রাঙামাটিতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের গণ অবস্থান ও বিক্ষোভ

321

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

বাংলাদেশ থেকে উগ্র মৌলবাদ তাড়ানো এবং সারা দেশে মন্দির ও বাড়ীঘরে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাঙামাটিতে গণ অবস্থান, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে শনিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণ অবস্থানে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাঙামাটির সভাপতি দীপন ঘোষ।

কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব পঞ্চানন ভট্টাচার্য্য এর উপস্থাপনায় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পলাস কুসুম চাকমা। এতে আরো বক্তব্য রাখেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সহ সভাপতি কুশৌল চৌধুরী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা ইন্দ্র দত্ত তালুকদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অরূপ মুৎসুদ্দি, মহিলা সম্পাদিক মহতি চাকমা, মহিলা ঐক্য পরিষদ নেত্রী শ্যমাবতী চাকমা, ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের নেতা তাপস আচার্য্য, পরিষদের নেতা কুশল চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক ও সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী প্রতিবাদ কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে এসময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমানে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন বিনষ্ট হচ্ছে তেমনি শান্তি ও প্রগতির পথও রুদ্ধ হতে চলেছে। বাংলাদেশ যে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নিয়েছে, সেই নৈতিক অবস্থান আজ হুমকির মুখে। প্রতিনিয়ত ধর্মকে ব্যবহার করে দেশে একের পর এক সাম্প্রদায়িক হামলা ও উস্কানি দিয়ে দেশের সকল ধর্মের মানুষদের বিভাজনের সৃষ্টি পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি মহল। তাই সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িত প্রকৃত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান এবং সাম্প্রদায়িক মহলের সর্বনাশা চক্রান্ত প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

পরে রাঙ্গামাটি শহরে মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মারি ষ্টেডিয়াম এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচীতে সনাতন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের বিপুল সংখ্যক মানুষ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।