রাঙামাটির গ্রামীণ সড়কগুলো উন্নয়নের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে

302

॥ আলমগীর মানিক ॥
রাঙামাটিতে এলজিইডি’র মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ৩৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন করেছেন খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি। এ সময় প্রকল্প বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এ জেলার দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিতে পর্যটন শহর রাঙামাটির অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোকে ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলতে ব্যাপকহারে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি।

মঙ্গলবার রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কসহ তবলছড়ি-ভেদভেদী সংযোগ সড়কে ব্রীজ নির্মাণ কাজসহ ৩৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এমপি। এ সময় এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পার্বত্য জেলা ব্যাপক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার অংশ হিসেবেই রাঙামাটির গ্রামীণ সড়কগুলো উন্নয়নের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার মানুষের যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙামাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু তালেব, রাঙামাটি পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ সোলায়মান চৌধুরী, সদর উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জহির উদ্দিন প্রামানিক, রাঙামাটি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাদল চন্দ্র দে, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ইউসুফ, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কিশোর চৌধুরী, ঠিকাদার জসিম উদ্দিন, ঠিকাদার মিশুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়ক দু’লেইনকরণ এবং ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তবলছড়ি-ভেদভেদী সংযোগ সড়কে ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে ব্রীজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সড়ক মেরামত ও ব্রীজ নির্মাণকাজ শেষ হলে রাঙামাটি শহরের সাথে কাপ্তাই ও ভেদভেদীর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন সেক্টরেও বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন হবে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।

এ সময় দীপংকর তালুকদার এমপি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক পরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করেন বলেই পাহাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, রাস্তা-ঘাট উন্নয়নসহ সরকারীর চাকুরী ও স্থানীয় চাকুরীতে পার্বত্যবাসীদের যৌক্তিক অংশগ্রহণ প্রভৃতি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন। আর এতে পাহাড়ে বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পার্বত্যাঞ্চলের জনগণের জীবনমান আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের ফলে দারিদ্র্যতা যেমন নিরসন হচ্ছে, তেমনি জনগণের আয় এবং জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমতল ও পাহাড়ের মাঝে কোন বৈষম্য রাখেনি। আর সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতা আর সরকরের আন্তরিকতায় গড়ে উঠবে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ।