রাঙামাটির বাজারে রোহিঙ্গা ত্রাণ সামগ্রী বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্টের দন্ড

351

॥ আলমগীর মানিক ॥

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন পরিচালিত মোবাইল কোর্ট রোহিঙ্গাদের সাহার্থে আসা ত্রাণ বিক্রয়ের সময় এক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে ধরে তাৎক্ষণিক শাস্তি দিয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পল্লব হোম দাশ এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে শহরের তবলছড়ি বাজারের কাজল হার্ডওয়্যার থেকে বেশ কয়েকটি ত্রাণের তেরপাল/ত্রিপল উদ্ধার করা হয়। এসময় দোকানদারকে প্রাথমিকভাবে আর্থিক দন্ডাদেশ দিয়ে ভবিষ্যতের জন্যে সতর্ক করে দেয় মোবাইল কোর্ট।

সূত্র জানায়, মিয়ানমার সরকার কর্তৃক নিপীড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সহায়তায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত ত্রাণের সামগ্রী শরণার্থী শিবির ছাড়িয়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে রাঙামাটির হাট বাজারগুলোতে।

দূর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠিদের মাঝে বিতরণকৃত বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী নানাভাবে হাতিয়ে নিয়ে এসে রাঙামাটির বাজারে বিক্রি করছে একটি বিশেষ চক্র। কক্সবাজার, উখিয়াসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে বসবাসকারি লোকজনের একটি বিশেষ চক্র বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই রাঙামাটিতে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে স্থানীয় দোকানদারদের কাছে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সামগ্রী বিক্রি করছে দেদারসে।

খোঁজনিয়ে জানাগেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্ধকৃত এসব ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে বিদেশী সংস্থা ইউএনএইসসিআর  কর্তৃক প্রদত্ত তের্পাল/ত্রিপল সেখানকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গাদের নাদিয়ে একটি চক্র রাঙামাটিসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল পরিমান অর্থ। কিছু কিছু রোহিঙ্গা নাগরিকের সহযোগিতায় এমন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে উখিয়ার একটি বিশেষ চক্র। এই চক্রের সদস্যরা ইতিমধ্যেই রাঙামাটিতে এসে শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলেও অবস্থান করেছে। এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যপেয়ে রাঙামাটির হাট-বাজারগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্তগ্রহণ করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

রোববার রাঙামাটি শহরে পরিচালিত অভিযানে রাঙামাটির আবাসিক হোটেলগুলোতে ত্রাণ পাচারকারি চক্রের সদস্যদের খোঁজে শহরের রিজার্ভ বাজারের হোটেল আল-হেলালে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় হোটেলটির রেজিষ্ট্রার খাতা তলব করে সেটির মাঝে জুন মাসের ২৮ তারিখে হোটেলটিতে উখিয়া থেকে বেশ কয়েকজন লোকের আগমন পরবর্তী অবস্থান করার তথ্যপান মোবাইল কোর্ট পরিচালক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পল্লব হোম দাশ।

এসময় তিনি সেসব তথ্য সংগ্রহ করে হোটেলের ম্যানেজারকে মৌখিকভাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই কক্সবাজার, উখিয়া, কুতুপালংসহ আশে-পাশের এলাকাগুলোর কোনো বাসিন্দা নিজস্ব ব্যবহার্য জিনিস ছাড়াও যদি অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে হোটেলে অবস্থান করে, তাহলে সাথে সাথেই নিকটস্থ থানায় নইলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এসময় তিনি বলেন, দূর্গত শরণার্থীদের জন্যে বিদেশী সাহায্য সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে। মূল্যবান এসব জিনিসপত্র মূল সাহায্যপ্রার্থীরা না পাওয়ার ফলে বর্তমান দূর্গতদিনে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এমন অমানবিক কাজ দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্গন। এই ধরনের কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বদ্ধ পরিকর।

এই ধরনের কোনো জিনিসপত্র পাইকারি বা খুচরা দামে কোনো ব্যবসায়ি বা ক্রেতা সাধারণকে ক্রয় নাকরতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের কাজে সাথে জড়িতদের ব্যাপারে আমাদের তথ্যদিয়ে সহযোগিতা করুন। প্রয়োজনে তথ্যপ্রদানকারির নাম-ঠিকানা সম্পূর্ন গোপন রাখবে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বিদেশী দাতা কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী বর্তমান বাজারদরের অর্ধেকেরও কম মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে একটি চক্র।

ফরিয়া ব্যবসায়িদের মাধ্যমে এই চক্রটি স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে এসবপণ্য বিক্রি করায় বিপাকে পড়ছে স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসায়িরা। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ এই ধরনের মোবাইল কোর্টের অভিযান আরো জোরদারের দাবিও জানিয়েছেন ব্যবসায়ি নেতৃবৃন্দ।