রাঙামাটিতে ১০ উপজেলার ৬২৩ নতুন বাড়ির চাবি ভূমিহীন পরিবারে হস্তান্তর

342

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় ২য় পর্যায়ে রাঙামাটির ১০ উপজেলার ৬২৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও দৃষ্টিনন্দন নতুন বাড়ির চাবি হন্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা অনুযায়ী ভূমিহীনদের জন্য রাঙামাটিতে দুর্যোগসহনীয় এসব ঘর গত কয়েক মাসের মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রাঙামাটিতে এ সব কাগজপত্র গৃহহীনদের হাতে তুলে দেন দীপংকর তালুকদার এমপি।
রোববার (২০ জুন) সকালে সারাদেশে ন্যায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীনদের এই গৃহ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাঙামাটির কুমার সমিত রায় জিমনেশিয়ামে এ উপলক্ষে এক জমজমাট ও জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যশেষে গৃহ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণার পর পরই রাঙামাটি জিমনেসিয়াম এর অনুষ্টানে উপকারভোগীদের মাঝে ঘরের চাবি তুলে দেন জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি।

এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সাবেক মহিলা সাংসদ সদস্যা ফিরোজা বেগম চিনু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ, সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান রোমান, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলামসহ পদস্থ সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলায় ভুমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মান করে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ১৫৬টি, কাপ্তাই উপজেলায় ৩৫টি, রাজস্থলি উপজেলায় ১৭৭ টি, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৪৫টি, লংগদু উপজেলায় ৯১টি, নানিয়ারচর উপজেলায় ৩টি, জুরাছরি উপজেলায় ১০টি, বিলাইছড়িতে ৩৭টি এবং কাউখালীতে ৬৯টি গৃহ নির্মান করে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ সময় এমপি তার বক্তব্যে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশে কোন গৃহহীন মানুষ থাকবে না। মানুষের তিনটি মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান। অন্ন সমস্যার সমাধান বহু আগে হয়েছ। একসময় বাংলাদেশকে কেউ কেউ বলতো তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ, সেই বাংলাদেশ এখন উপচে পড়া খাদ্যে উদ্ধৃত্তের দেশ। দূর্যোগ দূর্বিপাকে আগে আমরা অন্য দেশ থেকে সাহায্য নিতাম, এখন আমরা বিভিন্ন দেশকে সাহায্য করি। নেপালের ভূমিকম্পে আমরা ৩০ হাজার মেট্টিক টন চাল সহায়তা দয়েছি। শ্রীলঙ্কা ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য দেশকেও আমরা সহায়তা দিয়েছি।

তিনি বলেন, একসময় পুরানো কাপড় বস্তাভরে এদেশে আসতো, সেই ধোলাই করা পুরনো কাপড় আমরা বিভিন্ন বাজার থেকে কিনে পরতাম। আর এখন আমাদের দেশে সেলাই করা কাপড় বিদেশে যায়, তারা সেই কাপড় পরে এখন তাদের সাহেবগিরী বজায় রাখে। এভাবে বস্ত্রের সমস্যার সমাধানও হয়েছে। এখন বাসস্থানের সমাধানও করছেন প্রধানমন্ত্রী।