রাঙামাটির পৌর মেয়র আকবর হোসেনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পার্বত্য সচিব : কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভার পৌরসভার উপর ন্যস্ত করা হবে

518

akbor r hill

 
রাঙামাটি রিপোর্ট , ১৬ মার্চ ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি : রাঙামাটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভার পৌরসভার উপর ন্যস্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান। শুধু টার্মিনালই নয় জল মহালও পৌরসভাকে দেওয়া যেতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কি ধরণের আইনি বাধ্য বাধকতা আছে তা দেখে তার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এনডিসি বুধবার রাঙামাটি পাবলিক কলেজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন। উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড তিন পার্বত্য জেলায় নানা ধরণের উন্নয়ন কাজ করে থাকে। ‘এমনি উন্নয়নের অংশ হিসেবেই রাঙামাটিতে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। এ ধরণের টার্মিনালগুলো সাধারণভাবে পৌরসভার দায়িত্বেই থাকার কথা’ বলে মন্তব্য করে সচিব বলেন তবে ভূমির মালিকানাসহ আইনগত কোনো জটিলতা আছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে রাঙামাটি পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়রের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাঙামাটি পাবলিক কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন দাতা সদস্য আকবর হোসেন চৌধুরী রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় কলেজের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলাপ্রশাসক কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি যুগ্ম সচিব মোঃ মোস্তফা কামাল। অনষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ তাছাদ্দিক হোসেন কবির। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজে নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাঃ একে দেওয়ান ও কলেজের শিক্ষক মুকুল কান্তি ত্রিপুরা।

উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে রাঙামাটিতে একটি পরিদর্শন টাওয়ার নির্মাণ করে দেওয়ারও ঘোষণা দেন। তিনি মেয়রকে বলেন আপনারা একটি যুৎসই স্থান নির্ধারণ করে আমাদের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠালে আমরা তা অনুমোদন করে দেবো। অনুষ্ঠানে প্রদান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য সচিব আরো বলেন, পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি পৌরসভাকে অর্থ বরাদ্দ প্রদানের কোনো নিয়ম নেই। তবে মন্ত্রণালয় হতে জেলা পরিষদ, প্রশাসন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে যে বরাদ্দ প্রদান করা হয়, উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সেখান থেকে পৌর এলাকার উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। নব নির্বাচিত মেয়রের টার্মিনাল, জলমহাল এবং উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে উত্থাপর করা প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পার্বত্য সচিব এসব মন্তব্য করেন। তিনি পাবলিক কলেজের ভবন নির্মাণের কাজে ধীরগতির জন্য তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দুঃখিত যে কলেজ ভবনটি নির্মাণে সংশিষ্টরা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনার কোনো সমস্যা থাকলে তা আমাদের সাথে আরোচনা করুন। প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ম মোতাবেকই প্রদান করা হবে, এতে কিছুটা সময় লাগলেও সম্পূর্ণ বরাদ্দই একসময় পরিশোধ করা হবে। তবে কাজটি শেষ করার জন্য আমরা আন্তরিকতা দেখতে চাই। তিনি এ সময় কলেজের ক্রীড়া সংস্কৃতির উন্নয়নে বরাদ্দ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, শুধু এই কলেজ নয়, আমরা চাই পার্বত্য সংস্কৃতির নান্দনিক প্রতিচ্ছবি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়–ক। তাই ক্রীড়া সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোনো প্রতিভা পাওয়া গেলে আমরা তার বিকাশে সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা করবো। তিনি উল্লেখ করেন, রাঙামাটি পাবলিক কলেজ ও এর ভবন একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিশ্রুত বিষয়। বর্তমান পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী, পার্বত্য সচিব এবং উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যানের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির ফসল এই কলেজ। তাই এই কলেজকে এগিয়ে নিতেই হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক জেলাপ্রশাসক মোস্তফা কামাল বলেন, শিক্ষায় উন্নতি ঘটাতে না পারলে পাহাড়ের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা যাবে না। তাই শিক্ষার উন্নয়নে আমাদেরকে সর্বাত্মকভাবে এবং সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন আমরা বিশ্বাস করি সমাজ কখনও ব্যর্থ হয় না. সমাজ এগিয়ে যায় ব্যক্তির হাত ধরে, অনেক সময় কোনো একজন ব্যক্তি ব্যর্থ হয়। কিন্তু তার ব্যর্থতাকে পিছনে ফেলে সমাজ এগিয়ে যায় আপন গতিতে। রাঙামাটি পাবলিক কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় যারা সহযোগীতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন তারা এই সহযোগীতার ধারা অব্যাহত না রাখলে সমাজেরই ক্ষতি হবে, সার্বিক উন্নয়নই দ্বিধাগ্রস্থ হবে।

জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন সভাপতির বক্তব্যে কলেজের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, এখানে পড়ালেখা করে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। তাদের দিকে তাকিয়ে আমাদের সকলকেই সহযোগীতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। কলেজের আয় তেমন নেই কিন্তু ব্যয় তো থেমে নেই। বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের পরিধি বাড়ছে। তাই সকলের সহযোগীতা না থাকলে কলেজটি কাঙ্খীত গতিতে এগিয়ে নেও কঠিন হবে।

পোস্ট করেনন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান