যৌবন ফিরে পেয়েছে প্রসিদ্ধ সুবলং ঝরণা দর্শনার্থীর ভীড়

348

॥ এম.নাজিম উদ্দিন ॥
বছর ঘুরতেই আবারো ‘উদ্ভিন্ন যৌবনা’ হয়ে উঠেছে রাঙামাটির বরকল উপজেলার সুবলং-এর দুটি প্রসিদ্ধ ঝরণা। ঝরনা দুটির এ রূপ ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে টানছে অমোঘ আকর্ষণে। তাই তো ঝরনার শীতল পানিতে শরীর ভিজিয়ে নিজেকে সতেজ করতে দূর-দূরান্ত থেকে সুবলং-এর পানে বিভিন্ন বয়সের ছুটছে হাজারো মানুষ।

রাঙামাটির প্রতি ভ্রমণপিসাসুদের যেসব কারণে আকর্ষণ জাগে-সেগুলোর মধ্যে অন্যতম এই সুবলং ঝরনা। শুকনো মৌসুমে পাহাড়ের ঝিরি শুকিয়ে গেলে এই ঝরনায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি অজানা থাকায় পর্যটকরা রাঙামাটি এসে হতাশ হন। তবে বর্ষার শুরুতে বৃষ্টির পানিতে ‘উদ্ভিন্ন যৌবনা’ হয়ে উঠে এই ঝরনা। এই যৌবন থাকে কয়েক মাস। মূলত বর্ষা মৌসুমেই ঝরনা দেখতে আসেন পর্যটকরা।

সুবলং-এর একটি ঝরনা থেকে আরেকটি ঝরনায় যেতে ইঞ্জিনচালিত ট্যুরিস্ট বোটে কয়েক মিনিট লাগে। প্রথমেই পড়বে ছোট ঝরনা। এটিতে পানির প্রবাহ কম। তাই এখানে ভিড়ও হয় কম। একটু এগোলেই দেখা মিলবে ‘শিলার ডাক ঝরনা’ নামে পরিচিত সুবলং বড় ঝরনার। এটির পানি প্রবাহ বেশি হওয়ায় পর্যটকদের আকর্ষণও বেশি। অনেকে আবার দুটো ঝরনাই উপভোগ করেন দীর্ঘসময় নিয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকশ পর্যটক ঝরনার জলধারায় শরীর ভেজাচ্ছেন। অনেকে ঝরনার স্বচ্ছ পানিতে গোসলটাও সেরে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন ছবি তোলায়।

কথা হয় ঢাকার মো.মোকাম্মেল হোসেন জয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন,দুইদিন ধরে রাঙামাটি শহরে আছি। এখানে এসে সুবলং ঝরনা দেখবো না তা কীভাবে হয়? ঝরনার শীতল স্বচ্ছ পানিতে মনের সুখে গোসল করলাম,ছবি তুললাম। ঝরনার রোমাঞ্চকর সৌন্দর্য দেখে আমি বিমোহিত।

খাগড়াছড়ির চিং হ্লা মারমা বলেন,এ পাহাড়েই আমার বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোরে কত ঘুরে বেড়িয়েছি। অথচ এখন চাকরির কারণে ব্যস্ত হয়ে সেই সবদিন হারিয়ে ফেলেছি। দুইদিন ছুটি পেয়ে এখানে ছুটে এলাম। ঝরনার শীতল পানিতে শরীর জুড়ালাম।
‘শিলার ডাক ঝরনা’র (বড় ঝরনা) টিকেট বিক্রেতা জানিয়েছেন,এখন ঝরনায় পানি আছে-পর্যটকরাও আসছেন। শুক্রবার-শনিবার ভ্রমণপ্রেমীদের চাপ কিছুটা বাড়ে। গত দুইদিনে গড়ে ২০০০-২৫০০ টিকেট বিক্রি হয়েছে। তবে ঝরনার পানি শুকিয়ে গেলে পর্যটকের সংখ্যা একদম কমে যাবে।

সুবলং ঝরনায় যেতে ইঞ্জিনচালিত ট্যুরিস্ট বোট রিজার্ভ নিতে হয়। এসব ট্যুরিস্ট বোট পাওয়া যায় জেলা শহরের রিজার্ভবাজার লঞ্চঘাট ও ঝুলন্ত সেতু বোট ঘাটে।

ট্যুরিস্ট বোটচালক প্রমথ দাশ বলেন,সাধারণত রাঙামাটি এলে পর্যটকরা কাপ্তাই হ্রদে ঘুরে বেড়াতে চান। তাদের প্রথম গন্তব্যই থাকে সুবলং ঝরনা। এ কারণে আমাদের সুবলং কেন্দ্রিক বোট বেশি ভাড়া হয়। এক্ষেত্রে ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের ট্যুরিস্ট বোট বিভিন্ন প্যাকেজে ভাড়া দেয়া হয়। রাঙামাটি পর্যটন বোট ঘাটের ম্যানেজার রমজান আলী দৈনিক রাঙামাটিকে বলেন,প্রতিদিন আমাদের ঘাট থেকে অসংখ্য ট্যুরিস্ট বোট সুবলং-এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শুক্রবার-শনিবারে এ সংখ্যা বাড়ে। আবার মৌসুম শেষ হয়ে গেলে ঝরনা অভিমুখী বোট ভাড়া কম হবে।