রাইখালীতে একটি সেতুর অভাবে হাজারো মানুষের চরম ভোগান্তি

318

॥ এম.নাজিম উদ্দিন ॥

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলাধীন ২নং রাইখালী ইউনিয়নের নারানগিরি খালের উপর একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তির মাঝেই চলাফেরা করছে এলাকার মানুষ। বর্তমানে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে কোমলমতি স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ এলাকায় বসবাসরত হাজারো মানুষ। বিশেষ করে গর্ভবতী মা-বোন এবং মুমূর্ষু রোগীদের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে প্রায়ই কোন না কোন দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এলাকায় অধিবাসী মো.রাশেদ,পলু মারমা,নান্টু দাশ,লোকমান,মানিক এবং আরো অনেকের কাছ থেকে জানা গেছে,বর্ষাকালে উজান হতে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে ইতিমধ্যে আট থেকে দশ বার সাঁকোটি ভেঙে কর্ণফুলী নদীতে তলিয়ে যায়।

বিশেষ করে নারানগিরিমুখ ১নং পাড়ার প্রায় ৮শ’ পাহাড়ী বাঙ্গালী জনগণ এই সাঁকোটি ব্যবহার করে নারানগিরি স্কুল,রাইখালী বাজার,ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। এছাড়া জগন্যাছড়ি,মৈদং পাড়া,ক্যাজাইয়া পাড়া,ডলুছড়ি পাড়ার লোকজনরাও নিত্য নৈমিত্তিক কাজে এই সাঁকো ব্যবহার করে নারানগিরি বৌদ্ধ বিহার,নারানগিরি স্কুল এবং রাইখালী বাজারে আসে।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা আরো জানায়,গত দু’বছর পূর্বে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি নারানগিরি বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধনে এসে এই খাল পরিদর্শন করে এখানে একটি সেতু নির্মাণের গুরুত্ব আরোপ করেন। কিন্তু এখনো তাদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। এলাকাবাসী দ্রুত এই খালের উপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক জানান,তার এলাকায় অবস্থিত নারানগিরি খালের উপর এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েসহ গ্রামবাসীরা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী বাজারে বেচা বিক্রি করতে আসা-যাওয়া করেন। বর্ষায় বাঁশের সাঁকোটি বেশ কয়েকবার ভেঙে পড়ায় তিনি একাধিকবার সাঁকোটি তৈরী করে দিয়েছেন। তবে এই খালের উপর সেতু হলে এখানকার বসবাসরত জনগণের আত্ম-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। শীঘ্রই এই খালের উপর এলজিইডি কর্তৃক একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে তিনি জানান।

এলজিইডি কাপ্তাইয়ের সিনিয়র প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান,করোনার কারনে এতদিন এই সেতুর নির্মাণ কাজ পিছিয়ে ছিল। কিন্তু ইতিমধ্যে এটা অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শীঘ্রই তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।