রাঙ্গামাটি জজ কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে ২ হাজার মামলা : ২০১৫ সালে নিষ্পত্তি হয়েছে দেড় হাজার

223

Ad

স্টাফ রিপোর্টার, ১২ জানুয়ারি ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি : রাঙ্গামাটি জজ কোর্টে ২০১৫ সালে প্রায় দেড় হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানিয়েছে। যোগাযোগ দুর্গমতা ও সাক্ষীদের অনুপস্থিতিসহ নানা সংকটে বেশ কিছু মামলার নিস্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতায় পরেছে বলে জানান মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি জজ কোর্টের বিচারকদের আবাসনসহ নানা সংকট বিরাজমান। আদালত ভবনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এজলাস, বিচারিক ও দাফতরিক কাজেও ব্যাহত সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নানা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন মামলা সংশ্লিষ্টরা। ২০০৮ সালের ১জুন রাঙ্গামাটি জেলায় জজ ও দায়রা জজ আদালতের কার্যক্রম চালু হলেও এ পয়ন্ত অবকাঠামোগত নিজস্ব আদালত ভবন নির্মিত না হওয়ায় বিচারিক কাজে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে বিচারকদের আবাসন সংকট। অন্যদিকে নানা সংকটের কারণে ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থী লোকজন। অনেক মামলার নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানান মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

এদিকে আদালত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাঙ্গামাটি জজ আদালতে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৬৪। ২০১৫ সালে দায়ের হয় আরও ১ হাজার ৩৩৩টি মামলা। এসব মামলার মধ্যে ২০১৫ সালে নিস্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৫৭টি। বর্তমানে এ কোর্টে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ১ হাজার ৮৪০টি।

রাঙ্গামাটি জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাস্ট্রিট মোহাম্মদ সামসউদ্দীন খালেদ স্বাক্ষরিত সমন্বিত বাৎসরিক ফৌজদারি মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে ফৌজদারি আপীল মামলা নিস্পত্তি হয়েছে ২৬টি, বিচারাধীন আছে ৩৩টি, সিআর মামলা নিস্পত্তি হয়েছে ৫২৭টি, বিচারাধীন আছে ৫৮৬টি, জিআর মামলার নিস্পত্তি হয়েছে ৫৪১টি, বিচারাধীন আছে ৬৩৫টি, নন জিআর মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭৮টি, বিচারাধীন আছে ৭৮টি, মিস কেস নিস্পত্তি হয়েছে ৬৩টি, বিচারাধীন আছে ১৭৫টি, বন মামলা নিস্পত্তি হয়েছে ১১৯টি, বিচারাধীন আছে ৩৩১টি এবং দ্রুত বিচার মামলা নিস্পত্তি হয়েছে ৩টি, বিচারাধীন আছে ২টি।

এদিকে আদালতে কর্মরত আইনজীবীরা জানান, রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নানা সংকটের কারণে অনেকগুলো বিচারাধীন মামলার নিস্পত্তিতে বিলম্ব ঘটছে। শুনানিতে মামলার আবেদনকারী ও সাক্ষী হাজির না থাকা বিলম্বের মূল কারণ। সরকারি পিপি এডভোকেট রফিক আহমদ বলেন, শুনানিতে সাক্ষীদের অনুপস্থিতি বিচারাধীন মামলার নিস্পত্তিতে বিলম্ব ঘটে। সাক্ষীরা থাকেন অনেক দূর-দূরান্তে। অনেক সাক্ষীকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এছাড়া পকেটের টাকা খরচ করে অনেকের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসার সামর্থ্য থাকে না। এছাড়া কিছু কিছু মামলায় উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মিমাংসা হয়। ফলে মামলায় হাজিরা দিতে ওই মামলাগুলোর বাদী সাক্ষীরা আর আসেন না। কিন্তু সেগুলো আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় ঝুলে থাকে।

আইনি সহায়তাকারী সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যাইড অ্যান্ড ব্লাস্টের রাঙ্গামাটি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী এডভোকেট জুয়েল দেওয়ান বলেন, ২০০৮ সালে রাঙ্গামাটিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্থাপনের পর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা বেশি ঝুলে রয়েছে। জেলা জজকে একাধারে নারী-শিশু নির্যাতন দমন, দুদক, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, মানবপাচার রোধ বিশেষ আইন, তথ্য ও প্রযুক্তি আইনসহ একাধিক আদালতের অনেকগুলো মামলা পরিচালনা করতে হয়। ফলে একজন বিচারকের পক্ষে এতগুলো মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে নিস্পত্তির বিলম্ব ঘটে। তাই এ জেলায় বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারক পদায়ন জরুরি।

সম্পাদনা- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান।  সূত্র- অন্য মিডিয়া, ১২ জানুয়ারি ২০১৬