রাঙামাটিতে পুলিশের সন্ত্রাস দমন ও উগ্রবাদ প্রতিরোধ বিষয়ক সেমিনার

287

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন বলেছেন, সাধরণভাবে রাঙামাটির আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক জেলার তুলনায় সন্তোষজনক, এ জেলার ৯৮ শতাংশ মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সন্তাসের বিপক্ষে। কিন্তু গুটি কয়েক মানুষ মাঝে মাঝে শান্তি বিনষ্টের নানা তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করে; আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে সতর্ক এবং সচেতন রয়েছে। তিনি জানান পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শহরের ছোটখাটো বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করতে শীঘ্রই পর্যটন শহর রাঙামাটিকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। রাঙামাটি জেলা পরিষদ এই প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে পুলিশের কঠোর অবস্থান এবং জনগণের সহযোগীতার কারণে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা না হওয়ার বিষয়টি একটি ভালো উদাহরণ তৈরি করেছে এবং এ জেলার সুনাম বৃদ্ধি করেছে। যা অতীতের যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় বিশেষভাবে ভালো ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘উগ্রবাদ প্রতিরোধে ছাত্র, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ নির্মান প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটিতে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৯ মার্চ) সকাল ১১টায় পলওয়েল পার্ক মাল্টিপারপাস হলে দিনব্যাপী এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি এবং উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম, সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, কাউন্টার টেরোরিজম ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার রোকসানা ইসলাম সুজানা, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এ কে এম মকছুদ আহমদ।
এ ছাড়া গণমাধ্যম কর্মীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার আল হক ও সাংবাদিক মুহাম্মদ ইলিয়াস, ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোঃ সোহেল উদ্দিনসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।

সেমিনারে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই। দেশে সামাজিক ভাবে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদকে বয়কট করতে হবে। উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদ আমাদের সমাজে, রাষ্ট্রে থাকতে না পারে তার জন্য সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশ এই সন্ত্রাসবাদ ও চক্রান্ত রোধ করতে বিভিন্ন ইউনিটে ভাগ হয়ে কাজ করছে। জেলার কোথাও কোন জঙ্গীবাদ বা উগ্রবাদ জাতীয় কোন বিষয় সম্পর্কে অবগত হলে সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসনকে অবহিত করার আহব্বান জানান তিনি।

এসময় বক্তারা বলেন, উগ্রবাদ ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে অভিভাবকদের ছেলে মেয়ের গতিবিধি ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। এলাকাবাসীকে এলাকায় নতুন কোন অপরিচিত ব্যক্তি দেখা গেলে তার পরিচয় সম্পর্কে অবগত হওয়া উচিৎ। আর সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান, আলেম সমাজকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে সকলকে সঠিক ইসলামের দিক-নির্দেশনা প্রদান ও অন্য কোন ধর্মের সাথে বিরোধ সৃষ্টি করে এমন ধরণের বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে। ছেলে-মেয়েদের সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে।
উগ্রবাদ প্রতিরোধে ছাত্র, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের ভূমিকা শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে গণমাধ্যম কর্মীরা ও জেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ অংশগ্রহণ করেন।