মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন আবু’র কবিতা

221

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
তারিখ: ১২-০৭-২০১২

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তুমি চেয়েছিলে শোষণহীন স্বদেশ
তাই তো আমরা পেলাম স্বাধীন বাংলাদেশ,
বঙ্গবন্ধু তুমি বলেছিলে পূর্ব-পাকিস্তানের ২৩ বছরের ইতিহাসের ধারা
শুধু শোষণ আর বঞ্চনার ইতিহাসে ভরা
ইহাই বাংলার মানুষের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস।
বঙ্গবন্ধু তুমি ঐক্যবদ্ধ করেছিলে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষেরে
তাই বাংলার দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে নিয়েছিল পেতে স্বাধীন বাংলাদেশেরে,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তুমি চেয়েছিলে সকল মানুষের দু’বেলা দু’মুঠো ভাত
এটা নিশ্চিত করতেই গড়েছিলে বাকশাল,
যারা গণতন্ত্রের নামে বাকশালের বিরোধিতা করে মঞ্চ কাঁপায়
তারাইতো বুভুক্ষূ মানুষেরে কোনঠাসা করে শোষণ চালায়,
বঙ্গবন্ধু তোমাকে হত্যা করা হলো তথাকথিত গণতন্ত্রের জয়গানে
বাংলার মানুষ পড়ে গেল পুঁজিবাদের রোষানলে,
গণতন্ত্রের জিগিরে বাকশালকে বলা হলো স্বাধীনতা হরণকারী
অথচ গণতন্ত্রের বেড়াজালে সাধারণ মানুষ হয়ে গেল চির দুঃস্বপ্নধারী,
হায়! গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী কিছু মানুষের আয় বেড়ে গেল আকাশচুম্বী
এভাবেই ২২ হাজার পরিবার বনে গেল মাসলম্যান পুঁজিপতি,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তুমি দেখে যাও তাদের চলমান শিল্পনীতি।
সারাদেশে ১২ লক্ষ পরিবার আজ সহায় সম্বল হারানো গৃহহীন ভাসমান,
এটাতো নয় বঙ্গবন্ধু তোমার সোনার বাংলার মান।

গড্ফাদার
তারিখ: ৩০-০৭-২০১২

দেখা যায় সচরাচর অতীব ভদ্র মানুষ,
আসলে ভেতরটা এদের রঙ্গীন ফানুস!
অপরাজনীতির সুবাদে অর্থ লুটপাট করেছে অবাধে,
বনে গেছে শিল্পপতি লুটপাটকৃত অর্থের সুবাদে!
শোষণ করেছে পনেরো কোটি গণমানুষের ধন,
সামান্য দান-খয়রাত করে কেঁড়ে নিয়েছে কিছু মানুষের মন!
এরা আসলে জোঁকের চেয়েও ভয়ংকর শোষক মানুষরূপী শয়তান,
তাইতো পনেরো কোটি মানুষের দুঃখের জীবনমান!
এদের আছে শুধু লোক দেখানো সামাজিকতা, নেই কোন মানসম্মান,
অর্থের লোভে এরা দিশেহারা ইবলিস শয়তান!
পার্থিব লোভ-লালসার তরে ভয়ংকর এদের মুখের ভাষা,
সৎ মানুষকে বেকায়দায় রেখে করে ফেলে কোনঠাসা!
এরা কি মানুষ, দৈত্য, জ্বীন, না জানোয়ার?
আসলে সময়ের বিবর্তনে এরা মর্ত্যরে ‘গড্ফাদার’!
জোঁকের সাথে যেমন হতে পারে না মানুষের হৃদয়তা,
এদের সাথে তেমনি হতে পারে না সাধারণ মানুষের সখ্যতা!
বাংলা তথা তৃতীয় বিশ্বের মানুষ আজ মহাসংকটের অতলে,
মুখোশধারী কিছু ভন্ড মানুষের ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে!
যদি এরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে থাকে বহাল তবিয়তে জ্যান্ত,
তাহলে সাধারণ মানুষকে এরা করে ফেলবে সর্বস্বান্ত!
ভেঙ্গে দাও, গুঁড়িয়ে দাও এসব মুখোশধারী শয়তানের হাত,
কায়েম কর শান্তির নীড় সারা দুনিয়ার মানুষের দিনরাত!
সারা বিশ্বের অধিপতি বিধাতা তোমার নিকট ফরিয়াদ আমার,
জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও এদের অন্তরের কালাপাহাড়!
ক্ষমা করে দাও, এসকল ভন্ড মানুষের পাপের ভয়াল ভান্ডার,
বিধাতা তোমার কুদরতে থামাও এসব গড্ফাদারদের সমাহার।

পদ্মা সেতু
তারিখ: ১২-০৭-২০১২

বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘুমিয়ে আছে যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
কেমনে সহজে পার হবো বিশাল পদ্মা নদী যাব সে অঞ্চলে,
পদ্মা তুমি বলে দাও মোদের, যাতে পার হতে পারি সানন্দে
বাতলে দাও পার হবার পথ পদ্মা আমাদেরে মহা-আনন্দে,
পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকা, যদিও নাই মোদের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা
পনেরো কোটি মানুষ নিঃসন্দেহে তা করবে ব্যয়, নাই বা পেলাম দাতা,
বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি দেশরতœ শেখ হাসিনা তোমার নেই কোন ভয়
এগিয়ে যাও, শুরু করো নির্মাণ না রেখে কোন সংশয়,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যেমন যুদ্ধ করে এনেছে বাংলার স্বাধীনতা
তুমি তাঁর যোগ্য কন্যা হিসেবে দেখিয়ে যাও মহানুভবতা,
বিশ্বব্যাংক তুমি কেন দূর্ণীতির খোঁড়া অজুহাতে বন্ধ করলে পদ্মা সেতু- ঋণ
এতে তো বাংলার মানুষের মাথায় বিদ্ধ হলো তোমার হাতের তীর,
একবারও কি ভাবলে না পনেরো কোটি মানুষের কথা
তোমার কি নেই বাংলার মানুষের জন্য কোন মহানুভবতা,
বিশ্বব্যাংক তুমি পুণর্বিবেচনা করো পদ্মা সেতুর  ঋণের চুক্তি
সকল বেড়াজাল পেরিয়ে যদি চুক্তি কর তাতেই হবে তোমার মুক্তি,
পনেরো কোটি মানুষ সমর্থন করো শেখ হাসিনার কথোপকথনের হেতু
যাতে তিনি অতি সহজেই নির্মাণ করতে পারেন পদ্মা সেতু,
শেখ হাসিনা তুমি এগিয়ে যাও অর্থ সংগ্রহের কাজে
দেশীয় অর্থেই নির্মাণ করা যাবে পদ্মা সেতু অতি সহজে।

“পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি”
তারিখ: ১২-০৭-২০১২

সংখ্যাগরিষ্ঠ মগ, হাজং, মারমা, মং, চাকমা ও সংখ্যালঘু বাঙালী,
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও রাঙামাটি অঞ্চলের কান্ডারী!
এক সময়ের স্বতন্ত্র রাজ্য আরাকানের ছিল মহাসমারোহের আবাসন,
অবিভক্ত ভারতের অংশ হিসেবে বৃটিশ শাসনামলে আরাকানে এলো বাংলার শাসন!
বাংলার সুবেদার দিল্লীর বাদশা শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র সুজা পরিবারসহ অতিসংগোপনে,
শাহজাহানের তৃতীয় পুত্র আওরঙ্গজেব এর বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালালেন আরাকানে!
বাংলায় লুটপাটেরত অবদমিত আরাকানের দস্যুরা নৃশংসভাবে হত্যা করলো তাঁদেরকে অতি গোপনে,
বৃটিশরা অবিভক্ত ভারত ছাড়লে আংশিক আরাকান এলো পূর্ব পাকিস্তানের শাসনাধীনে!
বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ১৯৭১ এ পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার জন্য শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ,
এতে পূর্ব পাকিস্তান হলো স্বাধীন বাংলাদেশ, পাকিস্তান হলো ক্ষুব্ধ!
আমরা পেলাম স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তৎকালীন আংশিক আরাকান সুদ্ধ,
আদিবাসী মগ, হাজং, মারমা, মং ও চাকমারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহযোগিতায় ধরে রাখতে তাদের কৃষ্টি;
ঝাঁপিয়ে পড়লো সশস্ত্র যুদ্ধে শান্তিবাহিনী যা তিন দশকেরও অধিক সময়ের সৃষ্টি!
বাংলাদেশ সরকার এদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নামায় সেনাবাহিনী,
এতে বেপরোয়া হয়ে উঠলো মগ, হাজং, মারমা, মং ও চাকমার সশস্ত্রবাহিনী!
জোতিন্দ্রিয় বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)-র নেতৃত্বে সশস্ত্র যুদ্ধে এলো জনসংহতি সমিতির ‘ শান্তিবাহিনী’,
তিন দশকের যুদ্ধে ঝড়ে যাওয়া ৩০ হাজার বাঙালী-পাহাড়ী এবং সেনা ও শান্তিবাহিনীর কাহিনী।
তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন সংকটাপন্ন পরিবেশের উত্তরণে,
ইস্পাত কঠিন ব্রত নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলেন রাজনৈতিক শান্তির সমীকরণে!
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চললো শান্তির আলোচনা,
সংখ্যাগরিষ্ঠ পাহাড়ী জনসাধারণকে স্বায়ত্তশাসন দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে শুরু হলো সমালোচনা!
সকল বাঁধা বিপত্তি এড়িয়ে ১৯৯৭ এ স্বাক্ষরিত হলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি,
এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন দেয়ায় বিশ্বে উজ্জল হলো বাংলাদেশের শান্তির ভাবমূর্তি!
অবশেষে এতে ঘটলো বহুল আলোচিত দীর্ঘ ত্রিশ বছরের সশস্ত্র যুদ্ধের পরিসমাপ্তি,
এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাঙালী-পাহাড়ীরা পেল শান্তির সুবাতাস ও মহাতৃপ্তি!
যেমনটি হয়েছিল, ১৯৭৮ এ ইসরাইল ও মিশরের ‘ক্যাম্প ডেভিড’ চুক্তি,
১৯৯৩ এ ইসরাইল ও পিএলও-র ‘ফিলি¯িতন-ইসরাইল স্বায়ত্বশাসন চুক্তি।

‘সামাজিক অর্থনীতি’
তারিখ: ১২-০৮-২০১২

মক্কায় এলেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মনীষি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) চতুর্দিকে পড়ে গেল সারা,
পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষ-তরুলতা, নদী-সাগর ও মুত্তালিব পরিবার আনন্দে আত্মহারা!
এসময় আরবের বিভিন্ন গোত্রে গোত্রে ছিল খুন-খারাবী, মারামারি ও হানাহানি,
তিনি তা বন্ধ করতে উদ্যোগ নিতেই হলেন প্রতিনিয়ত হয়রানী!
তিনি রচনা করলেন মদিনা সনদ যা প্রকারান্তরে বিশ্বের ১ম সংবিধান,
যাকে আজ আমরা অতি সহজেই বলতে পারি গণতন্ত্রের ১ম বিধান!
গণতন্ত্রের বিধানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ব্যাতীত নেই কোন বিশেষ মতবাদ,
যাকে আমরা অতি সহজেই বলতে পারি ‘গণতান্ত্রিক সমবাদ’!
সম্পদের সুষম বন্টনে আরব সমাজে তিনি কায়েম করলেন ‘সাম্য রীতি’,
যাকে আমরা অতি সহজেই বলতে পারি ‘সামাজিক অর্থনীতি’!
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কায়েম করলেন গণতন্ত্র ও সাম্য রীতি মতবাদ,
আধুনিক যুগে যাকে আমরা অতি সহজেই বলতে পারি ‘সমবাদ’!
বুভুক্ষূ মানুষকে বাঁচাতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ‘সাম্য রীতি’ মতবাদ,
যা প্রকারান্তরে আরব জাহানে হযরত ওমর (রাঃ) এর সাম্যবাদ!
সারা বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রে আছে শুধু গণতান্ত্রিক মতবাদ,
সেখানে নেই কোন ‘সামাজিক অর্থনীতি’ বা ‘অর্থনৈতিক সাম্যবাদ’!
সারা বিশ্বের কিছু সংখ্যক রাষ্ট্রে আছে শুধু সমাজতান্ত্রিক মতবাদ,
সেখানে নেই কোন ‘গণতান্ত্রিক সমবাদ’ ও অর্থনৈতিক সাম্যবাদ!
কার্ল মার্কস বিশ্বে প্রবর্তন করলেন সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম মতবাদ,
তাতে তিনি জুড়ে দিলেন আধা জাহানের খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) এর ‘সাম্যবাদ’!
কার্ল মার্কসের উধং ঈধঢ়রঃধষ এর অনুকরণে কিছু সংখ্যক রাষ্ট্রে প্রবর্তিত হলো সমাজতন্ত্র,
থাকলো না তাতে গণমানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির দিক নির্দেশনা সম্বলিত সমবাদের মন্ত্র!
তাইতো সারা বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে আজ বুভুক্ষূ মানুষের হাহাকার,
বাস্তবে আজকের বিশ্বের কোথাও নেই তার কোন প্রতিকার!
সারা বিশ্বের মানুষ জাগো ঐক্যবদ্ধ হও কায়েম করতে ‘সমবাদ’,
যাতে রয়েছে ‘গণতান্ত্রিক সমবাদ’ ও ‘সামাজিক অর্থনীতি’ মতবাদ!
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এর নেই কোন বিকল্প,
তাই আসুন সকলে মিলে বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করি ‘সমবাদ’ প্রকল্প!
আজকের বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের ৯৮ ভাগের আকুতি,
আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিষ্ঠা করি ‘সামাজিক অর্থনীতি’!

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান। ২৪ জুলাই ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি: