যুবলীগ নেতা নয়ন হত্যা: লংগদুর বাঙালি ও উপজাতি স¤প্রদায়ের পুনর্বাসন দাবী

309


মনিরুজ্জামান মনির-১৪ জুন ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি:  রাঙামাটিতে গত ১ জুন নিহত যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের ঘাতক তিন উপজাতি যুবকের মধ্যে বাবুরাজ চাকমা ছাড়া রনেল চাকমা ও জনেল চাকমা ধরা পড়েছে। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক দীঘিনালার মাইনী নদী থেকে নয়নের হেলমেট ও মটর সাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার মোটিভ ছিল ‘এক ঢিলে দুই পাখী মারা’- অর্থাৎ মটর সাইকেলটি হস্তগত করে লাখ খানিক টাকা পাওয়া এবং অন্যটি রাজনৈতিক মোটিভ তথা তিন পার্বত্য জেলার বাঙালিদেরকে সতর্ক ও শাসিয়ে দেয়া যে, পাহাড়ে মোটর সাইকেলে যাত্রীবহন করে বেকার বাঙালিদের জীবিকা নির্বাহ করাটা তাদের (জেএসএস ও ইউপিডিএফ) কাছে মোটেও পছন্দনীয় নয়। অতএব, বেকার বাঙালি যুবকেরা এই পেশা ছেড়ে দাও নতুবা সমতলে চলে যাও। কিন্তুু, এবারে ওদের হীন নোংড়া পরিকল্পনা সফল হয় নাই। বর্তমান সরকার, জনগণ, প্রশাসন ও দেশী বিদেশী প্রচার মাধ্যমের সতর্ক নজড়ে থাকায় খুনীরা দ্রুত ধরাপড়েছে, হত্যার মোটিভ ও উদঘাটিত হয়েছে। বাঙালি জাতি সন্তুু লারমাদের প্রকৃত চেহারা আবারও নতুন করে জানতে পারল।

যে উপজাতি ও বৌদ্ধ বনভান্তে  সাধু নেতারা সর্বদা বলে বেড়ান- “জীব হত্যা মহাপাপ, অহিংসা পরম ধর্ম?” তাদের নতুন প্রজন্ম কিভাবে এত হিংস্র ও পশুশক্তিত্ব অর্জন করলো তা কল্পনারও দুঃসাধ্য। কেননা এটি একটি সূদুর প্রসারী পরিকল্পনারই অংশ (বাঙালিদেরকে পাহাড় থেকে তাড়াতে হবে যা উপজাতিয় নেতাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য)। এই ঘটনার আগেও অনুরূপভাবে বিগত কয়েক বছরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বেশ কয়েকজন বাঙালি বেকার যুবককে হত্যা করে মোটর সাইকেল ছিনতাইয়ের মাধ্যমে পাহাড়ী সন্ত্রাসী এবং উপজাতীয় নেতারা তা কৌশলে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন এটা বাঙালিদের সাজানো গল্প, পাহাড়ীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মাত্র। ক্ষেত্র বিশেষে জেএসএস ও ইউপিডিএফ নেতারা এ ধরনের অমানবিক ঘটনাকে গুজব বলে অভিহিত করেছেন

এবং তাদেরকে উৎসাহিত করেছেন আমাদের বামপন্থি, রামপন্থি ও কতিপয় মতবলবাজ বুদ্ধিজীবি মহল। সেসব ঘটনার কোন ন্যায় বিচার হয় নাই। দেশী বিদেশী চাপের মুখে বাঙালিদের সাথে প্রশাসনের বিমাতা সুলভ আচরন এবং প্রচার মাধ্যমের অসহযোগিতার কারণে অনেক বাঙালি খুনের ঘটনা ধামা চাপা পড়ে গেলেও যুবলীগ নেতা নয়নের হত্যাকান্ডটি জনগণের সতর্কতা এবং অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় কাজ করাতে এই হত্যাকান্ড ফাস হয়ে যায়। আসল খুনী ও ষড়যন্ত্রকারীরা আইনের আওতায় চলে এসেছে। উপজাতি বলে আর তাদেরকে ছাড় দেওয়া হয় নাই। অবশ্য এজন্য আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসন যন্ত্র তথা কাপ্তাই নৌবাহিনীর ডুবুরী দল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর রেসকিউ সার্ভিস, দেশের অখন্ডতা রক্ষায় নিয়োজিত বীর সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি সহ আম জনতাকে এই কৃতিত্বের অধিকারী বলে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। তবে বিএনপি এবারও আরেকটি ভুল করেছে। দলের শীর্ষ নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান সহ বিএনপির যে টিমকে বেগম খালেদা জিয়া লংগদু পাঠাতে চেয়েছিলেন তারা লংগদু প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বাঙালিদের আবেগ অনুভূতির সাথে একাত্বতা প্রকাশেও ব্যর্থ হয়েছে। রাঙামাটি জেলা শহরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিএনপি দায়সারা দলীয় হীনমন্যতা প্রকাশ ঘটিয়েছে। তারা যুবলীগ নেতা নয়ন হত্যার বিচার দাবী করেন নাই। পক্ষান্তরে, লংগদুতে উপজাতি ও বাঙালিদের মধ্যে সন্ত্রাস ও অগ্নি সংযোগের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী করেছেন। নয়ন যুবলীগ করাতে তাকে হত্যা করা হবে আর বিএনপি এর প্রতিবাদ করবে না, এই নীতিমালা পাহাড়ের বাঙালিরা আন্তরিক ভাবে মেনে নেয় নাই। খুনী শান্তি বাহিনীর নেতা উষাতন তালুকদার আজ রাঙামাটি জেলার সংসদ সদস্য। এর পিছনেও বিএনপির ভুলনীতি কাজ করেছে। কারণ উষাতনের চাইতে দিপংকর তালুকদার বাঙালিদের কাছে অধিকতর গ্রহনযোগ্য ছিল। বিএনপির ভুল নীতি তথা দিপেন তালুকদারদের কাছে বিকিয়ে যাওয়ার কারণেই পাহাড়ের বাঙালিদের ভোট ব্যাংক থেকে বিএনপি হারিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে বেগম জিয়াকে আরো বেশি সতর্ক থাকার জন্য আমরা অনুরোধ জানাই।

উপজাতীয় সুদর্শন চেহারার অধিকারী নিরিহ নিষ্পাপ সরলপ্রাণ (?) যুবকেরা এই পশু শক্তিত্ব কিভাবে অর্জন করল? কারা তাদেরকে এই দীক্ষা দিল? কে তাদের গুরু? কেন তারা পাহাড়ে বাঙালি হত্যায় মেতে উঠেছে? কে তাদের গডফাদার? উপজাতীয়রা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি হলেও পাহাড়ে তারা জীব হত্যা এবং অহিংসা মানে না। কেন এই ধর্মীয় বিদ্রোহ? বনভ্রান্তে বাবুরা দয়া করে এর জবাব দিবেন কি?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুজে পেতে হলে আমাদেরকে যেতে হবে স্বাধীনতার পরবর্তী ১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সাথে আলাপ চারিতায় উপজাতীয় নেতা চারুবিকাশ চাকমা এবং এমএন লারমা কতিপয় সংবিধান বিরোধী দাবী দাওয়া পেশ করেছিলেন। যা ছিল বাংলাদেশের অখন্ডতা, স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি স্বরূপ। বঙ্গবন্ধু এমএন লারমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে ঝুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি লারমাকে উদ্যেশ্য করে বলেছিলেন- তোরা বেশি বাড়াবাড়ি করলে পাবর্ত্য চট্টগ্রামে আমি আরো কয়েক লক্ষ বাঙালিকে বসতিস্থাপনের জন্য পাঠাবো। তোরা সবাই বাঙালি হয়ে যা। কিন্তু সে দিন মানবেন্দ্র লারমা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া না দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় সরল প্রাণ পাহাড়ী উপজাতীয় যুবকদেরকে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে সংগঠিত করতে থাকেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাড়া মহল্লায় নিরাপত্তা ও শান্তি স্থাপনের ধোয়া তুলে উপজাতীয় বেকার যুবকদেরকে বাংলাদেশের অখন্ডতা বিরোধী দীক্ষায় দীক্ষীত করেন। এবং গঠন করেন কুখ্যাত খুনী সশস্ত্র রাষ্ট্র দ্রোহী শান্তি বাহিনী বা জুম্ম লিবারেশন আর্মি (জেএলএ)। লারমা নিজেকে জুম্ম জাতির জনক বলে দাবী করেন? পার্বত্য চট্টগ্রামের নাম করণ করা হয় জুম্মল্যান্ড। এ সবই রাষ্ট্রদ্রোহী বিচ্ছিন্নতা বাদী ষড়যন্ত্রের আলামত। তাদের পত্রিকার নাম হয় জুম্ম নিউজ বুলেটিন, জুম্ম কন্ঠ, রাডার, স্যাটেলাইট, কর্ণফুলীর কান্না ইত্যাদি।

এই খুনী শান্তি বাহিনী পাহাড়ে অশান্তির দাবানল ছড়িয়ে দেয়। তিন পার্বত্য জেলায় বাঙালি হত্যা চাঁদাবাজী লুটপাট, মুক্তিপন আদায় অগ্নিসংযোগ, প্রতিটি ঠিকাদারী ও উন্নয়ন কাজ থেকে ১০% চাঁদা আদায় ইত্যাদি হয়ে পড়ে উপজাতীয় বেকার যুবকদের আয়ের উৎস। সহজ পথে অর্থ বিত্ত লাভের রাস্তা বের করে দেন মি. লারমা। সেসব বেকার যুবকদের পথ ধরেই আজো পাহাড়ে চলছে বাঙালি হত্যা, মানবাধিকার লঙ্গন। জুম্মল্যান্ড রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান স্বপ্নে বিভোর উপজাতীয় সন্ত্রাসীদেরকে প্রতিহত করার জন্য ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষার জন্য সেনা বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। যার ধারাবাহিকতা আজও অব্যাহত আছে। বিগত তিন যুগ যাবৎ খুনী শান্তিবাহিনী পাহাড়ে ৩৫০০০ বাঙালি হত্যা, ১২০০ সৈনিক, পুলিশ আনসার বিডিআর হত্যা করেছে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট করেছে। এরপরও সীমিত ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে সন্ত্রাস যুদ্ধ ও বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা চললেও উপজাতীয় শান্তি বাহিনী ভারতীয় বিএসএফ এর সহযোগিতায় বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক লুটপাট অগ্নিসংযোগ খুন ইত্যাদি চালিয়েছে। আমাদের বীর সেনাবাহিনী তা প্রতিরোধ করলেও তথাকথিত সন্তুলারমার গেরিলা বাহিনী পাহাড়ের বাঙালিদেরকে জানে মালে ধ্বংস করার জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এমনকি বিদেশীদেরকে অপহরণ ও মুক্তিপন বাবদ বাঘাইছড়ি উপজেলায় সন্তুলারমার

বাহিনী ২২ কেজি স্বর্ণ এবং ১ কোটি রুপি আদায় করে ছেড়েছে, যা দিয়ে তারা অনেক অস্ত্র-সস্ত্র সংগ্রহ করে জুমল্যান্ড আন্দোলনের কাজে ব্যবহার করেছে। এম এন লারমা দলীয় বিদ্রোহীদের হাতে ব্রাশফায়ারে খুন হয়। এজন্য সরকার কিংবা বাঙালিরা দায়ী নয়। অথচ কিছুদিন আগে মহান জাতীয় সংসদে জুম্ম জাতির তথাকথিত জনক এম এন লারমার নামে শোক প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে। যার রহস্য আজও দেশবাসীর কাছে অজানা। লারমার মৃত্যুর পরে সন্তুলারমাকে খুনী শান্তি বাহিনীর প্রধান করা হয়। ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর সরকার সন্তু লারমাকে হাতে নাতে আটক করতে পেরেছিলেন। কিন্তু সেদিন তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার জন্য মৃত্যুদন্ড না দিয়ে সকল শান্তি বাহিনীর সদস্যদেরকে সাথে নিয়ে আত্মসমর্পনে রাজি করানোর শর্তে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মুক্তি পাবার পরে সন্তু লারমা আগরতলা ফিরে গিয়ে পুনরায় রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং আবারও শান্তি বাহিনীর মাধ্যমে পাহাড়ে বাঙালি হত্যা শুরু করে।

