রাঙামাটির বাজারগুলোতেও বোতল সয়াবিনের কৃত্রিম সঙ্কট

33

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

সারাদেশে একযোগে সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারনে সরকারি সিদ্ধান্ত জারির পর হতে গত তিন দিন ধরে রাঙামাটির হাটবাজারগুলো থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে গেছে। স্থানীয় মুদি দোকানীদের একটি সিন্ডিকেট চক্র অভিন্ন সিদ্ধান্তে নিজেদের গুদামঘর, বসতঘর কিংবা দোকানের অভ্যন্তরে বোতলজাত সয়াবিন তেলগুলো সরিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তা সাধারণ। শহরের বনরূপা, তবলছড়ি ও রিজার্ভ বাজারের মুদি দোকানগুলোতে সয়াবিন কিনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

অভিযোগ উঠেছে, বোতলজাত সয়াবিন তেল ভেঙে কেজিদরে বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। আবার কিছু দোকানে প্যাকেটজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ২০ থেকে ৩৮ টাকা মূল্য বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিন্ম আয়ের ক্রেতারা।

গত দুইদিন শহরের বাজারগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় ভোজ্য তেলের দোকানগুলোতে ক্রেতারা ভিড় করছেন বোতলজাত সয়াবিন তেল কেনার জন্য। কিন্তু দোকানিদের একটাই জবাব, ডিলাররা তেল সরাবরাহ বন্ধ রাখায় খুচরা দোকানদাররা সয়াবিন তেল সংগ্রহ করতে পারছেনা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে রিজার্ভ বাজার, বনরূপা ও তবলছড়ি বাজারের এক শ্রেণীর ব্যবসায়ি তাদের দোকানে পূর্বের মূল্যে ক্রয় করা সয়াবিন তেল কয়েকদিনের জন্য অন্যত্র সরিয়ে রেখে দোকান তেলশূন্য রাখছেন। যাতে করে ক্রেতারা ক্ষুব্ধ না হয়।

এদিকে, অসাধু ব্যবসায়িদের কারনে রাঙামাটির বাজারগুলোতে সয়াবিন তেল উধাও হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র ৭’শ গ্রামের বোতলে এক লিটারের স্টিকার লাগিয়ে বোতল সয়াবিন তেল বাজারজাত করেছে। যেগুলো দোকানিরা ১৮০ থেকে ১৯৫ টাকা ধরে বিক্রি করছে। নিন্ম আয়ের ক্রেতারা দোকানদারদের এই কারসাজি ধরতে নাপেরে অবাধে কিনছে নকল ও প্রতি লিটারে অন্তত ২ থেকে ২৫০শ গ্রাম কম তেল ভর্তি বোতলগুলো। শহরের সমতাঘাট, রিজার্ভ বাজার, শিমুলতলী, ভেদভেদী বাজার, আসামবস্তি বাজারের স্থানীয় নিন্ম ও প্রার্ন্তিক শ্রেণীর ক্রেতাদের প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরনের ঠকবাজি করা হলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।

পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু বক্কর ছিদ্দিক সুমন নামের একজন জানালেন, আমি দুই লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেল কিনতে রিজার্ভ বাজারে দক্ষিণ থেকে উত্তরের তরকারি বাজার পর্যন্ত গিয়ে শুধুমাত্র হোসাইন ট্রেডার্স নামক একটি দোকান থেকে দুই লিটার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছি। দোকানদার নিজেই আমাকে বলেছেন যতক্ষণ আছে আমি বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পূর্বের রেটে বিক্রি করে যাবো। নতুন রেটের নতুন সয়াবিন তেল আসলে সেগুলো নতুন মূল্যে বিক্রি করবো।

এদিকে রিজার্ভ বাজারের তরকারি বাজারের মুদি ব্যবসায়ি বিধান চন্দ্র জানিয়েছেন, ডিলাররা তেল সরবরাহ না করলে আমরা কিভাবে বিক্রি করবো। সরকারের উচিত ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

হঠাৎ করেই রাঙামাটির বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যাওয়া এবং অসাধু ব্যবসায়ি কর্তৃক কম ওজনের সয়াবিন তেল বোতলজাত করে বিক্রি করার বিষয়টি স্থানীয় ক্রেতাদের কাছ থেকে অবগত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের রাঙামাটি জেলার দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক রানা দেবনাথ। তিনি জানান, আমরা বিভিন্ন ভাবে এই অভিযোগগুলো জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আমি করনীয় নির্ধারণ করেছি। শীঘ্রই আমরা অভিযানে বের হবো। তেল মজুদ, ্ওজনে কম দেওয়া ও অতিরিক্ত দামে সয়াবিন তেল বিক্রির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অসাধু ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে রাঙামাটির সচেতন মহলকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের নিকট তথ্য প্রদানের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন প্রয়োজনে আমরা তথ্য দাতার নাম-ঠিকানা সম্পূর্ন গোপন রাখবো।