রাঙামাটিতে তিনদিনে চারজনকে অপহরণ : নেপথ্যে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের চাঁদাবনিজ্য

395

ophoron
আলমগীর মানিক, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি : তিন দিনের ব্যবধানে রাঙামাটি জেলায় নির্মাণ শ্রমিকসহ চারজনকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ও সোমবার রাতে সংঘটিত এই দুইটি ঘটনায় সন্ত্রাসীরা প্রাথমিকভাবে অর্ধকোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলে জানা গেছে কয়েকটি সূত্রে। দুই ঘটনার অপহৃত তিনজন হলেন, নির্মাণ শ্রমিক আব্বাস, বড় মানিক ও ছোট মানিক এই ঘটনা শহর এলাকার। অপর ঘটনা বাঘাইছড়ি উপজেলার দূরছড়ি বাজারে ব্যবসার কাজে যাওয়া লংগদু উপজেলার গাঁথাছড়া এলাকার বাসিন্দা জনৈক হাশেমের পুত্র আনোয়ার (২৫) অপহরন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনাদু’টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান। এদিকে উভয় ঘটনার একটিতে পারিবারিকভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও অপরটিতে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, লংগদু উপজেলার গাঁথাছড়া এলাকার বাসিন্দা জনৈক হাশেমের পুত্র আনোয়ার (২৫) গত শনিবার দূরছড়ি বাজারে গেলে বাজার থেকে সেদিন সে আর ফিরে আসেনি বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে। পরে তারই ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে চাঁদা দাবি করে পরিবারের কাছে ফোন করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিজের গাছ ব্যবহার প্রয়োজনে বাঘাইছড়ির দুরছড়ি এলাকায় যান। কিন্তু শনিবার থেকে তাকে আর মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছিলোনা। রোববার তার মোবাইল ফোনটি হঠাৎ সচল হয় এবং সেই ফোন থেকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আনোয়ার তাদের জিম্মায় আছেন এবং দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপন পেলে তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা জানায়। অপহৃত আনোয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ০১৮২৮৯১৭৫১৯ এটা অপহৃত আনোয়ারের নাম্বার, এই নাম্বার থেকেই কল করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। তবে যারা মু্ক্িতপণ দাবি করছেন, কন্ঠ শুনে তারা পাহাড়ী বলেই মনে হচ্ছে। টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

অপরদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিন দিনের মাথায় আবারো চাঁদার দাবিতে অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। রাঙামাটি শহরের উপকন্ঠে সংগঠিত এই ঘটনায় মঙ্গলবার সারাদিনই ব্যস্ত রেখেছে প্রশাসনকে। সোমবার দিবাগত রাতে শহরের রাজবাড়ি বিহারপুর এলাকায় নির্মানাধীন ব্রীজের কাজের শ্রমিক আব্বাস, ছোট মানিক ও বড় মানিক নামে তিনজন শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় অজ্ঞাতনামা পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরনকারিরা।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান জানিয়েছেন, অপহরণের ঘটনাগুলিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন। তিনি জানান, দূরছড়ির অপহরণের ঘটনায় আমরা সংশ্লিষ্ট্যদের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করার পাশাপাশি উক্ত এলাকাটি খাগড়াছড়ি জোনের অধিন হওয়ায় আমরা খাগড়াছড়ি সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিতে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারাও এই ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, আমরা জানতে পেরেছি যে, অপহরণের আগের দিন অপহৃত আনোয়ার রাঙামাটি শহরের হোটেল তাজমহলে রাত্রী যাপন করেছিলো।

সম্পাদনা- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান