ছায়!
হায়রে আগ্রার তাজমহল মন কেড়ে নিলে বিশ্বের কত ভক্তকূলের,
এটাইতো মানুষের ভালবাসার নিদর্শনের প্রতীক গোলাপ ফুলের!
মনের মাধুরী দিয়ে বিশ্বের কোমলমতি মানুষ ফুলেল ভালবাসায় তোমাকে সাজায়,
তোমাকে ঘিরে কল্পনার ফানুসে মানুষ ভালবাসার মানুষকে নাচায়!
এসো বিশ্বের মানুষ ভালবাসার দৃঢ় বন্ধনে আমরা দূর করি সকল অনাচার,
তাহলেইতো বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি, মানুষে মানুষে গড়ে উঠবে সদাচার!
তাজমহল তুমি সারা বিশ্বের মানুষকে জাগ্রত করে তোল ভালবাসার মহিমায়,
তবেইতো বিশ্বের মানুষ কল্পনার ফানুসে চিরদিন স্মরণ করে রাখবে তোমায়।

নীরব দুর্ভিক্ষ- ৫
তারিখ: ১২-০৮-২০১২

ক্ষুধার্তকে কর অন্ন দান তবেইতো তুমি পাবে সম্মান,
ক্ষুধার্তকে তুমি চল এড়িয়ে তাইতো তোমার এত অসম্মান!
ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটফট করছে অগনিত মানুষ কেউ কি রাখে তাঁর খোঁজ?
অথচ পুঁজিবাদী বড় বাবু আয়োজন করেছেন টাকাওয়ালাদের ভোঁজ!
ধর্মেতো রয়েছে সকল মানুষের সমান অধিকার সাম্যের আমোঘ বাণী,
কে শোনে শ্রমজীবী, পেশাজীবী মেহনতি মানুষের দুঃখের কাহিনী!
অন্ন, বস্ত্র, ঔষধের সমাহারে বাজার সয়লাব নেই কোন দু®প্রাপ্যতা,
অথচ টাকা-কড়ির অভাবে সাধারণ মানুষের নেই ক্রয়ক্ষমতা!
মানুষ সুষম খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে রোগাক্রান্ত হয়ে দিশেহারা,
ঔষুধ কেনার নেই কোন টাকা-কড়ি আছে শুধু দুঃখের জীবনধারা!
অর্থের অভাবে গরীব দুঃখী মানুষ পরিধান করে জীর্ণ-শীর্ণ বস্ত্র সমভিব্যাহারে,
অথচ বাজারের দোকানগুলো ভরপুর পোষাকের মহা-সমারোহে!
সুষম খাদ্যের অভাবে গরীব-দুঃখী বুভুক্ষূ মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে,
অথচ দোকানে নেই কোন খাদ্যের অপ্রতুলতা, ধরেছে টাকা-কড়ির অভাবের রোগে!
শ্রমজীবী, পেশাজীবী, মেহনতি ও অল্প সংখ্যক বিত্তশালী মানুষের স্বল্প আয়ের দেশ,
তাইতো হিমশিম খায় গরীব-দুঃখী মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে বাংলাদেশ!
ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানোর সামর্থ নেই গরীব দুঃখী মানুষের,
যদিও শিক্ষাব্যবস্থা সবার জন্য উন্মুক্ত, অভাব শুধু সুশাসনের!
যোগাযোগ ব্যবস্থায় গরীব-দুঃখী মানুষ অর্থের অভাবে হিমশীম খায়,
অভাবের তাড়নায় সংসার পরিচালনায় তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়!
অর্থের দাপটে বিত্তশালী মানুষ গরীব-দুঃখীকে পদে পদে করে নিষ্পেশিত,
এদের মানবাধিকার রক্ষায় আসেনা কেউ এগিয়ে সবই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত!
বড় বাবুরা পিছন থেকে কল-কাঠি নেড়ে গরীব-দুঃখীদের করে পর্যুদস্থ,
অমাবস্যার রাতের ভয়াল অন্ধকারের চেয়েও এদের অন্তর দানবের কালিমায় বিপর্যস্থ!
বাইরে থেকে সচরাচর বুঝা যায় না এদের অন্ধকার জীবনের মোক্ষ,
আসলে ভেতরে ভেতরে চলছে বাংলা তথা বিশ্বের সর্বত্র ‘নীরব দুর্ভিক্ষ’!
আসুন সকলে মিলে বাংলা তথা বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করি ‘সমবাদ’ নীতি,
গড়ে তুলি বুভুক্ষূ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের রীতি।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি