রাঙামাটিতে অসহায় মানুষের জন্য পুলিশ কর্মকর্তার অনন্য উদ্যোগ

360

॥ ইকবাল হোসেন ॥
চলমান করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে রাঙামাটি করোনা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সাহার্য্যার্থে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন রাঙামাটি জেলা বিশেষ শাখার মানবিক পুলিশ অফিসার এস আই মোঃ জহির উদ্দীন। তিনি জেলায় করোনা পজেটিভ রোগী সনাক্ত হওয়ার পর থেকেই এসব রোগীদের খাদ্য, ঔষুধ সামগ্রী দিয়ে অসহায় এ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

এরপাশাপাশি তিনি নিজ উদ্যোগে তার কানাডা প্রবাসী বন্ধু নাসির কাশেমের অর্থায়নে রাঙামাটি জেলা শহরের করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন এলাকার ১০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
তিনি শহরের (নতুন জালিয়া পাড়া, পুরাতন জালিয়া পাড়া, ইসলামপুর, পুরান পাড়া, শিমুলতলী, ভেদভেদী, বিজার্ভমুখ, রিজার্ভ বাজার, আপার রাঙামাটি) এলাকার কর্মহীন জেলে  পরিবার, দূর্ঘটনায় বা আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার, করোনা পজেটিভ রোগী ও তার পরিবার এবং সমাজের হতদরিদ্র পরিবার নিয়ে সর্বমোট-১০০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

জানা যায়, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ কর্মকর্তা এস আই জহির উদ্দীন দীর্ঘ ১৯ বছরের চাকুরী জীবনে পবিত্র হজ্জের জন্য জমানো প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা কর্মহীন অভাবগ্রস্থ মানুষদের সহায়তায় দান করেছেন।

তিনি তার নিজ জন্মস্থান নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ২০০টি পরিবার ও চাকুরী ক্যারিয়ারে ভালোবাসার কর্মস্থল লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫০-৬০টি পরিবারের মাঝে উক্ত ২ লক্ষাধিক টাকার খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ উপহার সরূপ পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে উক্ত অর্থ ব্যায় করেছেন।

প্রতিবেদককের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এস আই জহির উদ্দীন তার এই মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, আমি টাকাগুলো হজ্জের জন্য সঞ্চয় করেছিলাম, ভেবেছিলাম পরিবার নিয়ে হজ¦ করব। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে চোখের সামনে মানুষজন যেভাবে কষ্ট পাচ্ছে তা কিছুতেই সহ্য হচ্ছিলো না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম এই টাকাগুলো দিয়ে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবো। এতে খেটে-খাওয়া মানুষগুলোর কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

তিনি বলেন, মূলত করোনার এই দুর্দিনে আমি আমার নিজ অবস্থান থেকে আশপাশের পরিচিত ও অপরিচিত সমস্যাগ্রস্থ মানুষগুলোর জন্য কিছু একটা করার চেষ্টা করেছি। যাতে তারা অন্তত ক্ষুধার কষ্টে মারা না যায়। করোনা ভাইরাসের এই দূর্যোগ একটা সময় ঠিকই চলে যাবে। কিন্তু অভাবের তাড়নায় যদি অসহায় মানুষগুলো চোখের সামনে ছটফট করে মারা যায় তাহলে আল্লাহর কাছে কি জবাব দিব? তাই হজ্জের টাকা অসহায় মানুষদের পেছনে ব্যয় করেছি, আমি মনে করি মহান  আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন খুশি থাকলে ইনশাআল্লাহ আগামীতে তিনিই আমি ও আমার পরিবারের হজ্জের ব্যবস্থা করে দিবেন।

উল্লেখ্য- এস আই জহির উদ্দীন লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্বরত থাকাকালে অত্র অঞ্চলের একাধিক পঙ্গু ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ, গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ, জীবিকা নির্বাহের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ নানাভাবে দুঃস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে রামগঞ্জ উপজেলায় মানবতার ফেরিওয়ালা নামেও ডাকা হয় এই পুলিশ কর্মকর্তাকে। আর তাই দেশের করোনার দূর্যোগকালেও নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে নতুন কর্মস্থল রাঙামাটির অসহায় মানুষ জনের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনগণের বন্ধু তথা পুলিশ কর্মকর্তা এস আই মো. জহির উদ্দীন।