মেয়েকে শশুরবাড়ীতে দেখতে গিয়ে হেনস্তার শিকার মা

405

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

রাঙামাটি শহরের শিমুলতলী এলাকায় নিজের মেয়েকে তার শশুড়বাড়ীতে দেখতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন রেহেনা বেগম নামের এক মহিলা। এবিষয়ে তিনি গত ৩ জানুয়ারি রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, সোমবার (৩ জানুয়ারি) বিকাল আনুমানিক ৪টায় তিনি তার মেয়েকে দেখতে বেতারকেন্দ্র, নতুনপাড়া পুলিশ বক্সের পাশে দেখতে যায়। এসময় রেহেনা বেগমের মেয়ে তার সাথে দেখা করতে চাইলে মেয়ের নন্নস (স্বামীর বড় বোন) মনি আক্তার (৩৫), তাসলিমা আক্তার, শাশুরী মিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করতে শুরু করে এসময় তিনি তাদের আটকাতে গেলে আমাকেও তারা ব্যাপক মারধর করে।

ঘটনা সূত্রে তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রায় ৪মাস আগে তার মেয়ের সাথে মো. শরিফুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্নভাবে আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমার মেয়েকে নির্যাতনের হাহ থেকে বাঁচাতে বেশ কয়েকবার টাকাসহ ফার্নিচার প্রদান করেছি। কিন্তু এরপরও নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় মাস খানেক আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মেয়েকে আমার বাসায় নিয়ে আসি। গত ২৩ ডিসেম্বর আমাদের না জানিয়ে মারী স্টেডিয়ামের একটি অনুষ্ঠান থেকে আমার মেয়েকে শরিফুল নিয়ে যায়। বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে আমরা জানতে পারি আমার মেয়ে তাদের বাসায় আছে। তাই আমি ৩ জানুয়ারি মেয়েকে দেখতে যাই। কিন্তু যাওয়ার পর আমি ও আমার মেয়ের সাথে শরিফুলের পরিবারের লোকজন যে ঘটনা ঘটিয়েছে আমি তার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। এঘটনার পর তিনি রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর জোসনা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি, রেহেনা বেগমের মেয়ের শান্তির কথা ভেবে কয়েকবার নগদ অর্থ ও ফার্নিচার প্রদানের বিষয়ে তিনি অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি এবিষটি নিয়ে কয়েকবার বৈঠকে বসেছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন এবং তাদের সামনেই মেয়ের বাবাকে শরিফুল দা নিয়ে আক্রমন করতে এসেছিলো বলেও জানান।

এবিষয়ে শরিফুলের বোন মনির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের শাশুরী আমার মাকে মেরে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন কেড়ে নিয়ে গেছে। শরিফুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানায় এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছু জানিনা।

রেহানা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের জানায়, আমার মা আসার পর কথা কাটাকাটি হয়েছে এরপর মারামারি হইছে কিনা আমি দেখি নাই আমি ঘরের ভেতরে চলে আসছিলাম পরে কি ঘটেছে আমি জানি না।
অপরদিকে শরিফুলের পিতা বুরুজ আলীর কাছে জানতে চাইলে সে কিছু জানেনা বলে প্রতিবেদককে জানান। পরে তিনি প্রতিবেদকের নাম্বারে ফোন করে তার কাছে এবিষয়ে কেন জানতে চাওয়া হলো তা জানতে চেয়ে অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে কল কেটে দেয়। এদিকে বুরুজ আলীর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় সে নিজেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান বলে দাবী করেন।

যদিও রাঙামাটি জেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুশ শুক্কুর তালুকদারের সাখেথ যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বুরুজ আলী নামে রাঙামাটিতে আমাদের তালিকায় কোন মুক্তিযোদ্ধা নেই। সে কেন বা কিভাবে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করছে তা আমার জানা নাই।

কোতয়ালী থানার এসআই নয়ন কুমার চক্রবর্তী জানান দু পক্ষই অভিযোগ দাখিল করেছে যেহেতেু একটি পারিবারিক বিষয় তাই আমারা বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখছি