মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকা মানুষ পাহাড় ছাড়ছে না ॥ প্রশাসনের চেষ্টা অব্যাহত

309
॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা পাহাড় ছাড়তে নারাজ। তাদের ভাব, ‘মরবো কিন্তু ভিটে ছাড়বো না’। এভাবেই অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন রাঙামাটি শহরের রূপ নগর এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরীজিবী মো. ইব্রাহিম।

এদিকে গত তিনদিন ধরে রাঙামাটিতে ভারী বর্ষণের ফলে রাঙামাটিতে আবারো পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ে বসবাসরতরা আতঙ্কে দিন কাটালেও পাহাড় থেকে সরে যাচ্ছে না। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন উদ্ববেগ প্রকাশ করেছেন।

ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার সাথে সাথে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন পাহাড়ে বসবাসরত ঝুকিঁপূর্ণদের পাহাড় থেকে সরিয়ে নিতে প্রতিনিয়ত মাইকিং করে যাচ্ছে।  কিন্তু পাহাড় থেকে কেউ কেউ নিরাপদ স্থানে সরে গেলেও বেশিরভাগ মানুষ পাহাড়ে থেকে যাচ্ছে না।
সরেজমিনে গেলে কথা হয়, রাঙামাটি শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রূপ নগর এলাকায় বসবাসরত একাধিক বাসিন্দাদের সাথে।

তাদের দাবি, পাহাড় ছেড়ে কোথায় যাবো। আমাদের ভিটেমাটি নেই, মাথা গুজার ঠাঁই নেই। মরলেও পাহাড়ে থাকতে হবে। ওই এলাকায় বসবাসকারী মিনারা বেগম জানান, আমরা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছি। গত বছর ছাড়া কখনো এই এলাকায় পাহাড় ধস হয়নি। রহিমা বেগম নামের আরেকজন  জানান, ভিটেমাটি ছেড়ে যাওয়ার কোন জায়গা নেই। বাসা-বাড়ি ভাড়া করে থাকার কোন ক্ষমতা নেয়। তাই  মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের রূপ নগর এলাকা, পশ্চিম মুসলিম পাড়া, মুনতলা, রাঙাপানি, শিমুলতলী, সড়ক ও জনপদ পাশ্ববর্তী এলাকাকে স্থানীয় প্রশাসন পাহাড় ধসের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে।  তাই ওইসব এলাকার মানুষের জানমালের কথা চিন্তা করে বৃষ্টি আরম্ভ হওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসন ওইসব এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনকে সড়িয়ে নিতে মাইকিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি)  তাপস শীল জানান, যে কোন দূর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিনিয়ন জেলা প্রশাসন বৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথে ঝুঁকিপূর্ণদের পাহাড় থেকে সরিয়ে নিতে কাজ করছে এবং এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সকাল থেকে  ৮ টি স্পিলওয়ে দিয়ে ছয় ইঞ্চি খুলে দিয়ে  প্রতি সেকেন্ড  ৪হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দিচ্ছে। অপরদিকে টানা বর্ষণের কারণে বান্দরবান- রাজস্থলী উপজেলা সংযোগ সড়ক এবং রাজস্থলী এবং রাঙামাটি সংযোগ সড়কের বেশকিছু সড়ক ধসে গেছে। ধসে যাওয়া সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।