রাঙামাটি জেলা কৃষক লীগের উদ্যোগে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

180

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

পাহাড়ে আওয়ামী লীগ দলকে নিশ্চিহ্ন করতে এখনো নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংগঠনগুলো চায় না পাহাড়ে কেউ আওয়ামীলীগ করুক। তাই তারা একের পর এক আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। তাই পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হলে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের প্রতি আবারো জোর তৎপরতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

রোববার (২৪ জুলাই) সকালে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে রাঙামাটি জেলা কৃষকলীগের বর্ধিত সভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙামাটি জেলা কৃষকলীগের সভাপতি জাহিদ আকতারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর চাকমার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আকবর আলী চৌধুরী, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. উম্মে হাবিবা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক আরমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শান্তনা চাকমা, জাতীয় পরিষদ সদস্য নিশীথ বরন তালুকদার, বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য একে এম জাহাঙ্গীর, কৃষকলীগ জাতীয় কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন বাবুল প্রমূখ। এছাড়া বর্ধিত সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন কৃষকলীগের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বর্ধিত সভায় দীপংকর তালুকদার এমপি আরো বলেন, পাহাড়ে প্রথম দিকে আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের কাউকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়নি। পাহাড়ে আওয়ামীলীগ বিরোধী শক্তি চায় না কেউ আওয়ামীলীগ করুক। তারা চায় পাহাড়ে থাকতে হলে চাঁদা দিতে হবে, না দিলে সমস্যা হবে। তখন সবাই চুপচাপ চাঁদা দিয়েছে। কিন্তু এখন গ্রামের প্রতিটি মানুষ বলছে আমরা কেন দিবো চাঁদা? আমরা চাঁদা দিবো না। এই সাহসটা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আমরা আন্দোলন করছি। আর আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি এইসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তিনি আরো বলেন, স্বাধানীতা পরবর্তি সময়ে যুদ্ধবিধস্থ এই দেশকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের কৃষকদের উপর ভরসা করেছিলেন এবং বলেছিলেন এদেশের কৃষকরাই দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কৃষকলীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এবং এর অন্যতম সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বের কারনে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে এবং সারাদেশে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার আহবান জানান তিনি।

এসময় বর্ধিত সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আন্দোলন করে গেলেও এখনো পার্বত্য অঞ্চল থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলা থেকে কোনো দলীয় প্রোগ্রামে আসতে হলে বিভিন্ন ভাবে নিজেকে লুকিয়ে আসতে হয়। অনেক সময় জরুরী কাজে জেলা শহরে আসতে হলেও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয়ে লুঙ্গী পড়ে আসতে হয়। প্রতিনিয়ত সন্ত্রীদের ভয়ে বসবাস করতে হয় পাহাড়ের মানুষদের। বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষ পিছিয়ে পড়ার একমাত্র কারণ এখানকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দমন করা না গেলে পার্বত্য এলাকার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।

এর আগে শুরুতে বেলুন উড়ানো পর পর জাতীয় সঙ্গীত সহকারে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।