যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রে কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত

307

॥ ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি ॥

সাধু সাধু সাধু ধ্বনিতে হাজারো পুণ্যার্থীদের ভক্তি ও শ্রদ্ধায় রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৮ তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান । গৌতম বুদ্ধের প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত কঠিন চীবর বুনন ও ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রবিবার শুরু হয়ে সোমবার বিকেলে দুইদিন ব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্য বুদ্ধপুজা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সুত্রপাঠ, ধর্মীয় দেশনা, কল্পতরু প্রদক্ষিণ ও ফানুস বাত্তি উৎসর্গসহ উল্লেখযোগ্য।

কঠিন চীবর দানোৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থী অংশ নেন। পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মূখর হয়ে উঠে বিহার প্রাঙ্গণ। দুপুরে কল্পতরু ও কঠিন চীবরকে পুরো বিহার এলাকা প্রদক্ষিণ করে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হয়। সন্ধ্যায় জগতের সকল প্রাণীর হিতসুখ ও মঙ্গল কামনায় ফানুস বাত্তি প্রজ্জ্বলন করা হয়।

সোমবার সকালে প্রথমে বৌদ্ধরতœ উপাধি প্রাপ্ত ও বনভান্তের প্রধাণশিষ্য ভদন্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন ভক্তরা। পরে উদ্বোধনী ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পঞ্চশীল পাঠ করেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পূর্ণচক্র চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্র বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পুর্ণচক্র চাকমা ও সাবেক সভাপতি দয়াল কৃষ্ণ চাকমা, বিশেষ বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার সহধর্মীনী রিপা চাকমা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগীয় প্রকৌশলী মহিনী রঞ্জন চাকমার সহধর্মীনী নিরালা চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রূপক চাকমা অরুণ চাকমা।

ধর্মীয় সভায় পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে ধর্ম দেশনা দেন, বৌদ্ধরতœ উপাধিপ্রাপ্ত ও বনভান্তের প্রধাণশিষ্য ভদন্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির। অন্যান্য ভিক্ষুদের মধ্য ধর্মদেশনা দেন, রাজবন বিহারের সিনিয়র ভিক্ষু ভদন্ত সত্যপ্রেম মহাস্থবির প্রমূখ।

এসময় অন্যান্য সিনিয়র ভিক্ষুর মধ্য উপস্থিত ছিলেন, দীঘিনালা বনবিহার আবাসিক সিনিয়র ভিক্ষু ভদন্ত শ্রীমৎ শুভবর্ধণ মহাস্থবির, ধুতাঙ্গটিলা বনবিহার অধ্যক্ষ দেবধাম্মা মহাস্থবির, যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রের বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ কল্যাণজ্যোতি মহাস্থবির।