রাঙামাটিতে নির্বচনী সংঘর্ষ, গুলি : পুলিশসহ আহত- ১৪, আটক- একজনের ১৫ দিনের কারাদন্ড

358
রাঙামাটির দুটি ভোট কেন্দ্রে আলাদা ভাবে বাঙালি ও উপজাতি নারী ভোটারদেও শান্তিপূণ অবস্থান
রাঙামাটির দুটি ভোট কেন্দ্রে আলাদা ভাবে বাঙালি ও উপজাতি নারী ভোটারদেও শান্তিপূণ অবস্থান

আনোয়ার আল হক- ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫, দৈনিক রাঙামাটি : বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা, জাল ভোটের অভিযোগ, গুলি, আটক এবং নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও শেষ বিকেলে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে রাঙামাটি পৌরসভার ভোট গ্রহণ। তিনটি ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ভুট্টো ও এক পুলিশ সদস্যসহ ১৪ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে ৩ জন।

আহতদের সকলেই রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে দুপুর আড়াই টার সময় রাঙামাটি শিশু একাডেমী কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বিজিবি, পুলিশ, আনসার বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি অন্তত ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এসময় একজন গুলিবিদ্ধ ও পুলিশসহ ৪ জন আহত হয়। বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে দিদারুল আলম নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহতদের রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ ও স্থানীয়রা।

এ ঘটনার আকস্মিকতায় শিশু একাডেমী ও পাশ্ববর্তী সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্র সাময়িকভাবে ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। বিকাল ৩ টায় আবার পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

এদিকে শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও আমানতবাগ স্কুল কেন্দ্র থেকে তিনজনকে জাল ভোট প্রদান করার অপরাধে আটক করেছে কর্তব্যরত ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আটক হেলালকে ১৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন কর্তব্যরত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রুম্মানা রহমান শম্পা।

অপরদিকে শহরের চম্পকনগর, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ আব্দুল আলী একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়, কাঠাঁলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুরান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুজাদ্দেদ-ই আলফেসানী একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়, শিশু একাডেমী কেন্দ্র, রাঙামাটি সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রসহ অন্তত ১০টি কেন্দ্রে থেমে থেমে ধাওয়া পাল্টা পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট বিএনপি’র সভাপতি মো. শাহ আলম শহরের ১০ টি ভোট কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোট গ্রহণের জন্য রিটানিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছে। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ডা. গঙ্গা মানিক চাকমার পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির জেলা কার্যালয়ে নির্বাচনের ফলাফল বর্জন ও পুনরায় নির্বাচনের দাবী জানিয়ে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান