রাঙামাটির পাবলিক হেলথ এলাকায় চলালের রাস্তা বন্ধ করা নিয়ে সৃষ্ট ঘটনাটি উস্কানিমূলক: গ্রেফতার হওয়া বাঙ্গালিদের মুক্তি ও ন্যয় বিচারের দাবী পিবিসিপি’র

321


স্টাফ রিপোর্ট- ১৭ মার্চ ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি (প্রেস বিজ্ঞপ্তি):  গত ১৫ মার্চ ২০১৭ বুধবার পাবলিক হেলথ এলাকায় হাটা চলার জন্য রাস্তার ব্যবহার নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষের ঘটনায় ৪জন নিরপরাধ বাঙ্গালীকে গ্রেফতারে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার আহ্বায়িকা বেগম নূর জাহান ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি মো: আলমগীর হোসেন,  মো: জাহাঙ্গাীর আলম সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহসভাপতি মো: হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহ আলম, ছাত্রনেতা মো; সাখাওয়াত হোসেন, কলেজ শাখার ছাত্রনেতা মো: নূরুল্লাহ্ শফি, মো: বকুল, মো: ফয়জুল্লাহ্’র পক্ষ হতে তিব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়েছে।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পাবলিক হেলথের পাশের ডুবোচর এলাকায় বর্তমানে পুরুষশূণ্য। এ ঘটনায় মিসেস মৈত্রি চাকমাসহ ঐ এলাকার পাহাড়ী ও পহাড়ী সশস্ত্র সংগঠন হতে হুমকির কারণে উক্ত এলাকায় আতংক বিরাজ করছে, এলাকাটি পুরুষশূণ্য হওয়ায় যে কোন সময় পহাড়ী সশস্ত্র সন্ত্রাসীধারা বড় ধরনের হামলার আশংখা করছে বাঙ্গালী পরিবারগুলো। ডুবোচর এলাকার পরিবারগুলোর হাটাচলার রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে বাধা দেয় পাহাড়ীরা, এনিয়ে গত এক সপ্তাহধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিগত সময়ে একবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক বসে কোন প্রকার সমাধান হয়নি।

পরেবর্তীতে থানায় একটি বৈঠক হলে সেখানে পাহাড়ী পরিবারগুলো ডুবোচর এলাকাবাসীর যাতায়াতের জন্য রাস্তা রাখবে বলে লিখিত দেয়, এবং পরবর্তীতে আবারো দেয়াল দেওয়ার কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে তাদের থানা থেকে একটি নোটিশ দিলে তারা তা গ্রহণ করেনি। গত বুধবার আবার স্থানীয়ভাবে বৈঠক বসে, কিন্তু উভয় পক্ষকে শান্তনা দিয়ে গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা পরে বৈঠক বসবে বলে চলে যান। তারা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর পাহাড়ী যুবক-যুবতীরা ডুবোচর এলাকার বাঙ্গালী নারীদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। তাতেই সংঘর্ষ বেধে যায়। পাবলিক হেলথ এর লোকজন মটরের পানি তোলার জন্য যে রাস্তাদিয়ে আসাযাওয়া করে ঐ রাস্তার উপর একটি গ্রিলের দরজা ছিল। সেই দরজা ভেঙ্গে নতুন গ্রিলের দরজা তৈরী করে, তাতে তালাদিয়ে বন্ধ করে রাখে পাহাড়ী পরিবারগুলো, যেন বাঙ্গালী পরিবারগুলো চলাচল করতে না পারে, এখানে চলাচলের করার জন্য পূর্বেই রাস্তা রাখার কথা ছিল। কিন্তু পাহাড়ীরা রাস্তা না রেখে ঐ রাস্তা বন্ধ করে পাকা দেওয়াল তুলে দেয়। এর প্রতিবাদ করলে, পাহাড়ীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ বাধে।

ডুবোচর এলাকাবাসীর উক্ত রাস্তাটি ছাড়া যাতায়তের জন্য আর কোন বিকল্প রাস্তা নেই। তাই পাহাড়ীরা অন্যায়ভাবে তাদের চলাচলের এই রাস্তাটি বন্ধ করে দিতে পারেনা। রাস্তাটি যারা বিভিন্ন অপকৌশলে বন্ধ করে দিতে পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে এই ঘঠনাটির জন্য তারাই মূলত প্রকৃত দোষী, আর সেই কারনেই এই ঘঠনার সূত্রপাত হয়েছে।

তাই আমরা পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার পক্ষ হতে জোর দাবী জানাচ্ছি ঘটনার মূল উস্কানি দাতা যেই বিষয়টির জন্য বুধবারের এই ঘটনাটি ঘটেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিরঅপরাধ বাঙ্গালী যারা সধারণ শ্রমিক ছিলো তারা ঐ এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলো তারা ঘটনার সাথে কোন ভাবেই জড়িত নয় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার দাবী জানাচ্ছি। পাহাড়ীরা অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে পাবলিক হেলথ ও ডুবোচর এলাকার সাধারণ লোকজনকে ঢালাও ভাবে মামলার আসামী করায় উক্ত এলাকার বাঙ্গালী পরিবারের পুরুষ সদস্যারা হয়রানী ও গ্রেফতারের আতংকে এলাকায় যেতে পারছেন না। এতে বাঙ্গালী পরিবারগুলোর খাবার সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

আমরা পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ আবারো উক্ত ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ঐ এলাকার বাঙ্গালীপুরুষদের হয়রানী বন্ধ করা ও গ্রেফতারকৃত দের মুক্তি দেওয়া এবং যেই বিষয়টি নিয়ে ঘঠনার সূত্রপাত চলাচলের রাস্তায় যারা দেওয়াল দিয়ে বন্ধ করে দিতে চায় তাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি ও ডুবোচর এলাকাবসী যাতায়াতের রাস্তাটি নির্বিঘেœ যাতায়াত করার স্বার্থে কোনভাবেই যাতে প্রতিবন্ধকতা সূষ্টি করা না হয় তার জোর দাবী জানাচ্ছি।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান, দৈনিক রাঙামাটি।