মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন আবু’র দুটি কবিতা

471

“পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি”
তারিখ: ১২-০৭-২০১২

সংখ্যাগরিষ্ঠ মগ, হাজং, মারমা, মং, চাকমা ও সংখ্যালঘু বাঙালী,
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও রাঙামাটি অঞ্চলের কান্ডারী!
এক সময়ের স্বতন্ত্র রাজ্য আরাকানের ছিল মহাসমারোহের আবাসন,
অবিভক্ত ভারতের অংশ হিসেবে বৃটিশ শাসনামলে আরাকানে এলো বাংলার শাসন!
বাংলার সুবেদার দিল্লীর বাদশা শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র সুজা পরিবারসহ অতিসংগোপনে,
শাহজাহানের তৃতীয় পুত্র আওরঙ্গজেব এর বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালালেন আরাকানে!
বাংলায় লুটপাটেরত অবদমিত আরাকানের দস্যুরা নৃশংসভাবে হত্যা করলো তাঁদেরকে অতি গোপনে,
বৃটিশরা অবিভক্ত ভারত ছাড়লে আংশিক আরাকান এলো পূর্ব পাকিস্তানের শাসনাধীনে!
বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ১৯৭১ এ পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার জন্য শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ,
এতে পূর্ব পাকিস্তান হলো স্বাধীন বাংলাদেশ, পাকিস্তান হলো ক্ষুব্ধ!
আমরা পেলাম স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তৎকালীন আংশিক আরাকান সুদ্ধ,
আদিবাসী মগ, হাজং, মারমা, মং ও চাকমারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহযোগিতায় ধরে রাখতে তাদের কৃষ্টি;
ঝাঁপিয়ে পড়লো সশস্ত্র যুদ্ধে শান্তিবাহিনী যা তিন দশকেরও অধিক সময়ের সৃষ্টি!
বাংলাদেশ সরকার এদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নামায় সেনাবাহিনী,
এতে বেপরোয়া হয়ে উঠলো মগ, হাজং, মারমা, মং ও চাকমার সশস্ত্রবাহিনী!
জোতিন্দ্রিয় বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)-র নেতৃত্বে সশস্ত্র যুদ্ধে এলো জনসংহতি সমিতির ‘ শান্তিবাহিনী’,
তিন দশকের যুদ্ধে ঝড়ে যাওয়া ৩০ হাজার বাঙালী-পাহাড়ী এবং সেনা ও শান্তিবাহিনীর কাহিনী।
তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন সংকটাপন্ন পরিবেশের উত্তরণে,
ইস্পাত কঠিন ব্রত নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলেন রাজনৈতিক শান্তির সমীকরণে!
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চললো শান্তির আলোচনা,
সংখ্যাগরিষ্ঠ পাহাড়ী জনসাধারণকে স্বায়ত্তশাসন দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে শুরু হলো সমালোচনা!
সকল বাঁধা বিপত্তি এড়িয়ে ১৯৯৭ এ স্বাক্ষরিত হলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি,
এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন দেয়ায় বিশ্বে উজ্জল হলো বাংলাদেশের শান্তির ভাবমূর্তি!
অবশেষে এতে ঘটলো বহুল আলোচিত দীর্ঘ ত্রিশ বছরের সশস্ত্র যুদ্ধের পরিসমাপ্তি,
এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাঙালী-পাহাড়ীরা পেল শান্তির সুবাতাস ও মহাতৃপ্তি!
যেমনটি হয়েছিল, ১৯৭৮ এ ইসরাইল ও মিশরের ‘ক্যাম্প ডেভিড’ চুক্তি,
১৯৯৩ এ ইসরাইল ও পিএলও-র ‘ফিলিস্তিন-ইসরাইল স্বায়ত্বশাসন চুক্তি।

চাঁপা কান্না
তারিখ: ১২-০৭-২০১২

মোদের যারা করেছে কঙ্কাল;
তারা হলেন আজ সমাজের জঞ্জাল!
জনগণ যাদের বানালেন মহারথি;
সুযোগ বুঝে তারা হলেন- পূণ্যবতি!
তাদের ঝুলিতে নক্ষত্রখচিত হীরক-রতেœর সমাহার;
জনগণের ঝুলিতে শুধু নীরব কান্না আর হাহাকার!
বুভুক্ষু মানুষের পেটে ক্ষুধার যন্ত্রণা;
তারা শুধু পায় মহারথিদের শান্তনা!
পৃথিবীতে গড়ে উঠছে অস্ত্রের ভান্ডার;
অথচ অর্থের অভাবে অনেকে বস্ত্রের কান্ডার!
খোলা আকাশের নীচে অনেকের বাসস্থান;
এভাবেই নেবেন তারা পৃথিবী থেকে প্রস্থান!
বিত্তবানরা মুনাফার লোভে উন্মুক্ত করছে চিকিৎসার নতুন দ্বার;
অথচ হতদরিদ্র মানুষ টাকার অভাবে চিকিৎসার দ্বারে অন্তঃসার!
সুশিক্ষার অভাবে অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী;
রাখে কি তাঁদের খোঁজ-খবর সমাজের মহারাজা-মহারাণী!
চারিদিকে শুধু বুভুক্ষু মানুষের ‘চাঁপা কান্না’;
আমরা কি পারব না দিতে তাদের পান্না।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান। ৬ জুলাই ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি: