রাঙামাটিতে হোমিওপ্যাথিক কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

912

 

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
একাধিক মত বিনিময় সভা হলেও অবশেষে শুক্রবার (১২ মার্চ) অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সকলের ঐক্যমতে রাঙামাটিতে হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট “রাঙামাটি হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল” বাস্তবায়ন কমিটি এবং ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উদ্যোক্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এতে বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক- ডা. রূপম দেওয়ান, সদস্য সচিব- ডা. নূরুল আমিন পাটোয়ারি, ও সদস্য অর্থ- ইন্টুমনি তালুকদারসহ আরো ১২জন সদস্য রাখা হয়েছে। উদ্যোক্তা কমিটিতে সভাপতি- ডা. রূপম দেওয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. সম্ভুনাথ চাকমা মনোনীত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ই মার্চ) সকাল ১০টায় স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পরিষদ ও ওয়াল্ড ফেডারেশন অব হোমিওপ্যাথিক (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) রাঙামাটি জেলা শাখা এবং শাপলা নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন রাঙামাটি জেলার যৌথ উদ্যোগে বনরূপাস্থ বিএম মার্কেটের ৩য় তলায় এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড’র সদস্য ডা. মো. আতাহার আলী এই কমিটি ঘোষণা দেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন- বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড’র সদস্য ডা. মো. ফজলুল হক সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (প্রস্তাবিত) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক পরিষদ চট্টগ্রাম’র সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এম এ গণি, চট্টগ্রামের আজিজুর রহমান হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’র প্রভাষক ডা. আব্দুল জলিল, ফেনী হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’র প্রভাষক ডা. কাজী রফিক উদ্দীন।
স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ডা. রূপম দেওয়ানের সভাপতিত্বে ও ডা. মুসফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন- ডা. নূরুল আমিন পাটোয়ারি।

মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচক ডা. ফজলুল হক সিদ্দিকী তার বক্তব্য বলেন- হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ধীরে কাজ করে এই বক্তব্য ও ধারণা ভুল। অন্যান্য চিকিৎসায় রোগ চাপা পড়ে কিন্তু হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় স্থায়ীভাবে আরোগ্য লাভ করা যায়। জার্মান বিজ্ঞানি ডা. ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডিক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ইংল্যান্ডের রাণী ২য় এলিজাবেদ এর রাষ্ট্রীয় একান্ত এলোপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন। তিনি তার পদমর্যাদা ত্যাগ করে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি গবেষণা করে হোমিও চিকিৎসার বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তার মতো ত্যাগ স্বীকার করে ঐক্যমত ভিত্তিতে কাজ করে যেতে হবে। তবেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সফল হবে। পাশাপাশি এই পর্যটন শহরের বেকার যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের চেয়ারম্যান দীলিপ কুমার রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন স্বাধীনতা উত্তর জননেত্রী শেখ হাসিনার পিতা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানে ঢাকায় হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয়। পরে তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এমপিও ভুক্ত হোমিও কলেজে ৫০% সরকারি সুযোগ-সুবিধা সহ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মান উন্নয়ন এবং হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের মূল্যায়ন করেন। এখন বাংলাদেশে প্রায় ৬৩টি হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। বর্তমান সরকার একটি হোমিওপ্যাথি গবেষণাগার, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি।

মতবিনিময় সভার সভাপতি ডা. রূপম দেওয়ান তার সমাপনী বক্তব্য বলেন- কমিটি গঠন করে যে দায়িত্ব আমরা পেয়েছি তা প্রকৃতপক্ষে বাস্তবায়ন হতে হলে সকলকে একতাবদ্ধ হয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। অতীতে বহুবার উদ্যোক্তাগণ পদক্ষেপ নিলেও ঐক্যমতের অভাবে তা কার্যকর হয়নি। ফলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলাবাসী দীর্ঘদিন যাবত হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপালের অভাব ভোগ করছে। আমি আশাবাদী যে আমরা রাঙামাটিবাসীর স্বার্থে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।

আহ্বায়ক কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- নাসরিন ইসলাম, মো. নাছির উদ্দীন, মো. জামাল উদ্দীন, ডা. মুসফিকুর রহমান, ডা. অসীম ভট্টাচার্য্য, কানু দাশ গুপ্ত, আল আমিন সরকার, ডা. পঞ্চু দাশ গুপ্ত, ডা. মানিক্য কিশোর চাকমা, মো. নুরুল ইসলাম, ডা. বুদ্ধ চন্দ্র চাকমা, ডা. জ্ঞান জ্যোতি চাকমা।