মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন আবু’র কবিতাগুচ্ছ

133

সহনশীলতা
তারিখ: ১২-০৮-২০১২

প্রয়োজন অসীম ধৈর্য্যরে রাখতে শান্তি পরিবারে,
কর্তা বুঝলেও পরিবারের সদস্যরা তা বুঝতে পারে না সুবিস্তারে !
বাবা পরিবারের কর্তা হিসেবে অন্য সদস্যদের দিতে চায়না কোন ছাড়,
পরিবারের মূল ব্যক্তি মা কল-কাঠি নাড়লেও কৌশলে পেতে চায় পার!
প্রত্যেক পরিবারের বাবা-মা চায় সন্তানকে সুপথে চালাতে,
ছেলে-মেয়েরা মনে করে বাবা-মা মোদের দেয় না স্বায়ত্তশাসন!
এটা কি তাহলে নীরবে নিভৃতে তাদের করা হয় নিস্পেষণ,
শাসনের গন্ডি পেরিয়ে ছেলেমেয়েদেরকে গ্রাম/মহল্লায় বাস করতে হয় যৌথভাবে!
তাইতো পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে সমাজ অতীব সহজভাবে,
যদি প্রত্যেক পরিবারের সদস্যরা না হয় সহনশীল!
তাহলে কেমনে গড়ে উঠবে শান্তির সমাজ মননশীল,
শান্তির অমোঘ বাণী নিয়ে মানুষ যখন এগিয়ে যায়!
রাষ্ট্র তখন জনকল্যাণে তা কায়েমে দেয় পুরোপুরি সায়,
রাষ্ট্রে বিভিন্ন ভাষা, কৃষ্টি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের বসবাস!
কেউবা শান্তি চায় আবার কেউবা অসৎ পথে অর্থ উপার্জনে ধাবিত হয়ে ডেকে আনে সর্বনাশ,
মানুষ দারিদ্রের কষাঘাতেও যদি ধৈর্য্য ধরে সৎ থেকে করতে পারে সম্ভাবনাময় সৃষ্টি!
তবেইতো রাষ্ট্রে কায়েম হবে সহনশীল সমাজ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে গতানুগতিক কৃষ্টি,
সকলকেই হতে হবে সহনশীল তবেইতো রাষ্ট্রে কায়েম করা যাবে সুশাসন!
অধৈর্য্যশীল ও অসৎ মানুষের দ্বারা রাষ্ট্রে কায়েম হবে দুঃশাসন,
গণতন্ত্রের লেবাসে অনেকে জাতীয় সম্পদ লুটপাট করে বনেছে শিল্পপতি!
এতদসত্ত্বেও আমাদের সকলের সহনশীলতায় রাষ্ট্রে কায়েম হবে শান্তির প্রীতি,
সমাজতন্ত্রের ছদ্মাবরণে বিভিন্ন কায়দায় অনেকে হয়েছে সমাজপতি!
ইসলামী শাসনব্যবস্থার অন্তরালে অনেকে জাতীয় সম্পদ লুটপাট করে বনেছে পুঁজিপতি,
এরা আসলে দানব, সমাজ ও রাষ্ট্রের নিকট এদের নেই কোন দায়বদ্ধতা!
এরা ভীষণ লোভী ছোটে শুধু ক্ষমতা ও টাকার পিছনে নেই কোন সহনশীলতা,
ভোগবিলাশে মত্ত এরা এদের নেই কোন মানবপ্রীতি!
এদের আছে শুধু স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব গরীব ঠকানোর কেরামতি,
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্বে মানুষকে হতে হবে সহনশীল!
তাহলেইতো মানুষ একীভূত হবে সমবাদ নীতির মূল স্রোত ধারায়,
তবেইতো বিশ্ব হবে শান্তির নীড় অসংখ্য তারায়।

ধর্মীয় মূল্যবোধ
তারিখ: ১১/০৬/২০১৭
ঘুনে ধরা সমাজে সামাজিক অবক্ষয়ের বেড়াজালে মানুষ,
দুঃসহ বেদনায় ভারাক্রান্ত মানুষের চোখেমুখে রঙিন ফানুস!
একেক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার একেক আদর্শে মানুষের অগ্রযাত্রা দূরদিগন্তে,
ধর্মীয় মূল্যবোধকে অবজ্ঞা করে তাদের পথচলা নিরবে, নিভৃতে, অজান্তে!
কেউবা মার্কসবাদে বিশ্বাসী সমাজতন্ত্রের ঝান্ডা ধরে সাফল্যের আশায় বিভোর,
কেউবা সমাজতন্ত্রের শেষ ধাপ কমিউনিজমের সাফল্যের আশায় গুনে প্রহর!
কেউবা রুশপন্থী সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী সম্পদের সুষম বন্টনব্যবস্থার মহাকারিগর,
কেউবা চীনপন্থী কমিউনিজমে বিশ্বাসী সম্পদের সুষম বন্টনব্যবস্থার বাজিকর!
কেউবা পুঁজিবাদে বিশ্বাসী ভ্যাট ও করের মাধ্যমে সম্পদ বন্টনব্যবস্থার বলগাহীন কান্ডারী,
কেউবা পুঁজিবাদে বিশ্বাসী যাকাত, ফিতরা, দান-খয়রাতের সম্পদ বন্টনব্যবস্থার ভান্ডারী!
তাহলে কি সবাই নীতিহীন কর্মকান্ডের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের দিশারী?
ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে নিঃস্বার্থভাবে প্রবর্তন করতে হবে সম্পদ বন্টনের কারিগরী!
বিধাতা তোমার নিকট মোর ফরিয়াদ এদেরকে দাও রুহানী শক্তি,
যাতে সম্পদের বন্টনব্যবস্থায় এরা আনতে পারে গণমানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি!
যার মধ্যে আদর্শগতভাবে নেই ধর্মীয় মূল্যবোধের রীতি,
তিনি কিভাবে মানুষের জন্য কায়েম করবেন সাম্যের নীতি?
ভন্ডামী ছাড়, লোভ-লালসা ত্যাগ করতঃ সঠিক-সরল পথ ধর,
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্পদ বন্টনের সুষম নীতি প্রবর্তন কর।

রাজনীতি
তারিখ: ০৪/০৮/২০১৬ ইং

রাষ্ট্র পরিচালনায় তোমার ভূমিকা মূখ্য ও সুমহান,
বিশ্ব চায় তোমার স্বকীয় মহিমায় সর্বদা সঠিক অবস্থান!
তোমার দৈনন্দিন কর্মকান্ডে সারা বিশ্বের মানুষ সচল,
তোমার বিতর্কিত কর্মকান্ডে কখনও কখনও বিশ্বের মানুষ অচল!
তোমার সঠিক মানসম্পন্ন আচরণে বিশ্বের মানুষ গর্বিত,
তোমার অশুভ থাবায় বিশ্বের মানুষ মহাদূর্যোগে নিপতিত!
তোমার সঠিক কার্যকলাপে বিশ্বের অনেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মসনদে,
তোমার বিরূপ কার্যকলাপে অনেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হারিয়ে নিক্ষিপ্ত জনপদে!
মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরী হয় তোমার সুবাদে,
তোমার বিরূপ আচরণে মানুষের নিরাপত্তা বিঘিœত হয় বিষাদে!
রাজনীতি তোমার ঘাত প্রতিঘাতে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়,
তোমারই কোমল পরশে অনেকের ধন-সম্পদ পাহাড় ছাড়ায়!
তোমার কালো হাতের আশির্বাদে ২ ভাগ মানুষ উঠে আসে অতীব উচ্চবিত্তে,
রাজনীতি তোমার পরশে ভাগ মানুষ নি¤œ থেকে উঠে আসে সহসা উচ্চবিত্তে!
তোমারই ছত্রছায়ায় বিকশিত ৩০ ভাগ মানুষ উচ্চমধ্য ও মধ্যবিত্তে,
রাজনীতি তোমার শিকারী থাবায় ৩০ ভাগ মানুষ নেমে যায় নি¤œমধ্যবিত্তে!
তোমারই ভয়াল ছোবলে ৩৩ ভাগ মানুষ সর্বহারা শ্রেণী অবসাদ চিত্তে,
রাজনীতি তোমার উদ্ভট কর্মকান্ডে এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের ভয়ংকর যুদ্ধ বাঁধে!
লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন প্রদীপ নিভে যায়, আহত ও গৃহহারা অগণিত মানুষ কাঁদে,
রাজনীতি তোমারই আশির্বাদে ইহকালে কেউবা জাগতিক সম্পদে স্বর্গবাসী!
তোমারই অভিশাপে কেউবা জেলের ঘানী টেনে পরপারের যাত্রী তথা সর্বনাশী,
বিধাতা তোমার নিকট আমার ফরিয়াদ মানুষের জীবন মান উন্নয়নে!
কমিয়ে দাও ধনী-গরীবের ব্যবধান রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষম বন্টনে।

গণতান্ত্রিক সমবাদ
তারিখ: ০৫/০৮/২০১৭

প্রতি ৫ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসে ৩০০ আসনে সানন্দে,
রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচনে দাঁড়ায় সাংসদ হওয়ার প্রত্যয়ে মহাআনন্দে!
প্রার্থী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত টাকা ব্যয় করতে পারবেন নির্বাচনে,
ঐ পরিমাণ টাকা সৎ প্রার্থীরা কি কখনও জোগাড় করতে পারবেন নিজের অর্থায়নে?
অসৎ প্রার্থীদের যারা অতীতে করেছে জাতীয় সম্পদ লুটপাট নিপুনে,
এবার তারা খরচ করবে সম্ভবতঃ কয়েক কোটি টাকা অতীব গোপনে!
সকল প্রার্থীদের জন্য থাকা উচিৎ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সাংসদ নির্বাচনে,
বড় দলগুলোর প্রার্থীরা অঢেল টাকা খরচ করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে পাঠায় নির্বাসনে!
টাকার জোরে অসৎ প্রার্থীরা ব্যবহার করে মাসলম্যানদের করতে ভোটারদের প্রভাবিত,
এতে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে বিজয়ী হয়ে যায় সম্ভাব্য পরাজিত প্রার্থী অবারিত!
সরকারী টাকায় সকল প্রার্থীর জন্য ছাপিয়ে সমান সংখ্যক পোষ্টার,
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে এমন বিধান এখন দরকার!
নির্ধারিত কয়েকটি স্থানে সরকারী টাকায় মঞ্চ বানিয়ে প্রার্থীদের করে দেবে শাসন,
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে প্রার্থীরা ঐ সকল মঞ্চে নির্ধারিত সময়ে দিবেন ভাষণ!
প্রার্থীরা সরাসরি যাবেন না বাড়ী বাড়ী দীক্ষার মাধ্যমে করতে ভোটের ভিক্ষা,
প্রার্থীদের ভাষণের কারিশমাতেই জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীদের দিয়ে দিবে সুশিক্ষা!
নির্বাচনে পান-বিড়ি, সিগারেট, লুঙ্গি, শাড়ী, টাকাকড়ি খরচ করার থাকবেনা কোন সুযোগ,
এতে অনেকটা কাটিয়ে উঠা যাবে নির্বাচনে প্রার্থীদের কারচুপি করার দুর্যোগ!
সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে এমন নিয়মকানুন প্রবর্তনে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হোন নিভৃতে নিরবে,
জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি আনয়নে ও সুশাসন প্রাতিষ্ঠায় সকলে আসুন বিপ্লবী চেতনার সৌরভে।

বড় ভাই
তারিখ: ৩১/০৭/২০১৬

বড় ভাই তুমি কেমন আছ শ্বাশ্বত এ বিশ্বে জানতে বড় ইচ্ছে লাগে,
তোমার পদচারণায় বাংলা তথা বিশ্বের জনপদ মহাবিপর্যয়ে জাগে!
বড় ভাই তোমার ভয়ংকর পরিকল্পনার নৃশংসতায় হাজারো মানুষের জীবনাবসান ঘটে,
নিঃসন্দেহে তুমি কালের ভয়ংকর মূর্তিমান দানব বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে!
বড় ভাই তুমি মানুষ হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাও অতীব গোপনে, নিভৃতে ও নিরবে,
তোমার ঈশারায় ছোট ভাইয়েরা মানুষ হত্যা করে বোমা আর অস্ত্রের তান্ডবলীলায় সরবে!
বড় ভাই তোমার দূর্ভেদ্য দীক্ষা পেয়ে এগিয়ে চলছে ছোট ভাইদের কঠিন ব্রত,
মনের অজান্তেই তোমার ছোট ভাইয়েরা বোমাবাজি আর অস্ত্রের তান্ডবলীলায় রত!
বড় ভাইয়ের হাতের ঈশারায় জেগে উঠে ছোট ভাইদের হৃদয় কঠিন ব্রতে,
এতেই হাজারো মানুষের জীবন প্রদীপ নিভে যায় গুলি আর বোমাবাজির ¯্রােতে!
বড় ভাই তুমি কি কখনও অনুধাবন করেছ সন্ত্রাসের ছোবলে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের আকুতি,
সরেজমিনে দেখে যাও তোমার দীক্ষিত ছোট ভাইদের জীবন সংহার করুণ পরিণতি!
সাম্য বা জিহাদের নামে তোমার আদেশে ছোট ভাইদের বোমা আর অস্ত্রের আঘাতে,
ক্ষতবিক্ষত হয়ে নিভে যায় মর্ত্যরে হাজারো মানুষের প্রাণের স্পন্দন দারুণ কষাঘাতে!
বড় ভাই তুমি কি ভেবে দেখেছ ঝরে যাওয়া ছোট ভাইদের বাবা-মা’র হৃদয়ের ক্ষত,
এমন কাজ তুমি করোনা বড় ভাই যাতে জাতি হয়ে যায় লাশের সমারোহে ক্ষতবিক্ষত!
বড় ভাই তুমি থামাও তোমার ভয়ংকর নৃশংসতা বোমাবাজি আর অস্ত্রের মহড়া,
ক্ষমতা বা টাকার লোভে সাম্য বা জিহাদের নামে আর করোনা মায়ের বুক খালি রক্তের কঢ়ড়া!
বড় ভাই তুমি খুন-খারাবি এড়িয়ে এগিয়ে চল তোমার আদর্শের বাণী নিয়ে মর্ত্যরে রথে,
কুরআনের মর্মবাণী সাম্য বা জিহাদের সঠিক অর্থে মানুষকে পরিচালনা কর সত্যের পথে!
বিধাতা তোমার নিকট ফরিয়াদ, বন্ধ করে দাও বোমাবাজি আর অস্ত্রের মেলা,
থামাও এ ধরায় বড় ভাই ও ছোট ভাইদের রক্ত ¯্রােতের লীলা খেলা!
এসব অবুঝ বড় ভাই ও ছোট ভাইদেরকে ক্ষমা করে দাও সরায়,
বর্ষিত কর শান্তির শাশ্বত ধারা বাংলা তথা সারা বিশ্ব ধরায়।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান। ৭ অক্টোবর ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি