যথাযোগ্য মর্যাদায় রাঙামাটিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

370

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার শপথ, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় রাঙামাটিতে উদযাপিত হয়েছে ৫২তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ উপলক্ষে জেলা সদরসহ দশ উপজেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি ও বেসরকারিভাবে দিনব্যাপী পালিত হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। সূর্যদোয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনীর মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। এর পরপরই মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার প্রতি গভির শ্রদ্ধানিবেদন করে শহীদ মিনারে পূষ্পার্ঘ প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রথমেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান; এসময় তাঁর সাথে ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেনসহ জেলাপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

এদিকে শহীদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে পূষ্পর্ঘ্য অর্পণ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।

শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিকতা চলার সময়ই বিজিবি রাঙামাটি সেক্টর কমান্ডারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ চলে যান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতিসৌধে পু®পস্তবক অর্পণের জন্য। পরে সকাল আটটায় রাঙামাটি চিংহ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ।

এসময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সালাম গ্রহণ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভিআইপি সারিতে সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ ছাড়াও জেলাপ্রশাসক পতœী উপস্থিত ছিলেন। এসময় ডিসপ্লেতে রাঙামাটি শহরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। পুরস্কার বিতরণপ পর্বে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারগণ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ ছাড়া যথারীতি বিকেলে বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলা, নারীদের ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ আব্দুল আলী উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এবারে আলোচনা সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং সূবর্ণজয়ন্তীতে দেশের উন্নয়ন’। আলোচনা সভাশেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ নামক এই সবুজ ভূ-ভাগের অধিবাসীদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন আমাদের গর্বের স্বাধীনতা। বাঙালির সহস্র বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবের দিন; মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এই জনপদে ভিসুভিয়াসের মত জ্বলে উঠেছিল স্বাধীনতার অনির্বাণ শিখা। ৪৬ বছর আগের এই দিনটিই বিশ্বমানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বাঙালি জাতিকে এনে দিয়েছিল আত্মপরিচয়ের ঠিকানা অর্জনের শুভ সূচনা। বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মার্চের অসহযোগ আন্দোলন এবং ২৫ মার্চ ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চের রক্তলাল সূর্যোদয় বয়ে এনেছিল বহু প্রতীক্ষিত স্বাধীনতার সূচনা। এদিন সূচিত হয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধ।

উপরোক্ত কর্মসূচি ছাড়াও দিনভর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা নানা কর্মসূচি ও আলোচনা সভা। সরকারিভাবে কারাগার, বিভিন্ন শিশু সদন, এতিমখানা ও হাসপাতালে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। তথ্য অফিসের উদ্যোগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শন করা হয় প্রামাণ্য চিত্র।

দুপুরে সিনেমা হলগুলোতে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিকালে কাবাডি প্রতিযোগিতা, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, রশি টানাটানি ও মহিলাদের ক্রীড়ানুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও এদিন শিশু-কশোরসহ সর্বসাধারণের জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক উনস্টিটিউট উন্মুক্ত রাখা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শন করা হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।