রোহিঙ্গাদের কেউ যদি সহায়তা করতে চায় তা পৌঁছে দেবে প্রশাসন

552

॥ কক্সবাজার প্রতিনিধি ॥

আশ্রয়হীন অসহায় রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের জনগণের মানবিক সহানুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তাদের সহায়তার জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। সিদ্ধান্তানুযায়ী মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করতে চায় তা পৌঁছে দেবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

অসহায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহযোগিতা করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এগিয়ে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করায় প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, কেউ ইচ্ছা করলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থ ও ত্রাণ দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা করতে পারেন। আগ্রহী ব্যক্তিরা সোনালী ব্যাংকের কক্সবাজার শাখার সি/এ: ৩৩০২৪৬২৫ নম্বরে অর্থ সহায়তা পাঠাতে পারেন। অথবা

অসহায় রোহিঙ্গাদের যারা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে চান তারা কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীন দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন। এই শাখার প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর হলো- ০৩৪১-৬৩২০০। অথবা ০৩৪১-৬৩২৬৩ নম্বরে ফ্যাক্সের মাধ্যমেও যোগাযোগ করা যাবে। সহায়তা পাঠাতে খোলা বিশেষ মেইল(dccoxsbazar@mopa.gov.bd) ‘ডিসিকক্সবাজার এট মোপা ডট গভ ডট বিডি’ ইমেইল ঠিকানায়ও যোগাযোগ করতে পারেন।

জানা গেছে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিসরে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অনেকেই রোহিঙ্গাদের জন্য নগদ অর্থ, খাবার, পোশাক ও ওষুধ সংগ্রহ করছেন। এসব সহায়তা সুশৃঙ্খলভাবে রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মতে, মিয়ানমার সেনাদের বর্বরতায় গত ২৫ আগস্টের পর থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছাড়ছে। আর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে আরও লাখো রোহিঙ্গা।

এদিকে মিয়ানমার থেকে আসা এ বিপুল পরিমাণ শরণার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। তাদের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে সমন্বিতভাবে এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে অসহায় রোহিঙ্গাদের ব্যক্তিগত সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থ ও ত্রাণ দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা করতে পারেন।