পরবর্তীকালে ০২/১২/১৯৯৭ইং শান্তি চুক্তিহলেও পাহাড়ে আজো শান্তি স্থাপিত হয় নাই। বরং বিগত ২০ বছর যাবৎ জেএসএস, ইউপিডিএফ, জেএসএস, (লারমা সংস্কারবাদী), বোরকাপার্টি, হাফপ্যান্ট পার্টি, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, হিল ওমেন্স ফেডারেশন ইত্যাদি সংগঠন পার্বত্যবাসী বাঙালিদের উপর নানা ভাবে অত্যাচার নির্যাতন নিপিড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। বাঙালিরা পাহাড়ে আজ ঘরের মালিক হলেও ভুমির মালিক নয়। মানবাধিকার সংগঠন এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিবৃতিতে নয়ন হত্যাকান্ড না বলে নয়নের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করছে। তারা নয়ন হত্যার বিচার দাবী করে নাই। অথচ লংগদুতে উপজাতিদের বাড়ি ঘরে অগ্নি সংযোগের বিচার দাবী করেছে। পার্বত্যবাসী বাঙালিদের মানবাধিকার রক্ষায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো যে ভাবে বিমাতাসুলভ আচরন করে যাচ্ছে তাতে আমরা খুবই মর্মাহত ও বেদনা বোধ করছি।

এই লংগদুতেই শান্তি বাহিনী অনেক বাঙালিকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। এর বিচার আজ পর্যন্ত হয় নাই। কিংবা নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্থ বাঙালি পরিবারগুলোকে আজ পর্যন্ত পুনর্বাসন করা হয় নাই। লংগদুর আকাশ-বাতাস পাহাড় অরন্য আজও বাঙালিদের অশরীরী আত্মার কান্নার জলে সিক্ত। ১৯৯৬ সালে লংগদুর শতাধিক বাঙালি কাঠুরিয়াকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল সন্তু লারমার বাহিনী। তার বিচার আজ পর্যন্ত হয় নাই। কিংবা সেই বাঙালি পরিবারগুলোকে আজও পুনর্বাসন করা হয় নাই। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লংগদু উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ সরকারকে বর্বর হানাদার শান্তি বাহিনীর গুন্ডারা গুলশাখালীর তেমাথায় এম্বুস করে কাপুরুষের মত হত্যা করেছে। তারও বিচার আজ পর্যন্ত হয় নাই। লংগদু উপজেলা পরিষদ মাঠে অর্ধশতাধিক বাঙালির গণকবর এবং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে

অনেকগুলো গণকবর খুনী শান্তিবাহিনীর গণহত্যা ও মানবাধিকার লংঘণের স্বাক্ষী হিসেবে আজও মজুদ আছে। নতুন প্রজন্মের উপজাতীয় যুবকেরা হয়তো সেই ইতিহাসও জানে না।

লংগদু ঘটনার নয়ন হত্যার বিচার দাবীতে পাহাড়ের বাঙালি সংগঠনগুলো ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ করেছে। বাঙালিদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গণগ্রেপ্তার বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। পক্ষান্তরে, সন্তু লারমার জেএসএস এবং প্রশিতখিসার ইউপিডিএফ পাহাড়ে অর্ধ দিবস হরতাল পালন করেছে। কল্পনা চাকমা ড্রামা সফল করার জন্য খাগড়াছড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল ওমেন ফেডারেশনকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানেও গুলতি, ইট, পাথর ইত্যাদি ছুরে মেরে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর রক্ত ঝড়ানো হয়েছে। রামগড়ে পেট্রোল বোমা হামলা হয়েছে। কিছু কিছু পাহাড়ী সন্ত্রাসী হাতে নাতে ধরা পরছে। এটি একটি পজিটিভ চিত্র বলে আমরা মনে করি। দেশবাসী ও প্রসাশনের কাছে অনুরূপ সাহসী অভিযান ও পদক্ষেপ আশা করে।

উপজাতি বা বাঙালি যেই হউক না কেন, তাদের পুনর্বাসনে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। লংগদুর নয়ন হত্যাকান্ড এবং তার পরিবারের প্রতি পর্যাপ্ত পুনর্বাসন এবং যেসব উপজাতীয় নারী পুরুষ তাদের ঘর বাড়ী হারিয়েছেন তাদেরকে পুনর্বাসন করা আমাদের এই সরকারের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। তবে যেই অপশক্তি পাহাড়ী বেকার যুবকদেরকে বাঙালি হত্যায় লেলিয়ে দিয়েছে, তাদেরকে আগে সমাজ ও জাতির কাছে মুখোশ তুলে ধরতে হবে। নয়ন হত্যাকান্ড যে একটি সুবিশাল পরিকল্পনা অংশ সেটি বুঝতে আজ আর কারো বাকি নাই। অতএব, সাধু, সাবধান।

লেখক- মনিরুজ্জামান মনির, রাঙামাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান