রাঙামাটিতে বিড়ির ট্যাক্স কমানোর দাবীতে মানববন্ধন

392

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
রাঙামাটিতে বিড়ির উপর ট্যাক্স কমানোর দাবীতে মানববন্ধন করেছে জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। শনিবার সকালে রাঙামাটি প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে রাঙামাটি জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি রমজান আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এসময় বক্তারা বলেন আপনারা সকলে অবগত আছেন যে, গত ১১.০৬.২০২০ ইং তারিখে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য নতুন বাজেট ঘোষনা করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে ৪ টাকা। যা শতকরা বৃদ্ধির হার মাত্র ৫.৪১%।

অর্থাৎ সিগারেটের চেয়ে বিড়িতে প্যাকেট প্রতি ২টাকা বেশি এবং শতকরা ২৩.১৬% বেশি। এটি বিড়ি শিল্পের উপর চরম বৈষম্যমূলক আচরণ। বিদেশী সিগারেট কোম্পানিকে  সুবিধা দিতেই এ বৈষম্য করা হয়েছে। যা দেশীয় শিল্পের সাথে বিমাতাসূলভ আচরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিড়ি শিল্প ধংস করার জন্য যে গভীর ষড়যন্ত্র ছিলো প্রস্তাবিত বাজেটে তা প্রতিফলিত হয়েছে।

সরকার এদিকে মুখে ধূমপান বন্ধের কথা বললেও সিগারেটের বাজার সহজলভ্য করে দিয়েছে। ফলে সরকার ধূমপান মুক্ত করার জন্য যে ঘোষণা দিয়েছে তার পরিবর্তে সিগারেটের ভোক্তা বৃদ্ধি পাবে বৈ কমবে না। বাস্তবে বিদেশী সিগারেট কোম্পানীর সাথে সরকারের অংশীদারত্ব না ছাড়লে আমলাতান্ত্রিক প্ররোচনায় সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা কখনোই সম্ভব হবে না।

এছাড়াও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। পাশাপাশি বেশি দামী সিগারেটে সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি না পাওয়ায় কোম্পানীর আয়ের সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকার বেশি ট্যাক্স প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে তা এ শিল্পের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। এর ফলে বিড়ি ফ্যাক্টরী সংখ্যা কমে যাবে। করোনা পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়বে লক্ষ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক। যার ফলে শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত না হয়ে অনাহারেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবে। এছাড়াও নকল বিড়ি বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। সরকার রাজস্ব হারাবে।

এমতাবস্থায় আমাদের দাবী সমূহ- ১. বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। ২. বিড়ির উপর ট্যাক্স কমাতে হবে। ৩. কম দামী সিগারেট ও বেশি দামী সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে। ৪. নকল বিড়ির ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। ৫. ভারতের ন্যায় বিড়ি শিল্পের সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. কোনভাবেই করোনা পরিস্থিতিতে এবং ভবিষ্যতেও বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি না করে বিড়ি শিল্পের ক্ষতি করা সমীচিন নয়।